আরমান খান, লংগদু ॥
স্কুল পড়ুয়া ১৪/১৫ বছর বয়সের শিক্ষার্থীদের এখন বয়সন্ধিকাল। এ সময় শিশু কিশোরদের মানসিক ও শারিরীক নানা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। বয়সন্ধির এই সময়ে শিশুদের মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে পরিবার, শিক্ষক ও সহপাঠিদের। সঠিক নির্দেশনা ও পরামর্শের অভাবে আমাদের শিশুরা সামাজিক নানা অপরাধের পাশাপাশি মানসিকভাবে হীনমন্যতায় ভোগে। শিশু কিশোরদের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সঠিক পরামর্শ ও সহযোগিতার জন্য লংগদু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে।
ওসি আরিফুল আমিন উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে দফায় দফায় মুক্ত আলোচনার আয়োজন করছেন। শিক্ষার্থীদের নানা সমস্যার কথা শুনছেন তিনি। পাশাপাশি সেই সকল সমস্যা হতে উত্তোরণের পথ দেখিয়ে দিচ্ছেন। ওসির এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে লংগদু উপজেলার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।
রবিবার সকালে উপজেলার স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রাবতো মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীর নিয়ে দুটি সেশনে অংশ নেন ওসি আরিফুল আমিন। এ সময় শিক্ষার্থীদের তিনি বলেন, ‘তোমদের বিবেকের কাছে যে কাজটা খারাপ বা অন্যায় মনে হবে সেটাই অপরাধ। তোমরা এমন কোনো কাজের সাথে যুক্ত হবে না যা তোমাদেরকে অপরাধী করে।’
ওসি আরো বলেন, ইদানিং শিশু কিশোররা স্মার্ট ফোনে ফ্রী ফায়ার নামের গেমে আসক্ত হয়ে পড়ছে। এতে করে শিশুরা এক ধরেনর উন্মাদনায় মেতে থাকছে। যা তাদের স্বাভাবিক বিকাশের পথকে বাধাগ্রস্ত করছে। শিশুরা নানা অপরাধের সাথে যুক্ত হয়ে পড়ছে। শিশুদের এই বিপথগামী হওয়ার পথ থেকে ফেরাতে পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অনেক বেশি। তাদের মানসিক বিকাশে শিক্ষকদের পরামর্শ ও সহযোগীতাও খুব জরুরি।
ইভটিজিং, বাল্য বিবাহ, মাদক ও ইন্টারনেট আসক্তি থেকে শিশু কিশোরদের রক্ষা করতে নানা পরামর্শ ও সহযোগীর কথা বলেন ওসি। এ সময় রাবেতা মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নরুল করিম, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও সাংবাদিক এখলাস মিঞা খান, পুলিশ কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন, মোহাব্বত হোসেনসহ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষিকা উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে রাবেতা মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল করিম বলেন, ওসি সাহেবের এমন উদ্যোগ অতি প্রয়োজনীয় ও প্রশংসনীয়। এমন পরামর্শমূলক উদ্যোগের ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতা তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাবিল মাহামুদ ও নুসরাত জাহান বলেন, ওসি স্যারের এমন সাবলীল ও সুন্দর উপস্থাপনা আমাদের জানার জ্ঞানকে আরো সমৃদ্ধ করেছে। আমরা এমন কিছু বিষয় সচেতন হতে পেরেছি যা পরিবার ও সহপাঠীদের সাথে বলা সম্ভব হতো না। এমন নানা বিষয়ের মাধ্যমে একটা পাঠদানের ফলে অনেক পরিবর্তন সম্ভব। আমাদের বিশ^াস যারা এই সেশনে উপস্থিত ছিল তাঁরা কখনো কোনো অন্যায় ও অপরাধের সাথে জড়িত হবে না। সবাই নিজের পরিবার, সমাজ ও দেশকে ভালোবেসে জীবনে অনেক বড় হতে পারবে।
