রাঙামাটি জেলা আওয়ামীলীগের ঘোষিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে ঠাঁই হয়নি আগের কমিটিতে থাকা ১৬ নেতার। এরা হলেন সর্বশেষ কমিটির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল মতিন,সাংগঠনিক সম্পাদক জ্যোতির্ময় চাকমা কেরল,স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক স্মৃতি বিকাশ ত্রিপুরা,সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ জমিরউদ্দিন,ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ হানিফ,উপ দপ্তর সম্পাদক জাকির হোসেন সেলিম,সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ,সমরেশ দেওয়ান,অমর কুমার তঞ্চঙ্গ্যা,মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম,সুচিত্র চাকমা,তোয়াং পাংখোয়া,জয়সেন তঞ্চঙ্গ্যা,নুরুল আজম চৌধুরী,চারু বিকাশ চাকমা এবং উপ প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক অমর কুমার দে।
বাদ পড়াদের অন্যতম জেলা আওয়ামীলীগের বিগত কমিটির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল মতিন বলছেন, ‘মূলত: নিখিলের পক্ষে সর্বশেষ দলীয় কাউন্সিলে অবস্থান নেয়ার কারণেই আমাকে ও আমাদের কিছু রাজনৈতিক সহকর্মীকে বাদ দেয়া হয়েছে।’ নিখিলসহ কয়েকজনকে তবে কেনো রাখা হয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন-‘ ওরা যাদেরকে নিজেদের জন্য নিরাপদ মনে করেছে,তাদেরকেই রেখেছে, আমাদেরকে হয়ত নিরাপদ মনে করে নাই।’ তবে কমিটি থেকে বাদ পড়লেও রাজনীতি চালিয়ে যাবেন ঘোষণা দিয়ে মতিন বলেন,‘ পদের জন্য তো রাজনীতি করিনি,করবও না। আওয়ামীলীগ ও শেখ হাসিনাকে ভালোবেসেই দল করেছি,ভবিষ্যতেও করব। পদ পেলেও করব,না পেলেও করব।’ জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা প্রবীন নেতা আব্দুল মতিন,দলের মনোনয়নে রাঙামাটি পৌরসভা নির্বাচনেও মেয়র পদে প্রার্থী হয়েছিলেন,তবে নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন তিনি। সেই নির্বাচনে তার পরাজয়ের জন্য দলের কিছু সিনিয়র নেতাকে দায়ি করে দলীয় কার্যালয় ভাংচুর ও কিছু নেতাকে লাঞ্চিতও করেছিলো দলের তৃণমূল কর্মীরা।
বাদ পড়াদের প্রসঙ্গে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক হাজী মুছা মাতব্বর বলেছেন,‘ সংগঠনকে শক্তিশালি করতে যারা দলে কম সক্রিয় এবং দলের সাংগঠনিক কাজেকর্মে ঠিকভাবে পাওয়া যায়না,তাদেরকেই বাদ দেয়া হয়েছে।’ নিখিলের পক্ষে কাজ করাদের বাদ দেয়া হয়েছে কিনা,এমন প্রশ্নের জবাবে মুছা বলেন,‘ এটা মোটেও ঠিক নয়। কে কার পক্ষে কাজ করছে, এটা কোন বিষয়ই নয়। মূলত: যারা দলের কার্যক্রমে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিলোনা এবং কাজেকর্মে পাওয়া যাচ্ছিলো না,তাদেরকেই বাদ দেয়া হয়েছে। এখানে অন্য কোন কারণ নেই।’
প্রসঙ্গত, ২১ মার্চ রাঙামাটি জেলা আওয়ামীলীগের ৭৫ সদস্য বিশিষ্ট জেলা কমিটি অনুমোদন করেছেন দলের কেন্দ্রীয় সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপি।
