আজ রাত ফুরোলেই রাঙামাটি জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচন । এর মধ্যে জমে উঠেছে নির্বাচন। জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচনে কে হচ্ছেন সাধারণ সম্পাদক? সে নিয়ে চলছে নানা আলোচনা, নানা বিশ্লেষণ। সবার নজর এখন সেই দিকেই। জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারন সম্পাদক মুলত ক্রীড়ার প্রাণ বলে ধারণা করা হয়। মুলত জেলা ক্রীড়া সংস্থার সব কিছুই তার মাধ্যমেই পরিচালিত হয়।
এবারের কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন তিনজন। তিনজন প্রার্থীই খুবই শক্ত প্রার্থী হিসেবে মনে করছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকরা। ইতোমধ্যে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থীরা ছুটে বেড়াচ্ছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। চলছে প্রচার প্রচারণা লিফলেট বিতরণ প্রচারপত্রে কে আগে কি করেছিল আছে তারও বর্ণনা। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ক্রীড়া সংস্থায় যাওয়ার জন্য মরিয়া প্রার্থীরা। যোগ্যতার বিচারে কেউ কারো চেয়ে কম নয়।
কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে লড়াই করছেন তিন প্রার্থী হলেন রিজার্ভ বাজার ক্রিকেট ক্লাবের মো: শফিউল আজম, সাপছড়ি রিবেং ক্লাবের কিংশুক চাকমা ও শহীদ শুক্কুর ক্লাবের আব্দুল মামুন।এবার নির্বাচনে প্রার্থী দু’বার কার্য নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য ও সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিউল আজম, যিনি দীর্ঘদীন ধরে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাথে পাশাপাশি খেলাধুলার সাথে জড়িত আছেন। তিনি নিজেও জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। এরই মধ্যে তিনি শুরু করেছেন সবুজ সংঘ মাঠ পরিষ্কারের কাজও।
নির্বাচন নিয়ে আজম বলেন, আমি আশাবাদী আমি জিতবো যদি সকল প্রতিনিধিরা চায়। আমি দীর্ঘ ১৮ বছর জেলা ক্রীড়া সংস্থায় আছি। মাঠের সাথে আমার প্রাণের সম্পর্ক আছে। আমাদের জেলা খেলাধুলায় যেমন ক্রিকেট, ফুটবল, এমনকি অ্যাথলেটিকও পিছিয়ে পড়েছে। আমি সাধারণ সম্পাদক হলে এ পিছিয়ে পড়া থেকে উত্তরন ঘটানোর চেষ্টা করব। বিশেষ করে অ্যাথলেটিকে আমাদের এক সময় ভাল অবস্থান ছিল তা ফিরিয়ে আনব। তিনি আরে বলেন, জেলা ক্রীড়া সংস্থার ফান্ড বাড়ানো এবং খেলোয়াড় ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার উন্নয়নে কাজ করবো।
আরেক প্রার্থী সাবেক ফুটবলার ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারন সম্পাদক মো: আবদুল মামুন। যিনি বেশ সুনামের সাথেই জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। (১৯৯৫-৯৭) পর্যন্ত জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করা সাবেক ফুটবলার শহীদ শুক্কুর ক্লাবের প্রতিনিধি মো: আবদুল মামুন বলেন, খেলার মাঠে বিভেদ গ্রুপিং আমাকে খুবই ব্যথিত করে। একজন খেলোয়াড়ের কোন কোন জাত, ধর্ম, বর্ণ বা রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে না, সে খেলোয়াড় সেটাই তার পরিচয়। খেলার মাঠে যে যোগ্য, সেই সুযোগ পাবে। নির্বাচিত হলে আমি সকল প্রতিনিধিদের নিয়েই কাজ করব। আমার কাছে দলীয় পরিচয় কোনভাবেই মুখ্য হবে না।
আরেক প্রার্থী সাবেক জাতীয় পর্য়ায়ের ফুটবলার এবং জেলা ক্রীড়া সংস্থার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাপছড়ি রিবেং ক্লাবের প্রতিনিধি কিংশুক চাকমা জয়ের জন্য সকল ভোটাদের কাছে যাচ্ছেন তুলে ধরছেন কি করবেন সাধারণ সম্পাদক হলে। কিংশুক বলেন, রাঙামাটির মাঠে যাতে অনেক বেশি খেলা হয় তার জন্য তিনি কাজ করবেন। রাঙামাটির অনেক খেলোয়াড় দেশের বিভিন্ন জায়গায় সুনামের সাথে খেলছেন, আমি চেষ্টা করবো যাতে আরো বেশি সুনাম অর্জনের জন্য খেলোয়ারদের মান উন্নয়নে কাজ করবো। আমি আশাবাদী নির্বাচনে সকলে ভোট দিয়ে আমাকে জয়ী করবে।
কে হচ্ছেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক তার জন্য অপেক্ষা করতে মাত্র আর একদিন। যিনিই সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হবেন তিনি সবাইকে নিয়ে খেলাধুলার মানোন্ননে কাজ করবেন তেমনটাই প্রত্যাশা করেন কাউন্সিলরসহ সকল ক্রীড়ামোদীরারা।
আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর শনিবার কার্যনির্বাহী কমিটির (২০১৮-২০২২)নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
