রাঙামাটি জেলা সদরের ৫নং বন্দুক ভাঙ্গা ইউনিয়নের ভারবোয়াচাপ বন বিহারে ২২ তম দানোত্তম কঠিন চীবর দান ধর্মীয় ভাব মর্যাদায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। কুমড়া পাড়ার কৃষ্ণ চন্দ্র চাকমার বড় ছেলে প্রবীণ চাকমার ব্যক্তিগত আর্থিক সহযোগিতা ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় বৌদ্ধদের অন্যতম দানোত্তম উৎসব ‘কঠিন চীবর দান’ সম্পন্ন করা হয়েছে। ‘কঠিন চীবর দান’ শব্দটি গৌতম বুদ্ধের সময় থেকে প্রচলিত হয়ে আসছে। মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তুলা কেটে, সুতা বানিয়ে, রং করে, নানা রকম আচার ও নিয়ম মেনে একেকটি চীবর তৈরি করার কাজটি খুব বেশি কঠিন বলেই অনুষ্ঠানের এই নাম দেওয়া হয়েছে দানোত্তম কঠিন চীবর দান। তারই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাত ১১ টার দিকে শুরু হয় চীবর বুননের মধ্য দিয়ে ২ দিন ব্যাপী দানোত্তম কঠিন চীবর দান শুরু হয়।। সারা রাত চীবর বুননের মধ্যে দিয়ে ১৩ই অক্টোবর (শুক্রবার) সকালে বিভিন্ন এলাকা শাখা বন বিহার থেকে ভিক্ষু সংঘ আগমণের মধ্যে দিয়ে দানানুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয়েছে।
সকাল সাতটায় বুদ্ধ পতাকা উত্তোলন করে নয়টায় ভিক্ষু সংঘ আগমনের মধ্যে দিয়ে বক্রবহন চাকমা অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় মধ্যে দিয়ে ধর্মীয় সংগীত পরিবেশন করেন সুপ্রভা চাকমা। অনুষ্ঠানে দায়ক-দায়িকা ও পূণ্যার্থীদের পক্ষ থেকে পঞ্চশীল প্রার্থনা করেন ভারবোয়াচাপ বন বিহার পরিচালনা কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি মায়াধন চাকমা।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন প্রবীণ চাকমা এবং ব নয়ন তারা চাকমা। এছাড়া বিশেষ প্রার্থনা পাঠ করেন সমাজ সেবক, শিক্ষক রণবীর চাকমা।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশরে সকল সম্প্রদায় ও বিশ্ব জাতির মঙ্গল ও অতীতে দেব মানুষের মুক্তির কামনায় বুদ্ধ মূর্তি দান, সীবলী পূজা, কঠিন চীবর উৎসর্গ, সংঘ দান, অষ্টপরিষ্কার দান কল্পতরু দান, হাজার প্রদীপ দান, পিন্ডদানসহ নানাবিধ দান অনুষ্ঠিত হয়।
বৌদ্ধ জাতির মহা দান কঠিন চীবর দান উপলক্ষে অমৃতময় বুদ্ধের বাণী প্রদান করেন খাগড়াছড়ির শান্তিপুর অরণ্য কুটিরের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ শাসন রক্ষিত মহাস্থবির, নির্বাণপুর বনবিহারের অধ্যক্ষ জ্যোতিসার মহাস্থবির, রাঙামাটি রাজবন বিহারের ভিক্ষু সংঘ দেশনা প্রদান করেন।

১ Comment
Rmt… Koto.. Tarekhe