রাঙামাটিতে পৃথক দুটি বোট ডুবির ঘটনায় কর্ণফুলী নদীর কয়লার ডিপো এলাকায় ইসকনের বোটের আরো দুই যাত্রীকে শনিবার বিকেল পর্যন্ত উদ্ধার করা যায়নি। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা শনিবার সকাল থেকে বাকি দুইজনকে উদ্ধারে কর্ণফুলী নদীতে আবারো অভিযান পরিচালনা করে। বিকাল পাঁচটায় এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তাদের উদ্ধার করতে পারেনি ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।
অন্যদিকে রাঙামাটি সদরের কাপ্তাই হ্রদের ডিসি বাংলো এলাকায় সুবলংগামী পর্যটক বোট ডুবির ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যুর ঘটনায় নিহতের লাশ শুক্রবার রাতে হস্তান্তর করে। প্যাসিফিক জিন্স গার্মেন্টসের এইচআর বিভাগের এক্সিকিউটিভ অফিসার খসরুস জামান নিহতদের লাশ বুঝে নেন। লাশ ওইদিন রাতেই পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দিয়েছে গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ।
প্যাসিফিক জিন্স গার্মেন্টসের এইচআর বিভাগের এক্সিকিউটিভ অফিসার খসরুস জামান জানান, দুর্ঘটনার খবর প্রচারের পর কোম্পানি থেকে আমাকে এখানে পাঠানো হয়েছে। নিহতদের লাশ বাড়ি পৌঁছানোর সকল খরচ এবং নিহতের প্রতি পরিবারকে দুই লক্ষ টাকা করে দেওয়ার ঘোষণাও দেওয়া হয়। তিনি আরো জানান, তারা নিজেদের উদ্যোগেই রাঙামাটি এসেছিল এবং দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। তারপরও তারা যেহেতু কোম্পানিতে কাজ করতেন তাই কোম্পানি তাদের পরিবারের দুঃখের সময় পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে।
নিহত আফরোজার চাচা শহীদুল ইসলাম বলেন, দুপুরে নামায শেষে বাসায় যাওয়ার পর টিভিতে খবর দেখার পর বিষয়টি জানতে পারি। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর রাঙামাটি চলে আসি। আফরোজার বাড়ি মোংলায়।
কোতয়ালি থানার সেকেন্ড অফিসার লিমন ঘোষ বলেন, শহীদুল নামে আফরোজার এক চাচা এসেছেন তাকে আফরোজার লাশ বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বাকী লাশগুলো প্যাসিফিক জিন্স গার্মেন্টসে কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।
এদিকে শুক্রবার বোটডুবির ঘটনায় প্রশাসন থেকে পর্যটকদের লাইফ জ্যাকেট পরিধানের বিষয়ে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলেই জেলা প্রশাসনের জরুরি সভায় পর্যটকদের জন্য বাধ্যতামূলক লাইফ জ্যাকেট ও পর্যটকদের নৌকাগুলোতে ছাদ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। শনিবার সকাল থেকেই ঝুলন্ত সেতু থেকে সুবলংয়ে পথে যাওয়া সব নৌকায় পর্যটকদের লাইফ জ্যাকেট নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালত কাজ করছে।
কোতয়ালী থানার ওসি(তদন্ত) খান নুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, নৌকাডুবিতে প্রাণহানির ঘটনায় একটি অপমৃত্যু দায়ের করা হয়েছে।
