সুহৃদ সুপান্থ
রাঙামাটির লংগদু উপজেলার তিন ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে ‘শিবির’ সম্পৃক্ততার দায়ে সাংগঠনিক শৃংখলা ভঙ্গের অভিযোগে ‘অব্যাহতি’ দিয়েছে উপজেলা ছাত্রলীগ। ‘অব্যাহতি’প্রাপ্তরা হলেন-লংগদু মডেল কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক ফারহাদ আল ফারদীন,সাবেক উপশিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক মেহেদী হাসান এবং উপজেলা ছাত্রলীগের কর্মী নুরুল ইসলাম।
সোমবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রাঙামাটির লংগদু উপজেলা ছাত্রলীগ বিষয়টি জানিয়েছে।
উপজেলা ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক রোকন উদ্দিন সাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ লংগদু উপজেলা কমিটির সভাপতি ও সম্পাদকের নির্দেশক্রমে দলীয় শৃংখলা ভঙ্গ এবং জামায়াত-শিবিরের সাথে সম্পৃক্ততা থাকায় এই তিনজনেক লংগদু উপজেলা ছাত্রলীগের সকল প্রকার কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেয়া হলো এবং তাদের কোন কার্যক্রমের দায়ভার লংগদু উপজেলা ছাত্রলীগ নিবেনা।’
লংগদু উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আল মাহমুদ জানিয়েছেন, জামায়াত-শিবিরের সাথে সম্পৃক্ততার বিষয়ে তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকায় উপজেলা আওয়ামীলীগের পরামর্শের ভিত্তিতে এই তিনজনকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। বিষয়টি জেলা কমিটিকেও লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে।’
এদিকে এই সিদ্ধান্তের পর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ নেতা সিরাজুল ইসলাম ঝান্টু সোশ্যাল মিডিয়ায় উপজেলা ছাত্রলীগকে ধন্যবাদ জানিয়ে লিখেছেন-‘ এতো দিন পরে টের পাওয়া জন্য ধন্য। তবে এধরণের আরও যারা আছে তাদেকেও খুঁজে বের করা জরুরি হয়ে পড়েছে।’
প্রসঙ্গত,লংগদু উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সম্প্রতি উপজেলা আওয়ামীলীগের কমিটিতে দপ্তর সম্পাদক হিসেবে সম্পৃক্ত হওয়ার অব্যাহতি নিয়েছেন এবং সাধারন সম্পাদক ব্যবসায়িক ব্যস্ততার কারণে বেশিরভাগ সময়ই উপজেলায় থাকেন না। ফলে এই দুই শীর্ষ পদধারীর অনুপস্থিতিতে এই উপজেলায় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম চলছে অনেকটা অভিভাবকহীনভাবেই। উপজেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে সম্মেলন ও নতুন কমিটির দাবি জানিয়ে আসলেও ‘অজ্ঞাত’ কারণে সেটি হচ্ছেনা।
এদিকে এই ঘটনাসহ গত একমাসে হেফাজত ও শিবিরের সাথে সম্পৃক্ততার চারটি পৃথক ঘটনায় বহিষ্কৃত হলেন মোট ৫ ছাত্রলীগ নেতা ও ১ যুবলীগ নেতা।
