জিয়াউল জিয়া ও প্রান্ত রনি
সারাদেশে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রেকর্ড ভাঙছে প্রতিদিনই। করোনা প্রতিরোধে ইতোমধ্যে ১৮ দফা নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। নির্দেশনায় পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্র, সিনেমা বা থিয়েটার হলে জনসমাগম সীমিত করা এবং সকল ধরনের মেলা আয়োজনে নিরুৎসাহিত করার কথা উল্লেখ আছে। তবে সরকারের নির্দেশনার পরও চলছে রাঙামাটিতে ১০ দিনব্যাপী বিসিক শিল্প পণ্য মেলা! গত ২৫ মার্চ শুরু হওয়া ১০দিন ব্যাপী এই শিল্প পণ্যমেলা আগামী ৩ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে রাঙামাটি বিসিক কার্যালয় চত্বরে আয়োজিত মেলায় সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা গেছে, খাবারের দোকানসহ মেলায় ৫০ স্টল বসেছে। এর মধ্যে স্থানীয় উদ্যোক্তা ছাড়াও ঢাকা, যশোরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের উদ্যোক্তা স্টল দিয়েছেন। তবে মেলায় করোনাকালে স্বাস্থ্যবিধি মেনে করার থাকলেও বেশিভাগ বিক্রেতার মুখেই নেই মাস্ক! এছাড়া প্রবেশ পথে ‘মাস্ক ছাড়া প্রবেশ নিষেধ’ এমন তিনটি ছোট পোস্টারেই যেন নিজেদের দায় সেরেছে আয়োজকরা। মেলায় ঘুরে আরও দেখা গেছে, ক্রেতা ও বিক্রিতারা অনেকেই মুখে মাস্ক না পরেই বেচাবিক্রি ও চলাফেরা করছেন। মাস্ক না পারার কারণ জানতে চাইলে নানা অযুহাতের কথা শুনার তারা। আবার কোন দোকানেই সামাজিক দূরত্ব মেনে বেচাকেনার চিত্র লক্ষ্য করা যায়নি।
মেলায় অংশ নেয়া ঢাকার উদ্যোক্তা আলো ফ্যাশন হাউজের স্বত্ত্বাধিকারী রাজিয়া সুলতানা বলেন, মেলার শুরু দিকে ভালোই বেচাকেনা ছিলো। এখন করোনা বৃদ্ধির সাথে সাথে মানুষের আনাগোনা কিছুটা কম। বাকি কয়েকদিন আছে যা নিয়ে এসেছি বিক্রি করে চলে যাব। অনেকে মাস্ক ও সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখে চলাচল করছে। এই বিষয়ে আরও কঠোর হওয়া দরকার।
মাস্ক না পরেই যশোর থেকে আসা আরেক নারী উদ্যোক্তা মরিয়ম আক্তার ব্যবসা পরিচালনা করছেন। মাস্কের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কথা বলার জন্য মাস্ক পরিনি। এমনিতে মাস্ক পড়ে ছিলাম। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন করোনার কারণে ব্যবসা বাণিজ্য বন্ধ ছিল। মেলার কথা শুনে রাঙামাটি আসি। এখন মেলা চলবে কিনা সেটি কর্তৃপক্ষ সিন্ধান্ত নিবে।
আরেক নারী উদ্যোক্তা অরশি’র স্বত্ত্বাধিকারী ইসরাত জাহান বলেন, দোকানদাররা স্বাস্থ্যবিধি মানলেও যারা মেলায় আসছে তাদের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে উদাসিনতা দেখেছি। মেলার বিষয়ে প্রজ্ঞাপন দেখেছি, সিন্ধান্ত কর্তৃপক্ষ নিবে।
মেলায় ঘুরতে আসা মিঠু চাকমা বলেন, রাঙামাটিতে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, কিন্তু মেলায় স্বাস্থ্যবিধি কেইই মেনে চলছে না। মেলায় ক্রেতা বিক্রেতাদের মধ্যে অনেকেই মাস্ক না পরে ঘুরছে। আর মেলার জায়গটি ছোট হওয়ার কারণে সামাজিক দূরুত্ব বজায় থাকছে না। যেখানে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মেলাকে নিরুৎসায়িত করার কথা বলেছে, সেহেতু দ্রুত মেলা সংক্ষিপ্ত করা দরকার।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র শিল্প করপোরেশন (বিসিক) রাঙামাটি সিআইডিপি কার্যালয়ের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ও মেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন বলেন, মেলা তো শুরু হয়েছে কয়েকদিন হলো। এরমধ্যে গত কয়েকদিন ধরে করোনায় আক্রান্ত সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিষয়টি আমরা খেয়াল করেছি। যেহেতু মাত্র আর কয়েকদিন আছে স্বাস্থবিধি মেনে শেষে করার চেষ্টা করবো আমরা।
রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, আগামীকাল বুধবার সকালে করোনা নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সরাসরি ভিডিও কনফারেন্স করবেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব। সে কনফারেন্সে হয়তোবা করোনা সংক্রান্ত আরও নতুন নতুন দিকনির্দেশনা আসতে পারে সে অনুপাতে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে এবং বিসিক কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে মেলার বিষয়ে সিন্ধান্ত নেয়া হবে।
প্রসঙ্গত, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে রাঙামাটি ১০ দিনব্যাপী শিল্প পণ্য মেলা আয়োজন করে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র শিল্প করপোরেশন (বিসিক)। গত গত ২৫ মার্চ শুরু হওয়া এ মেলা আগামী ৩ এপ্রিল সমাপ্ত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে করোনা সংক্রমণ যেহেতু উচ্চহারে বাড়ছে সেহেতু মেলায় স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে না চলার কারণে হুমকি রয়েছে মেলায় আসা ক্রেতা থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্টদের।
