‘বর্তমান মেয়র আকবর তার মেয়াদকালের কাজ ও পারফরম্যান্স মূল্যায়নে আমার কাছ থেকে দশের মধ্যে তিনের নীচে নাম্বার পাবেন,যা পাশ নাম্বারও নয়,সে মেয়র হিসেবে সম্পূর্ণ ব্যর্থ’- বলে মন্তব্য করেছেন রাঙামাটি পৌরসভার দুই বারের সাবেক মেয়র হাবিবুর রহমান।
পাহাড়টোয়েন্টিফোর ডটকমকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে হাবিবুর রহমান বলেছেন, ‘মেয়র আকবর উন্নয়ন কাজে কিংবা পৌরবাসীকে সেবা প্রদানে শতভাগ ব্যর্থ হলেও তার ফেসবুক অনুসারিরা তুচ্ছ যেকোন কাজের ছবি ফেসবুকে প্রচার করে তার প্রচারসর্বস্ব কাজের প্রচার করেছে গত সাড়ে চারবছর ধরে। তাই সে মূলত: ফেসবুক মেয়র, জনগণের মেয়র হতে পারেনি।’
আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন চাইলে এবং পাওয়ার ব্যাপারেও আশাবাদী হাবিবুর রহমান বলেন- ‘আমি দ্বিতীয়বার মেয়র থাকা অবস্থাতেই দলীয় প্রার্থী আব্দুল মতিনকে ছাড় দিয়েছি, গতবছর দলের শীর্ষ নেতৃত্বের অনুরোধে নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে গেছি। সুতরাং দল নিশ্চয়ই এবার আমার ত্যাগ ও সেক্রেফাইসকে মূল্যায়ন করবে।’
দলীয় মনোনয়নে পাওয়ার ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদি হাবিব বলেছেন, ‘দলীয় মনোনয়ন চাইব,দল মনোনয়ন দিলেই নির্বাচন করব। দলীয় সমর্থন ছাড়া নির্বাচন করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন রাঙামাটির নির্বাচনী রাজনীতিতে কূশলী খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিত এই সাবেক মেয়র।
হাবিব বলেন, এই মেয়াদে রাঙামাটি পৌরসভায় এমন কোন উন্নয়ন কাজ হয়নি,যে কারণে মানুষ এই মেয়রকে ভোট দেবেন। সুতরাং আওয়ামীলীগের মেয়র পদ ধরে রাখতে হলে অবশ্যই প্রার্থী পরিবর্তন করতে হবে এবং সেই পরিবর্তনে আমিই দলকে মেয়র পদ ধরে রেখে বিজয়ী হতে সবচে নিশ্চিত প্রার্থী হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারব বলেই আমার বিশ্বাস।’
বর্তমান মেয়রের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অদুরদর্শিতাকে ‘অভিজ্ঞতা ও সমন্বয়হীনতা’র ফল মন্তব্য করে হাবিবুর রহমান বলেন, ‘বর্তমান মেয়র একটি নির্দিষ্ট সার্কেলে বন্দী,জনগণের সাথে তার সম্পর্ক নাই। সে কিছু নিজস্ব মানুষের মেয়র ছাড়া সবার মেয়র হতে পারেননি।’
সাবেক মেয়র হাবিব বলেন, ‘আমি পুরো শহরে অসংখ্য ডাস্টবিন করেছি, আমার সময়ে শহর অনেক পরিচ্ছন্ন ছিলো, এখন সেই ডাস্টবিনগুলো উধাও! অস্থায়ী ডাস্টবিন দিয়ে যদি আবর্জনা ঠিকমতো পরিষ্কার করতে পারতো, তাও হতো, সেটাও তো পারেননি। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এত সহজ বিষয় না।’
বিগত পাঁচ বছরে পৌরবাসি কাঙ্ক্ষিত সেবা পায়নি দাবি করে হাবিব বলেন, একজন মেয়রের দূরদর্শী নগর পরিকল্পনা থাকতে হবে, কোন কাজটি নগরবাসির আগে সমাধান করা দরকার সেটার অগ্রাধিকার ও গুরুত্ব বুঝতে হবে।’
তার বিরদ্ধে সাম্প্রদায়িকতা ও আঞ্চলিকতাকে পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, যারা আমার জনপ্রিয়তাকে ভয় পায় এবং ঈর্ষান্বিত,তারাই এসব অপপ্রচার করেন। আমি কখনই এসবকে প্রশ্রয় দেইনি।’ তিনি বলেন, ‘আমার সময়কালে পৌরসেবা,কর্মচারি নিয়োগ, জনস্পৃক্ততার বিষয়গুলো মনে করলেই দেখবেন, আমি সবার মেয়র হিসেবেই সব কিছু করেছি।’
