নিজস্ব প্রতিবেদক
পার্বত্য অঞ্চলের মুক্তিযুদ্ধ ও গণহত্যার চিত্র নিয়ে নাটক ‘রক্তে ভেজা গৌরব গাঁথা’ মঞ্চস্থ হলো খাগড়াছড়িতে। মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার জন্য বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ও সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রনালয়ের উদ্যোগে এই পরিবেশ থিয়েটার এর সার্বিক সহায়তা করেছে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ। নাটকটি রচনা করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সুবীর মহাজন,তথ্য গবেষণায় ছিলেন সাংবাদিক ইয়াছিন রানা সোহেল। স্থানীয় অভিনয় শিল্পীদের অংশগ্রহনে নাটকটি দেখে অভিভূত অতিথি ও দর্শকরা। তারা এই ধরণের নাটক বারবার করার আহবান জানিয়েছেন।
পাহাড়বেষ্টিত খাগড়াছড়ির বিসিক মাঠে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সোয়া একঘন্টার বিরতিহীন মঞ্চ নাটক ‘রক্তে ভেজা গৌরব গাঁথা’ দেখতে কয়েক‘শ দর্শক হাজির হয়েছিলেন। ভাষা আন্দোলন, ৬দফা আন্দোলন এবং ৭০ এর নির্বাচনের প্রেক্ষাপট দিয়ে নাটকের সূচনা। এরপর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষনে উজ্জীবিত বাঙ্গালীরা স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েন। মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকবাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার আলবদরদের নির্যাতন, গণহত্যা, শরনার্থী জীবন এবং সে সময়কার পাহাড়ের কঠিন জীবনযাত্রা তুলে ধরা হয় নাটকে। বিশেষত: ২৭ এপ্রিল মহালছড়িতে ক্যাপ্টেন আফতাবুল কাদের বীর উত্তম এর শাহাদাতবরণ, ২০ জুন তাইন্দং গণহত্যা, ধর্ষন, লাঞ্চনা, মং সার্কেল চীফ মংপ্রু সাইন এর অবদান প্রভৃতি উঠে আসে নাটকে বিভিন্ন চরিত্রের মাধ্যমে। মুক্তিযুদ্ধের লোমহর্ষক নানা ঘটনা প্রবাহ ছাড়াও পাহাড়ি সংস্কৃতি ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়। নাটকের শেষভাবে রামগড়, মানিকছড়ি ও খাগড়াছড়ির কুকিছড়ায় সম্মুখ যুদ্ধে পাকবাহিনীকে হটিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন শরনার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্স চেয়ারম্যান কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মংসুইপ্রু চৌধুরী, সেনাবাহিনীর খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, বিজিবি‘র সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল মোহাম্মদ জাহাঙ্গির হোসেন, জেলা পরিষদের মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ বশিরুল হক ভূঞা, পুলিশ সুপার আব্দুল আজিজ, বীর মুক্তিযোদ্ধা রণ বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা, শহিদ পরিবারের সদস্যগণসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনিক ব্যক্তিবর্গ।
এই নাটকে মুক্তিযুদ্ধে বাঙ্গালীদের পাশাপাশি পাহাড়িদের অংশগ্রহন, ত্যাগ ও অবদান; নানা চরিত্রে ফুটিয়ে তোলেন জেলা শিল্পকলা একাডেমির খুদে অভিনয় শিল্পীরা। স্বাধীনতার ৫০ বছর পরে হলেও এ ধরণের নাটক মঞ্চস্থ হওয়ায় অভিভূত স্থানীয় পাহাড়ি ও বাঙ্গালীরা। নাটকের উপস্থাপনা শৈলী ও আবহ সঙ্গীতে মন কাড়ে দর্শকদের। বিশেষ করে তাইন্দং গণহত্যার ঘটনা নিজের চোখে দেখে অনেকেই হতবাক। এছাড়া নাটকের স্থান নির্বাচন, নেপথ্য শব্দ সম্ভার এবং আলোকসজ্জায় মুগ্ধ হন দর্শকরা। মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্টজনরা এ ধরণের নাটক বারবার মঞ্চস্থ করার ওপর জোর দিয়েছেন।
এই অঞ্চলের অনেকটা অনুল্লেখ্য মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি সংরক্ষনে পরিবেশ নাটকটি ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন অনেকে। একইসাথে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিকাশে জেলার মানুষের জানার আরো সুযোগ তৈরি হবে এমন উদ্যোগে।
