দেশের আর দশটি বাজারের মতোই যেনো থমকে আছে পার্বত্য জেলা রাঙামাটির সব বাজারও। রাঙামাটির বিভিন্ন বাজার ঘুরলেই দেখা যাবে, কিছু দোকান খোলা আছে, আর প্রায় সব দোকানই বন্ধ। সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক কোভিড-১৯ বা করোনার মোকাবেলার জন্য কাঁচা বাজার, মুদি দোকান ও ঔষুধের দোকান খোলা রাখা হয়েছে এছাড়া অন্য সব দোকান বন্ধ।
প্রতিটি বাজারে যে দোকানগুলো খোলা আছে তাও সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত, অবশ্য ঔষুধের দোকান চাইলে আরো সময় খোলা রাখতে পারে। খোলা থাকা দোকানগুলো এখন অনেকটা নি:সঙ্গ দিন পার করছে। আগে যেখানে সব সময় পাশের দোকানদারদের সাথে হাসিঠাট্টা করে দিন পার করতো এখন সেখানে কেউ নাই, এমনকি পাশের দোকানদারতো পরের কথা পণ্য ক্রয় করতে আসা গ্রাহকদের সাথেও গল্প করতে পারছে না সরকারি নির্দেশনার কারণে। 
রাঙামাটি শহরের প্রায় সব খোলা থাকা দোকানের হাল চিত্র এটি। কোন কোন দোকানদার যেখানে রাত বারোটা বা তারও পরে বাসায় যেত তারাই এখন বাসায় ফিরে ছয়টার মধ্যে। তারা যতক্ষনই এখন দোকানে সময় পার করেন তাও নি:সঙ্গ।
প্রায় সব দোকান যেখানে বন্ধ সেখানে যাদের দোকান খোলা তারা অনেকটা ভাগ্যবান বলাই যায়! কিন্তু এ ভাগ্যবানদের আছে ভিন্ন ভিন্ন মত। অনেকের মতে খোলা থাকলেও বাজার এখন প্রাণহীন। মানুষও খুব বেশী আসে না। আর দোকানের বিক্রিও অনেক কমে গেছে। অনেকটা একাকী সময় পার করাটাও কষ্টের। তারা দেখতে চায় জমজমাট বাজার যেখানে খোলা থাকবে সব দোকান।
তবলছড়ি বাজারের ঔষুধ ব্যবসায়ী বিজয় বড়ুয়া বলেন, আমদের দোকান খোলা আছে ঠিক কিন্তু সন্ধ্যা ছয়টার পর পুরো বাজার মানবশুন্য হয়ে যায় । আগে যেখানে বারোটার পর হতো বাসায় যেতে এখন সাতটা বা আটটার মধ্যে দোকান বন্ধ করে বাসায় চলে যাই।
কাঁচা বাজার ব্যবসায়ী আবুল ফজল বলেন, আমাদের দোকান খোলা থাকাতে আমাদের কিছু আয় হয় কিন্তু অন্য দোকান বন্ধ আছে। তাদের জন্য আমাদেরও খারাপ লাগে তবে বেচা-বিক্রী আগের মত হয় না। 
মুদি দোকানদার মো: হাকিম বলেন, সারাদিন একা একা দোকানদারি করি কাস্টমারও বেশী নাই কারো সাথে কথা বলারও সুযোগ নাই। সারাদিনে এক কাপ চাও খেতে পারি না।
ফল ব্যবসায়ী তালেব বলেন, ফল ব্যবসাও খুব ভালোভাবে করতে পারছি না মৌসুমী ফলের যোগান ও কম। সব দোকান যদি খোলা থাকতো তাহলে অনেক ভালো লাগতো। দ্রুততম সময়ে আবারো সব দোকান খুলবে আর বাজার ফিরে পাবে প্রাণ তেমনটাই প্রত্যাশা করছে নি:সঙ্গ বিক্রতারা।
বাজার মানেই ভীড়,বাজার মানেই শত শত মানুষের মুখরতা,সকাল-সন্ধ্যা পেরিয়ে মধ্যরাত অবধি তুমুল আড্ডা। এখন সেই বাজার আছে ঠিকই,কিন্তু ভীড় নেই,নেই মুখরতা,আড্ডা তো দুর অস্ত। শুধু কি তাই,যেকোন আড্ডা বা বাজারের প্রাণ যে চায়ের দোকান,সেসব সবই বন্ধ,আপনার পকেটে টাকা থাকলেও মিলবেনা এক কাপ গরম চা। পুরো পৃথিবীকে এলোমেলো করে দেয়া ছোট্ট এক ভাইরাসের কারণে বদলে যাচ্ছে পুরো প্রাত্যহিকতা,দিনযাপনও। কেউ জানেন, এই বদলে যাওয়া জীবন,পুরনো জীবনে ফিরবে কবে কিংবা আদৌ ফিরবে কিনা !
