খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি ॥
একদল শিকারীর তীক্ষè চোখে ধরা পড়ে লজ্জাবতী বানর। শিকারীর লাঠির আঘাতে আহত বন্য প্রাণিটি হয়তো একটা পর্যায় পোষা প্রাণীর খাঁচায় বন্দি কিংবা আহার হতো। কিন্তু নাহ! শেষ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বনের প্রাণী বনেই ফিরে গেছে।
খাগড়াছড়ির জেলা সদরের পেরাছড়া ইউনিয়নের বেলতলি এলাকার বাসিন্দা কুনাল ত্রিপুরা সুস্থ করে গভীর জঙ্গলে ছেড়ে দিয়েছেন। আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই কাজ ছড়িয়ে পড়ায় প্রশংসা করছেন অনেকে। কুনাল ওই এলাকার ত্রিদ্বিপ রায় ত্রিপুরার ছেলে।
জানা যায়, গত ৪মার্চ একদল শিকারী বেলতলি গ্রামের জঙ্গলে একদল শিকারী শিকার করতে যায়। তাদের জালে লজ্জাবতী বানরটি ধরা পরে। লাঠির আঘাতে আহত লজ্জাবতী বানরটি নিয়ে ফেরার সময় কুনাল ২হাজার টাকা দিয়ে লজ্জাবতী বানরটি কিনে নেয়। পরে একমাস ধরে নিজ বাসায় সেবা যতœ করে আহত প্রাণীটি সুস্থ করে।
সুস্থ হওয়ায় শনিবারসকালে কুনাল গভীর জঙ্গলে প্রাণীটি ছেড়ে দেয়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ্য মাধ্যম ব্যবহারকারীদের প্রশংসা কুড়ায় সে।
কুনাল জানায়, শিকারীদের আহত প্রাণীটি ছেড়ে দেয়ার জন্য বললে তারা অপারগতা প্রকাশ করে। প্রাণীটি বিক্রি করতে না পারলে খেয়ে ফেলার কথা জানায়। বিষয়টি আমার মাকে জানালে তাঁর পরামর্শে শেষ পর্যন্ত দুই হাজার টাকায় প্রাণীটি কিনে নিয়ে আসি। বাসার সবাই দীর্ঘদিন প্রাণীটি সেবাযতœ করে পুরোপুরি সুস্থ করে তুলি। আজ(শনিবার) গভীর জঙ্গলে প্রাণীটি ছেড়ে দিয়েছি।
খাগড়াছড়ি পরিবেশ সুরক্ষা আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক মুহাম্মদ আবু দাউদ বলেন, পাহাড়ে যে বন্য প্রাণী ছিল আমাদের লোভে দিনে দিনে তা কমে আসছে। প্রতিদিন কোথাও না কোথাও শিকারিদের জালে নানা প্রাণী আটকা পড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে কুনাল ও তাঁর পরিবারের প্রাণীর প্রতি এমন ভালোবাসা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে।