গত দুইমেয়াদে মেয়র না থেকেও দল থেকে দূরে ছিলেন না দাবি করে হাবিবুর রহমান বলেন, গত পৌরসভা নির্বাচনে আমি নির্বাচন থেকে সরে গিয়ে দলীয় প্রার্থী আকবরের জন্য কাজ করেছি। সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার পক্ষে প্রচারাভিযান করেছি। জেলা সম্মেলনসহ দলের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি সময়েই পাশে ছিলাম এবং আছি, তাহলে কারা দাবি করে যে আমি নেই? আমি মেয়র পদে মনোনয়ন পেলেও আওয়ামীলীগ, না পেলেও আওয়ামীলীগ, কারণ আওয়ামীলীগ এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও জননেত্রী শেখ হাসিনার চেতনা আমার রক্তে প্রবাহিত। আর যাই করি,দলের সাথে কখনই বিশ্বাসঘাতকতা করিনি, করবও না।’
‘আকবর ব্যর্থ মেয়র’-মন্তব্য করে হাবিবুর রহমান বলেন, এই পৌরসভাতে গত পাঁচ বছরে অনেক কিছুই হতে পারত, আমাদের দল ক্ষমতায়, অনেক বরাদ্দ আনার সুযোগ ছিলো, অনেক উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা সম্ভব ছিলো। কিন্তু কিছুই হলো না। যা হয়েছে, সেসব নিয়েও নানান প্রশ্ন আছে, অভিযোগ আছে, বিতর্ক আছে।’
রাঙামাটি পৌরসভা ও রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের মধ্যে সম্প্রতি ডাস্টবিন নিয়ে সৃষ্ট বিতর্ককে ‘অযাচিত ও অপ্রয়োজনীয়’ মন্তব্য করে হাবিবুর রহমান বলেন, পৌর এলাকার মধ্যে যদি সড়কে বা যা কোন স্থানে কোন শিশুও মলত্যাগ করে, তা পরিষ্কার করতে বাধ্য পৌরসভা। সুতরাং কেউ উপযাচক হয়ে যদি ডাস্টবিন দেয়,সেটি নিলে ক্ষতি কি?’
‘সেই ময়লা পরিষ্কার করব না’ বলে যে ঘোষণা পৌর মেয়র দিয়েছিলেন, সেটা ‘বিবেচক মন্তব্য’ ছিলো না। পৌরমেয়রকে আরও বেশি বোধবুদ্ধিসম্পন্ন হওয়া উচিত’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দু’চারজন ছাড়া জেলা আওয়ামীলীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সহযোগিতা এবং সমর্থন পাওয়ার আশা ব্যক্ত করে হাবিব বলেন, ‘আমিতো হুট করে উড়ে আসা আওয়ামীলীগার না, দীর্ঘপথ পাড়ি দেয়া আওয়ামীলীগার। এরা প্রায় সবাই’ই আমার দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত সহকর্মী। তারা আমাকে চেনে, আমিও তাদের। সুতরাং এবার তারা আমাকেই মনোনয়ন দিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে আমি মনে করি।’
মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী হাবিবুর রহমান বলেন,দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয়, তবে দলের প্রতীক এবং আমার ইমেজ, দুটি মিলেই আমার জয় নিশ্চিত। সেই সাথে আমি আরেকটা কথা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, আমাকে মনোনয়ন দিলে আমার ভোটার ও দলের নেতাকর্মীরাই যথেষ্ট আমাকে বিজয়ী করতে। আমার জন্য উপজেলা থেকে ‘ভূয়া ভোটার’ ভাড়া করে আনতে হবেনা। পৌরবাসির ভোটের অধিকার কেড়ে নিতে হবেনা। অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমেই আমি বিজয়ী হয়ে দলের প্রতীকের মর্যাদা রক্ষা করব।’
প্রসঙ্গত, রাঙামাটি জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক প্রভাবশালী এই নেতা, দুই মেয়াদে রাঙামাটি পৌরসভার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি জেলা আওয়ামীলীগের স্থগিত কাউন্সিলেও কাউন্সিলর ছিলেন।
