পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে সংগঠনের নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে সংগঠনের এক কর্মীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ইমরান হোসেনকে ‘সংগঠনের ভাবমূর্তি নষ্ট হয় এমন কার্যক্রমে লিপ্ত আছে প্রমাণের’ প্রেক্ষিতে বহিষ্কার করেছে ‘প্রয়াস’ নামের সামাজিক সংগঠনটি।
বহিষ্কৃত ইমরান হোসেন, স্থানীয় সামাজিক সংগঠন ‘প্রয়াস’র কার্যকরী কমিটির সদস্য ছাড়াও ‘বিডিক্লিন, রাঙামাটি’ নামক আরও একটি সংগঠনের সদস্য হিসেবে জড়িত রয়েছে। সে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিরও যুব সদস্য। ইমরান হোসেন রাঙামাটি সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র।
সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক সংগঠন প্রয়াস ও বিডি ক্লিন রাঙামাটির সদস্য ইমরান হোসেন কয়েকমাস থেকে রাঙামাটি শহরের শরিয়তপুর এলাকার এক নারীর কাছ থেকে ‘গরিব শিশুদের জন্য খাবার আয়োজন’ করার কথা বলে ৫০০ টাকা নেয়। পরবর্তীতে এ বিষয়ে ওই নারী প্রোগ্রামের বিষয়ে জানতে চাইলে ইমরান হোসেন পূর্বের একটি প্রোগ্রামের ছবি পাঠান। ভুক্তভোগী নারী খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন তাকে পাঠানো ছবিটি গেল ইদুল ফিতর পরবর্তীতে একটি প্রোগামের ছবি। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে গত শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ওই নারী একটি পোস্টও করেন।
এদিকে ভুক্তভোগী নারীর ফেসবুকের স্ট্যাটাসের ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অনেকেই। স্বপ্ন যাত্রী ফাউন্ডেশনের সাধারণ আহমেদ ইশতিয়াক আজাদ ফেসবুকে লিখেন, ‘‘একের ধারা অন্যদের প্রভাব পড়ছে, আমি নিজেও হয়তো আরো অনেকেই এদের কারণে প্রশ্নবিদ্ধ!!”
একই পোস্টে শ্রাবন্য শ্রেয়া একজন মন্তব্য করেন, ‘‘ভাইয়া আমার কাছেও তো চেয়েছিল গরীবদের একবেলা খাওয়াবে বলে। বাট আমি দিই নাই।”
ত্রিচা চাকমা নামের একজন লিখেছেন, ‘‘এই কি দেখলাম! ছেলেটা সেইম কাজ দেখিয়ে আমাকে নক দিয়েছিলো, ব্যস্ততার কারণে আমি রেসপন্স করতে পারিনি বাট এমন কিছু দেখতে হবে চিন্তায় করিনি।’’
আরিফুর রহমান নামের আরেকজন লিখেন, ‘‘কিছু সামাজিক সংগঠন কর্মী নেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত বেকগ্রাউন দেখে না, ব্যস বেশী মানুষ যোগাড় করতে পারলেই আমরাই বড় সংগঠন।’’

সামাজিক সংগঠন প্রয়াস’র প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক অয়ন চক্রবর্তী বলেন, ‘ইমরান প্রয়াসের পুরোনো একটি প্রোগ্রামের ছবি ব্যবহার করে সুকৌশলে এই অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে।’
প্রয়াস’র পুরোনো প্রোগ্রামের ছবির ব্যবহার করে টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ স্বীকার করে প্রয়াস সভাপতি সাজিয়া জাহান চৌধুরী সানজি বলেন, ‘আমরা বৃহস্পতিবার বিষয়টা জেনেছি। ইমরান আমাদের না জানিয়ে তার ব্যক্তিগত স্বার্থে এমন ঘৃণ্য কাজ করেছে। অভিযোগ উঠার পরপরই আমরা তাকে তাৎক্ষণিক সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেছি।’
আরেকটি সামাজিক সংগঠন বিডি ক্লিন, রাঙামাটি জেলার সমন্বয়ক মাসুদ রানা জানান, ‘ইমরান আমাদের একজন সক্রিয় কর্মী। তার ব্যাপারে কোনো অভিযোগ আমরা শুনিনি।’
অভিযোগ প্রসঙ্গে ইমরান হোসেন প্রথমে ঘটনার কথা প্রথমে স্বীকার করলেও পরে কথার সুর পাল্টে তিনি দাবি করেন, ‘কোনো সংগঠনের হয়ে টাকা চাওয়া হয়নি। আমরা বন্ধুরা মিলে আয়োজনটি করার প্ল্যান করেছিলাম।’ বন্ধুদের নিয়ে আয়োজন করলে সংগঠন থেকে কেন বহিষ্কৃত হলেন? এমন প্রশ্নের জবাবে অবশ্য নিরোত্তর ছিলেন ইমরান।
এ ঘটনায় রাঙামাটিস্থ ১৩টি সামাজিক সংগঠনের জোট, ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামাজিক সংগঠন ঐক্য ফোরামের’ সমন্বয়ক নুর তালুকদার মুন্না বলেন, ‘অভিযুক্ত ইমরান আমাদের ঐক্য ফোরামের নিবন্ধিত তিনটি সংগঠনের সদস্য। মানবিকতার সুযোগ নিয়ে সে যেটা করতে চেয়েছিল আমরা তা প্রতিহত করে দিয়েছি। ইতিমধ্যেই প্রয়াসও তাকে বহিষ্কার করেছে। অন্য সংগঠন গুলোর সাথেও আমাদের কথা চলছে। তারাও শীঘ্রই তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’
ভবিষ্যতে অনলাইন কালেকশনের বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করতে ঐক্য ফোরামভুক্ত সংগঠনগুলোকে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার মধ্যে নিয়ে আনার পরিকল্পনা জানিয়ে মি. মুন্না বলেন, ‘বিশেষ করে আমাদের নিবন্ধিত সংগঠনগুলোকে একটা নীতিমালার মধ্যে নিয়ে আনা গেলে এ ধরনের অরাজকতা বন্ধ করা সম্ভব হবে।’
এসব প্রসঙ্গে বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী ও রাঙামাটির বিশিষ্টজন মো. ইব্রাহিম বলেন, ‘ইমরান নামের একটি ছেলে প্রোগ্রামের জন্য টাকা চেয়েছে। আমি সামান্য কিছু টাকা দিয়েছি। কিন্তু সে কাজ করেছে কিনা জানি না। সামাজিক সংগঠন মূলত সমাজের মানুষের কল্যাণের জন্যই কাজ করে থাকে। কিন্তু এটাও মনে রাখতে হবে, সংগঠনের নাম করে যেনো টাকা পয়সা আত্মসাতের ঘটনা না ঘটে।
তিনি বলেন, যেকোনো ব্যক্তিই যদি সংগঠনের প্রোগ্রামের নামে অর্থ আত্মসাৎ করে থাকে; তাহলে আমি বলব, এটা বড় অপরাধ। যেখানে মানুষের পাশে দাঁড়াতেই সংগঠন, সেখানে মানুষ কেন তাদের কর্মকান্ডে বিভ্রান্ত হবে?’
