দেশের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো শুরু হয়েছে আদালতের ভার্চুয়াল কার্যক্রম। করোনা ভাইরাসের কারণে প্রায় দুই মাস ধরে বন্ধ রয়েছে আদালতের সব ধরনের কার্যক্রম। এতে আটকে পড়ে জামিনযোগ্য মামলার শুনানি। সাধারণ মানুষের নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিচার বিভাগ আদালতের ভার্চুয়াল কার্যক্রমের উদ্যোগ নেয়। এর ফলে রাঙামাটি আদালতে শুরু হয়েছে জামিনযোগ্যা মামলার শুনানি। মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া এই কার্যক্রমে প্রথম দু’দিনেই নয়টি মামলার শুনানি হয়। প্রথম দিনে দুইটি মামলায় জামিন দেয়া হয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, আদালতের ভার্চুয়াল কার্যক্রম পরিচালনার জন পৃথক ওয়েবপোর্টালও প্রস্তুত করা হয়েছে। আবেদন, শুনানি সবই হবে এ পোর্টালে। ইমেইলে শুনানির সময় ও ভিডিও কনফারেন্সের লিঙ্ক পাঠানো হবে আইনজীবীকে। এসএমএসে দেওয়া হবে অ্যালার্ট। শুরুতে এ পদ্ধতিতে শুধু জামিন আবেদন দাখিল, শুনানি ও বেইল বন্ড দাখিলের সুযোগ পাবেন আইনজীবীরা। পরে যুক্ত হতে পারে অন্যান্য বিষয়ও।
গত বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে এ-সংক্রান্ত অধ্যাদেশের খসড়া অনুমোদনের পর এক ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, কভিড-১৯-এর কারণে সব জায়গায় আদালত চালানোর সুযোগ নেই। সংক্রমণের আশঙ্কায় সুপ্রিম কোর্ট থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে যার যার অবস্থানে থেকে যেন বিচার করা যায়। বিচার কার্যক্রমের সুবিধার্থে ভিডিও কনফারেন্সসহ অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম করার জন্য আইনি বিধান প্রণয়ন করা প্রয়োজন বলে আইন মন্ত্রণালয় ও সুপ্রিম কোর্ট মনে করে। এ পরিপ্রেক্ষিতে অধ্যাদেশের খসড়া মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হলে তাতে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।
যেভাবে চলবে ভার্চুয়াল কোর্ট : দেশে প্রথমবারের মতো ভার্চুয়াল কোর্টের কার্যক্রম শুরু করতে সুপ্রিম কোর্টকে তথ্যপ্রযুক্তি সহায়তা দিচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অ্যাক্সেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রজেক্ট। শুরুতে এ পদ্ধতির মাধ্যমে শুধু জামিন আবেদন ও বেইল বন্ড দাখিল করতে পারবেন আইনজীবীরা। এজন্য mycourt.judiciary.org.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে সাইন আপ (নিজের প্রোফাইল তৈরি) করতে হবে সব আইনজীবীকে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানান, সাইন আপ করার পর নিজের ইউজার নেম ও পাসওয়ার্ড দিয়ে ভার্চুয়াল কোর্ট পোর্টালে প্রবেশ করতে পারবেন আইনজীবীরা। পোর্টালে প্রবেশ করলেই জামিন আবেদন ও বেইল বন্ড দাখিল সংক্রান্ত দুটি ঘর আসবে। কোনো আইনজীবী জামিন আবেদন করতে হলে প্রথমে এ-সংক্রান্ত ঘরে প্রবেশ করে মূল জামিন আবেদন, ওকালতনামা ও সংযুক্ত নথিপত্র পৃথক তিন ধাপে আপলোড করবেন। এ ক্ষেত্রে কোনো প্রকার আবেদন ফি লাগবে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানান, আইনজীবীর আবেদন দাখিলের পর সংশ্লিষ্ট আদালতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ আবেদনটি শুনানির জন্য গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করবেন। বিচারকের অনুমোদনসাপেক্ষে আইনজীবীর নির্ধারিত ইমেইলে পাঠানো হবে শুনানির সময় এবং একই ইমেইল বার্তায় ভিডিও কনফারেন্সের জন্য একটি লিঙ্ক প্রেরণ করা হবে আইনজীবীকে। নির্ধারিত সময়ে ওই লিঙ্কে প্রবেশ করে আইনজীবী বিচারকের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে নিজের আবেদনের বিষয়ে শুনানি করতে পারবেন। জামিন মঞ্জুরের পর একই পোর্টালেই বেইল বন্ড দাখিল করতে পারবেন আইনজীবীরা।
এদিকে আদালতের এমন উদ্যোগ প্রশংসার দাবি উল্লেখ করে রাঙামাটি আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক উথোয়াই মং মার্মা বলেন, অন্যান্য সময়েও এই উদ্যোগ বহাল থাকলে বাদী-বিবাদীদের হয়রানি কমবে। আইনজীবীরাও বাসায় বসে আদালতের যেকোন কাজে অংশ নিতে পারবে। এই ধরনের উদ্যোগকে ভবিষ্যতে চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেন এই নেতা।
রাঙামাটি আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর(এপিপি) মিহির বরণ চাকমা বলেন, সকলের আইনী অধিকার সুরক্ষার জন্য দেশের এই ক্রান্তিকালে সরকার আদালতের ভার্চুয়াল কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এর ফলে আদালত বন্ধের মধ্যেও সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখার মাধ্যমে জামিনযোগ্য মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। সাধারণ মানুষও এই কার্যক্রমের ফলে দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবে।
