মাটিরাঙ্গা প্রতিনিধি ॥
সারাদেশের মতো কনকনে হিমেল হাওয়া আর ঘনকুয়াশায় পাহাড়ে শীতের তীব্রতা বেড়েই চলছে। তীব্র শীতে কষ্টের শেষ নেই পাহাড়ের খেটে খাওয়া হতদরিদ্র অসহায় পাহাড়ি-বাঙালিদের। পাহাড়ের হতদরিদ্র মানুষের শীতের কষ্ট লাঘবে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে খাগড়াছড়ির গুইমারা রিজিয়নের আওতাধীন মাটিরাঙ্গা জোন। খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় মোটা কম্বলে উষ্ণতা ছড়ালো সেনাবাহিনী।
রোববার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে মাটিরাঙ্গা সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে চার শতাধিক বিধবা, অসহায় ও হতদরিদ্র শীতার্ত মানষের মাঝে কম্বল বিতরণ করেন গুইমারা রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মোয়াজ্জেম হোসেন এনডিসি, এমফডব্লিউসি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে মাটিরাঙ্গা সেনা জোন এ আয়োজন করে।
শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে মাটিরাঙ্গা জোনের জোন অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ নওরোজ নিকোশিয়ার পিএসসি, জি নবাগত জোন কমান্ডার লে.কর্নেল মো: মোহসীন হাসান ও গুইমারা রিজিয়নের জিটুআই মেজর মইনুল আলম ছাড়াও উর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গুইমারা রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মোয়াজ্জেম হোসেন এনডিসি, এএফডব্লিউসি বলেন, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হচ্ছে দেশপ্রেম, দেশ রক্ষা এবং জনগনের সেবা করা। আজকের এ দিন আমাদের সে চেতনাকেই মনে করিয়ে দেয়। আজকের এ দিনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন। জাতির পিতার সম্মানে আমরা সাধারন মানুষের মাঝে শীত বস্ত্র বিতরনের উদ্যোগ নিয়েছি।
তিনি বলেন, সেনাবাহিনী সব সময় পাহাড়ের দুর্গম জনপদে অসহায় সুবিধাবঞ্চিত মানুষের চিকিৎসা সেবা প্রদান করে আসছে। ভবিষ্যতেও সেনাবাহিনীর সবধরনের মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। সেনাবাহিনী মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বুকে ধারন করে পাহাড়ের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য কাজ করে যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সেনাবাহিনীর দেয়া কম্বলে শীত নিবারণের কথা জানিয়ে মাটিরাঙ্গার চক্রপাড়ার ষার্টোর্ধ্ব আলো রানী চাকমা ও পাইচান্দা মারমা বলেন, সেনাবাহিনী সবসময় আমাদের সাহায্য সহযোগিতা করে। এই শীতেও সেনাবাহিনী আমাদের কম্বল দিয়ে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। একই ভাবে সেনাবাহিনীর জন্য দোয়া করে নবীনগরের বিধবা হাসিনা বেগম বলেন, এই কম্বলে আমার কষ্টের লাঘব হবে।
