রাজস্বখাত থেকে বেতন প্রদান ও পেনশনের দাবিতে সারাদেশের মতো রাঙামাটি পৌরসভার কর্মচারিদের একটি দল রাজধানী ঢাকায় অবস্থান কর্মসূচীতে যোগ দিতে গেছেন আর বাকিরা রাঙামাটিতে পালন করছেন কর্মবিরতি। এদিকে পরিচ্ছন্নতা অভিযানও বন্ধ,বন্ধ সকল নাগরিক সেবাও। ফলে পুরো রাঙামাটি শহর এখন ময়লায় সরলাব আর সন্ধ্যার পর থেকে রাতভর সড়কবাতি না জ্বালানোয় পুরো অন্ধকারেই নিমজ্জিত পর্যটন নগরী রাঙামাটি। শহরের প্রতিটি মোড়ে,বাজারের গলিতে কিংবা পাড়ার মোড়ে মোড়ে জমেছে গত কয়েকদিনের ময়লা আবর্জনার বড় স্তুপ। এনিয়ে বিব্রত হলেও কিছু করার নেই পৌরসভার,জানালেন পৌর মেয়র।
রাঙামাটির বিশিষ্ট নাগরিক ও সিনিয়র সাংবাদিক সুনীল কান্তি দে বলেছেন, ‘পৌর কর্মচারিদের দাবি যৌক্তিক। কিন্তু তারা দাবি করছে,সরকার সে দাবি বাস্তবায়ন করার কর্তৃপক্ষ। মাঝখানে আমরা পৌরবাসিকে কষ্ট দেয়ার কোন মানে হয়না। তাদের দাবি বাস্তবায়নের জন্য তো জরুরি সেবা বন্ধ থাকতে পারে না।’
সাবেক ছাত্রনেতা ও রাঙামাটির তরুন নাগরিক আন্দোলনের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম মুন্না বলেছেন, ‘ একটা পর্যটন শহরে এই ভরা বর্ষায় কোন আন্দোলনের কারণে রাতে সড়কবাতি বন্ধ থাকবে,ময়লা আবর্জন পরিষ্কার হবে না,এটাতো মানা যায়না। আমরা সরকারের প্রতি অনুরোধ জানাই যেনো তাদের দাবি মেনে নেয় এবং সারাদেশের মতো আমাদের রাঙামাটিবাসিকেও এই দুরাবসস্থা থেকে উদ্ধার করে।’
রাঙামাটি পৌরসভার মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী বলেছেন, কর্মচারিরা অনেকদিন ধরেই আন্দোলন করছে,সরকার ইতোমধ্যেই তাদের কিছু দাবিদাওয়া মেনে নিয়েছে,কিছু বাকি আছে। এখন তারা আন্দোলন করছে,সেগুলোর বাস্তবায়নে। সেটা তারা করতেই পারে,আমিও তাই তারা সুযোগ সুবিধা পাক। কিন্তু নাগরিক সেবা বন্ধ রাখলে পৌরসভা প্রশ্নবিদ্ধ হয়,আন্দোলনে সাধারন মানুষের সমর্থনও কমে যায়। আমি তাদের অনুরোধ করেছি,যেনো জরুরী নাগরিক সেবাগুলো চালু রেখে আন্দোলন করে,এখন আপনাদের মাধ্যমেও আবার অনুরোধ করছি।’
পৌর মেয়র দাবি করেন,তাদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে আমিও আমার নিজের গাড়ি অতি প্রয়োজন ছাড়া ব্যবহার করছি না। কিন্তু পথে পথে ময়লার স্তুপ,রাতে সড়কবাতি না জ্বলা,নাগরিকদের জন্মনিবন্ধন সনদ না পাওয়ায় পৌরসভা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। এটা ওদেরকেও বুঝতে হবে।’ তিনি বলেন, আশা করছি তারা শীঘ্রই কাজে ফিরবেন এবং দ্রুতই ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করে পৌরসভার স্বাভাবিক কর্মকান্ডে ফিরে যাবেন।’
তবে রাঙামাটি পৌর কর্মচারি সংসদের সাধারন সম্পাদক সনৎ বড়–য়া রাঙামাটি পৌরবাসির কষ্টের জন্য দু:খ প্রকাশ করে বলেন,আমরা দীর্ঘ কয়েকবছর ধরেই ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন করে আসছি,স্বাভাবিক কাজকর্ম অব্যাহত রেখেছি দিনের পর দিন। এখন আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। আমরা বাধ্য হয়েই কঠোর ও কঠিন কর্মসূচীতে অংশ নিয়েছি,যাতে সারাদেশের ৩২৮ পৌরসভার ৩২ হাজার ৫০০ কর্মচারি যোগ দিয়েছে।’ সনৎ বড়–য়া আরো বলেন, ‘আমরা তো দিনের পর দিন,বছরের পর বছর পৌরবাসিকে রোদ ঝড় বৃষ্টিতে সেবা দিয়ে আসছি,কিন্তু মাস শেষে আমাদের বেতনের খবর থাকেনা,চাকরি শেষে পেনশন নাই, এটার জন্য আন্দোলন করতে গিয়ে আমাদের জন্য দুচারটা দিন কষ্ট সহ্য করার ক্ষমতাও কি রাঙামাটিবাসির নাই ?’ আমরা তো আন্দোলন শেষে ফিরে গিয়ে বাড়তি কাজ করে হলেও সবকিছু স্বাভাবিক করে দিবো।’
প্রসঙ্গত, ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত ৬৪.৭৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের রাঙামাটি পৌরসভায় ১৮০ জন কর্মচারি,যাদের মধ্যে স্থায়ী ৭৯ জন, অস্থায়ী ১০১। এদের মোট বেতন ও অন্যান্য সুবিধাখাতে মাসে ৩৮ লক্ষ টাকা।
