লংগদু প্রতিনিধি
‘লংগদু উপজেলার প্রতিটি গ্রামে ভূমি সংক্রান্ত নানা অনিয়ম যেন দিন দিন বেড়েই চলছে। এসব অনিয়মের পেছনে স্থানীয় দালাল চক্র বড় ভূমিকা পালন করছে। তাদের সাথে ভূমি অফিসের অসাধু কর্মচারীরাও জড়িত বলে অভিযোগ করেন কমিটির বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। তারা আরো বলেন, দালালদের সহযোগীতা ছাড়া কোনো কাজ হয়না ভূমি অফিসে। বড় অংকের টাকার বিনিময়ে যে কোনো কঠিন ও অসম্ভব কাজকেও তারা সহজ করে দেন নানা জালিয়াতির মাধ্যমে। অভিযোগ আছে স্থানীয় হেডম্যানদের সাক্ষর জালিয়াতির সাথেও জড়িত একাধিক দালাল।,
রাঙামাটির লংগদুতে উপজেলা প্রশাসনের মে মাসের আইনশৃঙ্খলা সভায় ভূমি অফিসকে দালাল মুক্ত করার দাবি করেন কমিটির সদস্যরা। সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এই সংকট সমাধানের দাবি করা হয়।
এসময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) জনি রায় বলেন, আপনাদের বক্তব্যে মনে হচ্ছে এই সমস্যা দীর্ঘদিনের। কে দালাল কে সেবাগ্রহীতা সেটা হয়তো আমার একার পক্ষে জানা সম্ভব না। তবে আপনাদের সহযোগীতা পেলে অবশ্যই এই সমস্যা সমাধানের জন্য কাজ করবো। আপনারা আমার উপর আস্থা রাখতে পারেন। আমি যতদিন এই দায়িত্বে আছি ততদিন ভূমি অফিসে কোনো অনিয়ম হতে দিবো না।
কমিটির উপদেষ্টা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল বারেক সরকার বলেন, ভূমি অফিসকে দালালমুক্ত না করে ভূমি নিয়ে নানা রকমের বিরোধ নিষ্পত্তি করা প্রায় অসম্ভব। স্থানীয় দাললরা এতো বেশি ক্ষমতাবান তারা নিজেরাই অসহায় মানুষকে মামলা মোকাদ্দমায় জড়িয়ে নিস্ব করে দিচ্ছে। ভূমি অফিসের অন্যতম দালাল আব্দুল মালেক শুধু দালালি করে না, তিনি একজন ভূমিদস্যুও। তার নিজেরই ১৫/২০ টা মামলা আছে ভূমি নিয়ে।
উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মীর সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, স্থানীয় দালালদের কারনে ভূমি নিয়ে বিরোধ লেগেই আছে। এ সমস্যার সমাধান করতে হলে ভূমি অফিসকে দালালমুক্ত করার বিকল্প নাই।
প্রবীন সাংবাদিক ও স্থানীয় হেডম্যান এখলাস মিঞা খান বলেন, হেডম্যানদের স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় সময় দালালরা জমির নামজারি ও শুনানীর ব্যবস্থা করেন। এমনকি ভূয়া জমির মালিক সাজিয়ে ভূমি কেনা বেচার সাথেও দালাল চক্র জড়িত। এবং স্থানীয় চেয়ারম্যান মেম্বাররা ভূমি বিরোধের নিষ্পত্তির সময় হেডম্যানদের সহযোগিতা নেন না। ফলে সমস্যার সঠিক সমাধানও বাঁধাগ্রস্থ হয়।
সাংবাদিক আরমান খান বলেন, একটা সরকারি অফিসে নিয়োগকৃত কর্মকর্তা ও কর্মচারী থাকার পরেও কেন দালালের প্রয়োজন হবে। দালাল ছাড়া সাধারণ মানুষের কোনো কাজেই হাত দেয়না অফিসের কর্মকর্তারা। এভাবে একটা সরকারি অফিস দালাল নির্ভর হলে সাধারন মানুষ সেবা থেকে বঞ্চিত হবে। এতে করে মানুষের ভোগান্তি দিন দিন বেড়েই চলছে। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হওয়া দরকার।
সভায় এ বিষয় ছাড়াও লংগদু কৃষি ব্যাংক দালালমুক্ত করা, বিদ্যুৎ বিভাগের নানা অনিয়ম দূর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গত দেড় বছর ধরে চলমান লংগদু হতে মাইনীমূখ সড়কের নির্মানকাজের ধীরগতির অবসান চেয়ে এবং কাজটি দ্রুত শেষ করারা দাবি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্যরা।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনি রায়’র সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, লংগদু থানার প্রতিনিধি এসআই শাহাবুর আলম, আটারকছড়া ইউপি চেয়ারম্যান অজয় মিত্র চাকমা, মাইনীমূখ ইউপি চেয়ারম্যান কামাল হোসেন কমল, বগাচত্বর ইউপি চেয়ারম্যান আবুল বাশার, শিক্ষক হাজী ফোরকান আহাম্মেদ, সাংবাদিক ওমর ফারুক মুছা প্রমূখ।
Previous Articleদীঘিনালায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় লক্ষন চন্দ্র দাশ নিহত
Next Article হাতির আক্রমনে তাপসী চাকমার মৃত্যু
