জিয়াউল জিয়া ও মিশু মল্লিক
রাঙামাটির কাপ্তাই-আসামবস্তি সড়কে সংযোগকারী মোট চারটি সেতুর উদ্বোধন করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার এমপি এই সেতুগুলোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এই সময় স্থানীয় সরকার প্রকৌশর অধিদপ্তর রাঙামাটি জেলার প্রকৌশলী, কর্মকর্তাসহ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধন হওয়া চারটি সেতুর প্রথম সেতুটি তবলছড়িকে আসামবস্তির সাথে সংযুক্ত করেছে। বাকি তিনটি সেতু হলো রাঙামাটি কাপ্তাই সংযোগ সেতু। এই চারটি সেতুই স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর রাঙামাটি জেলা কতৃক বাস্তবায়ন করা হয়েছে। চারটি সেতুর মধ্যে আসামবস্তি কাপ্তাই সড়কে অবস্থিত তিনটি সেতু পর্যটন সম্ভাবনার জন্যও এক নতুন দ্বার উন্মোচন হয়েছে বলে মন্তব্য সংশ্লিষ্টদের। এলজিইডি সূত্র থেকে জানা যায়, আসামবস্তি-কাপ্তাই সড়কে ৪৮, ১২০, ৯৬ ও ৪৮ ফুটের মোট চারটি নতুন সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। এর মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৫ কোটি টাকা।
রাঙামাটির আসামবস্তি কাপ্তাই সংযোগ সড়কটি রাঙামাটির স্থানীয় মানুষসহ পর্যটকদের কাছে একটি আকর্ষণীয় সড়ক হিসেবে পরিচিত। অনেকেই এটিকে মুগ্ধতার সড়ক বলে থাকে। সেই আকর্ষণীয় সড়কে উদ্বোধন হওয়া তিনটি সেতু এই সড়কের সৌন্দর্যকে বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েকগুণ। কারণ প্রত্যেকটি সেতুতে দাঁড়িয়েই উপভোগ করা যায় কাপ্তাই হ্রদের নীল জলরাশির এবং সুবিশাল পাহাড়ের সৌন্দর্য্য।
আসামবস্তি কাপ্তাই সড়কে যাতায়াতকারী অমৃত গুপ্ত বলেন, দীর্ঘদিন যাবত এই সেতুগুলোর নির্মাণকাজ চলছিল। বেশ কিছুদিন আগে নির্মাণকাজ শেষে আজ উদ্বোধন হলো। এতে আমাদের এলাকাবাসীর কষ্ট অনেকটাই কমে গেল। কাজ চলাকালীন সময়ে আমাদেরকে বড়ইছড়ি হয়ে কাপ্তাই যেতে হতো, যা ছিল যথেষ্ট সময় ও ব্যায়সাপেক্ষ। সেতুগুলোর উদ্বোধন হওয়াতে আমরা অনেক খুশি।
সিএনজি চালক প্রকাশ চাকমা বলেন, প্রায় দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে এই সড়কটি বন্ধ থাকাতে আমাদের চলাচলে খুব অসুবিধা হতো। সেতুগুলো তৈরি হওয়াতে আমাদের কষ্ট শেষ হলো।
সেতুর উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে সাংসদ দীপংকর তালুকদার বলেন, আমরা ইতিমধ্যেই বরকলের দুর্গম ঠেগামুখ পর্যন্ত রাস্তা নেয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। ওখানে ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে স্থলবন্দর হবে। কারিগরপাড়া থেকে বিলাইছড়ি পর্যন্ত রাস্তার কাজ এলজিইডির মাধ্যমে চলমান আছে। এইসব রাস্তা যোগাযোগ ব্যবস্থার অনেক উন্নতি সাধন করবে। উদ্বোধন হওয়া এই সেতুগুলো এমন একটি সড়কে অবস্থিত যা রাঙামাটিসহ সারা বাংলাদেশের মানুষের কাছে পরিচিত। আমি মনে করি এই সেতুগুলো রাঙামাটির পর্যটন শিল্পের বিকাশে এক অনবদ্য ভূমিকা রাখবে।
এলজিইডি রাঙামাটির নির্বাহী প্রকৌশলী আহামদ শফী বলেন, ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এই চারটি সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করেছি আমরা। এই সেতুগুলো আমরা খুবই মানসম্মতভাবে তৈরি করেছি। এই সেতুগুলো দারুণ সুন্দর একটা সড়কে তৈরি করা হয়েছে। অনেক দেশি বিদেশি পর্যটক এই সড়কে আসেন। আমি মনে করি এই সেতুগুলো পর্যটনে অনেক ভালো ভূমিকা রাখবে।
সেতু বাস্তবায়নকারী ঠিকাদার জসিম উদ্দিন বলেন, সেতুগুলোর কাজ শেষ করতে আমাদের দেড় বছরের মত সময় লেগেছে। চারটি সেতুর মধ্যে তবলছড়ি-আসামবস্তি সেতুটির দৈর্ঘ্য ৪৮ মিটার এবং আসামবস্তি কাপ্তাই সড়কে অবস্থিত বাকি তিনটি সেতুর দৈর্ঘ্য ১২০ মিটার, ৯৬ মিটার এবং ৪৮ মিটার। এই সেতুগুলো পর্যটকদের মনযোগ আকর্ষণে দারুণ ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
