শ্যামল রুদ্র , রামগড় ॥
খাগড়াছড়ির রামগড় পৌরসভার ৫ ও ৬নং ওয়ার্ডের মধ্যে সংযোগকৃত গ্রামীণ সড়কটির এখন বেহাল দশা। পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের পূর্বচৌধুরী পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৬নং ওয়ার্ডের ব্রতচন্দ্র পাড়া হয়ে বিজিবি ক্যাম্প পর্যন্ত গ্রামীণ সংযোগ সড়কটি চলাচলের উপযোগী নয়। অভিযোগ রয়েছে পৌরসভার গঠনের ২০বছর পরেও এই সড়কে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় সাধারণ জনগণকে ।
জানা যায়, ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় রামগড় পৌরসভা। কাগজে কলমে দ্বিতীয় শ্রেণীর পৌরসভা এটি। প্রতিষ্ঠার ২০বছর পেরিয়ে গেলেও ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের মধ্যে সংযোগকৃত সড়কটিতে ইটের ছোঁয়া লাগেনি। প্রায় ১কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সড়কটি স্থানীয় বাসিন্দাদের এখন দুর্ভোগের কারণ। প্রতিদিন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষার্থী এবং কৃষক তাদের উৎপাদিত পণ্য নিয়ে এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে থাকে। শুষ্ক মৌসুমে কোনভাবে চলাচল করলেও বর্ষা মৌসুমে চলাচলে এলাকাবাসীকে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়। রাস্তাটি জনসাধারণের চলাচলের উপযোগী করে তৈরি করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের পূর্বচৌধুরী পাড়া থেকে ৬নং ওয়ার্ডের ব্রতচন্দ্র পাড়া হয়ে তৈছালা বিজিবি ক্যাম্প পর্যন্ত প্রায় ৫০০শত পরিবারের বসবাস।
এসব এলাকা থেকে রামগড় সদরে এবং স্থানীয় দোকানপাটে যাওয়ার একমাত্র সড়ক এটি। পাহাড়ের পাশ বেয়ে যাওয়া উঁচু-নিচু এই সড়কটি কখনো সংস্কার হয়নি। ফলে সড়কটি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। বারবার আবেদন করার পরেও কোন সংস্কার হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
পূর্বচৌধুরী পাড়ার স্থানীয় বাসিন্দা রিপন জানান, এই এলাকাটি চরম অবহেলিত। সড়কটি দিয়ে দীর্ঘদিন কষ্ট করে চলাচল করছি। কর্তৃপক্ষ রাস্তাটি সংস্কার করার কোনও উদ্যোগ দেখছি না। দিন দিন মরণফাঁদে পরিণত হচ্ছে। স্থানীয় কাউন্সিলরকে অনেকবার জানানোর পরও কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
ব্রতচন্দ্র পাড়ার বালিন্দ্র ত্রিপুরা জানান, সড়কে হেঁটে যাওয়া ও কষ্টকর। উঁচু, নিচু ও আঁকাবাঁকা মাটির সড়ক। পৌর কর্তৃপক্ষ কখনো এই সড়ক নির্মাণে এগিয়ে আসেনি। তিনি আরো জানান, এখানে ত্রিপুরা পরিবারের বসবাস বেশি। অধিকাংশই কৃষি কাজের সাথে জড়িত। সড়কের কারণে উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করতে গেলে তাদের হিমশিম খেতে হয়।
রামগড় পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জামাল শিকদার জানান, জনগণের দুর্ভোগের কথা তিনি শুনেছেন। সড়কটি নগর প্রকল্পের আওতায় আনার জন্য আবেদন করা হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই কাজ শুরু হবে।
রামগড় পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোহাম্মদ শামীম জানান, তার ওয়ার্ডের জন্য সড়কটির গুরুত্ব অনেক। এই এলকায় ২০০-৩০০ পাহাড়ি ও বাঙালি পরিবারের বসবাস। সড়কটি নির্মাণের জন্য পৌর কর্তৃপক্ষ থেকে শুরু করে জেলা পরিষদেও তিনি কয়েকবার তদবির করেছেন। প্রতিশ্রুতি দিলেও সড়কটি নির্মাণে কোন বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে না।
