জিয়াউল জিয়া
রাঙামাটির জুরাছড়ি উপজেলার দুর্গম দুমদুম্যা ইউনিয়নে ম্যালেরিয়ার আক্রান্ত হয়ে এক শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। মারা যাওয়া শিশুটি দুমদুম্যা ইউনিয়নে ৪ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা অনিল চাকমা ছেলে গভীর চাকমা (৩)।
জুরাছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর কর্মকর্তা ডা. অন্যন্যা চাকমা বলেন, ব্র্যাক কর্মীর মাধমে এক শিশুর মৃত্যুর খবর পেয়েছি। শিশুটি দীর্ঘদিন ভারতের বগাখালী থাকতো। সেখান থেকে জ্বর আসার পর পরীক্ষায় পজেটিভ পাওয়ার পর। চিকিৎসা শুরু হওয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যে শিশুটি মারা যায়।
জুরাছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর তথ্য অনুসারে, গত নভেম্বর মাসে ৮৫ জন ও ডিসেম্বর মাসে ৮৫ জন ম্যালেরিয়া রোগী পাওয়া গেছে যারমধ্যে সীমান্তবর্তী দুমদুম্যা ইউনিয়নে বেশি।
স্থানীয়ভাবে জানা যায়, স্থানীয়ভাবে মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা কঠিন। তবে গভীর চাকমা নামে এক শিশুর ম্যালেরিয়া রোগের জীবাণু পাওয়া যায়। পরে তার মৃত্যু হয়। তবে সীমান্তবর্তী হওয়ার কারণে ঐ এলাকার মানুষ ভারতের বগাখালী নামক স্থানে যাওয়া আসা করে। সেখানে থেকে কয়েকদিন আগে শিশুটি এসেছিলো।
বিলাইছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর তথ্য অনুসারে, গত নভেম্বরে ৩২ জন ডিসেম্বরে ২০ জন। যার মধ্যে উপজেলার দুর্গম সীমান্তবর্তী ইউনিয়ন ফারুয়া ও বড়থলিতে রোগীর সংখ্যা বেশি। দুর্গম ও সীমান্তবর্তী হওয়ায় সরকারি চিকিৎসা সেবার অপ্রতুলতা ও সচেতনতার অভাবে ম্যালেরিয়া রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। জুরাছড়িতে গত দু’মাসে বিভিন্ন স্থানের লোকজন জ্বর, কাশিসহ শারীরিক দুর্বলতার জন্য কমিউনিটি ক্লিনিক ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার স্বাস্থ্যকর্মীদের থেকে চিকিৎসা নিতে এসে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করালে তাদের শরীরে ম্যালেরিয়া রোগের জীবাণু পাওয়া যায়।
মূলত বর্ষা মৌসুমে জেলার জুরাছড়ি, বাঘাইছড়ি, বরকল ও বিলাইছড়ি উপজেলায় ম্যালেরিয়া রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। ব্র্যাক কর্তৃক বিনামূল্যে যেসব মশারি দেয়া হয়। মশারির কার্যকারিতা কমে যাওয়া ম্যালেরিয়ার প্রাদুর্ভাব কমে না আসার অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন জেলার সিভিল সার্জন ডা. বিপাশ খীসা।
সিভিল সার্জন আরও জানান, একটি মশারির কার্যকারিতা থাকে তিন বছর। এবছর নতুন করে মশারি দেয়া হলে আগামী বছর থেকে রোগীর সংখ্যা কমে আসবে।
