আলাউদ্দিন শাহরিয়ার, বান্দরবান
সেতু খুলবে বান্দরবানে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার। সোমবার সাতই নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে টংকাবতী-বারআউলিয়া অভ্যন্তরিন সড়কের সেতুটি আনুষ্ঠানিক উদ্ধোধনের পরই যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে প্রায় ছয় কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের অর্থায়নে নবনির্মিত প্রায় বত্রিশ মিটারেন দৃষ্টিনন্দন সেতুটি। সেতুটির মাধ্যমে পার্বত্য জেলা বান্দরবানের সদর উপজেলার টংকাবতী ইউনিয়নের সাথে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া-চরম্বা ইউনিয়নের অভ্যন্তরিন সংযোগ সড়ক স্থাপিত হয়েছে। শস্য ভান্ডার হিসাবে পরিচিত পাহাড়ের সদর উপজেলার টংকাবতী, সূয়ালক, লামা উপজেলার সরই এবং সমতল ভূমির লোহাগাড়া উপজেলার চরম্বা, পদুয়া’সহ পাশ্ববর্তী ইউনিয়নগুলোর কৃষি-খামারীদের জন্য সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলবে।
স্থানীয় চাষী জানে আলম, সামাদউল্লাহ, মোস্তাক’সহ অনেকে বলেন, সেতুটির মাধ্যমে পাহাড়ের টংকাবতী এবং সমতলের বারআউলিয়ার মধ্যে সংযোগ স্থাপিত হবে। সেতুর দুপাশে ষোল কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ করেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। এটি এই অঞ্চলের দুপারের মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটাবে। পাহাড়ে উৎপাদিত কৃষি ও মৎস্য পন্য সহজের ব্যবসায়ী কিনে ঢাকা, চট্টগ্রামে নিতে পারবেন।
টংকাবতী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাংয়ং ম্রো বলেন, নির্মিত সেতু’সহ সংযোগ সড়কটি এলাকাবাসীর উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।
পিছিয়ে পড়া পাহাড়ী জনগোষ্ঠীর উৎপাদিত কৃষিপন্য সহজে বাজারজাত করণের পথ তৈরি হবে। পাহাড় এবং সমতল ভূমির মাঝে অভ্যন্তরিন যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপিত হবে। পার্বত্যবাসীর পক্ষে প্রধানমন্ত্রীকে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানাচ্ছি।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের স্টিমিটার মোঃ শরীফুজ্জামান বলেন, ২০২০-২১ অর্থবছরে পিএমপি প্রকল্পের আওতায় বারআউলিয়া-টংকাবতী মহাসড়কের জামছড়ি সেতুটি ৫ কোটি ৯০ লাখ ৮৬ হাজার টাকায় বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সেতুটির দৈর্ঘ্য ৩১.৮২৮ মিটার এবং প্রস্থ ১০২৫ মিটার। এরআগে সেতুর দুপাশে প্রায় ১৬ কিলোমিটার জেলা মহাসড়ক নির্মাণ করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বান্দরবান সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মোসলেহ্উদ্দীন চৌধুরী বলেন, ইতিমধ্যে সেতুটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সে উদ্ধোধনের কথা রয়েছে। সড়কটি মোট ২০ কিলোমিটারের। এরইমধ্যে ষোল কিলোমিটার সম্পন্ন হয়েছে। বাকি চার কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের কাজও দ্রুত গতিতে চলমান রয়েছে। সেতু’সহ সংযোগ সড়কটির ফলে পাহাড় এবং সমতল ভূমির মধ্যে একটি সেতুবন্ধন তৈরি হয়েছে। দুপারের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সেতুটি পর্যটন শিল্পেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। সড়কটি দিয়ে কক্সবাজার থেকে সহজে থানচি এবং বান্দরবান জেলা সদরে চলাচল করতে পারবে।
