জাতীয় গণহত্যা দিবস- ও ২৫ মার্চ কালরাত্রি স্মরণে রোববার রাতে সারাদেশে এক মিনিট ব্ল্যাকআউট কর্মসূচি পালন করার কথা থাকলেও রাঙামাটিতে তা লক্ষ্য করা যায়নি। বিচ্ছিন্ন দুয়েকটা ঘটনা ছাড়া শহরের বেশিরভাগ নাগরিকই অনুসরণ করেনি সরকারি নির্দেশনা। তবে জেলা প্রশাসন নিজেরা কর্মসূচীটি পালন করেছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশীদ। কিন্তু জেলাবাসি পালন না করাটাকে ‘দু:খজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। তবে সচেতন মহল বলছেন,এই সংক্রান্ত ‘দুর্বল প্রচারণা’ই এর জন্য দায়ি।
জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাত ৯টা থেকে ৯টা ১ মিনিট পর্যন্ত এক মিনিটের ব্ল্যাকআউট কর্মসূচি পালন করায় কথা থাকলেও রাঙামাটিবাসী কমর্সূচি পালনে সচেতন ছিলো না। দেখা গেছে শহরের অধিকাংশ মার্কেট, বাসাবাড়িতেই জ্বলে ছিলো। সাধারণ মানুষের এ ধরণের কার্যক্রমকে লজ্জাকর ও অসচেতনতা হিসেবেই অভিহিত করেছেন অনেকেই।
শহরের রিজার্ভ বাজার বাসিন্দা মিশু দে বলেন, ভয়াল ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীতে এদেশে বর্বর হত্যাযজ্ঞ চালায়। সেই দিন থেকে বাঙালির কাছে এটি ২৫ মার্চ কালরাত্রি পালিত হয়ে আসছে। আর এই দিনে সরকারি ভাবে একটি কর্মসূচি পালন করার কথা থাকলেও রাঙামাটিবাসী অসচেতনতার পরিচয় দিয়েছে। যা সত্যিই দুঃখজনক।
রাঙামাটি কলেজের ছাত্র উৎস চৌধুরি বলেন, এটি পুরো রাঙামাটিবাসীর জন্যই লজ্জার। জাতির শোকের এই দিনকে সবারই উচিত ছিলো শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা।
এবিষয়ে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশিদ বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্ল্যাকআউট কর্মসূচি পালন করার জন্য মাইকিং করা হয়েছে। এছাড়া সকল সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারিদের এ বিষয়ে অবগত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পিডিবি থেকে একটি বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করার কথা থাকলেও যান্ত্রিক সমস্যার কারণে তা বন্ধ করা যায়নি। আর এই কর্মসূচি পালন করাতো আমাদের সকলেরই নৈতিক দায়িত্ব। সেখানে কেউ যদি নিজ দায়িত্ব নিয়ে কর্মসূচীটি পালন না করে প্রশাসন কি করবে। তবে বিষয়টা খুবই দুঃখজনক। সবার উচিত ছিলো এটা পালনের নির্দেশনা অনুসরণ করা।
১৯৭১ সালের ভয়াল ২৫ মার্চ কালরাতের প্রথম প্রহর স্মরণ করে রবিবার সারাদেশে সব ধরনের বাতি এক মিনিট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। গত ১১ মার্চ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছিল।
জাতীয় সংসদের স্বীকৃতির পর একাত্তরের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বর হত্যাযজ্ঞের দিনটিকে গতবছর ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।
বাঙালির মুক্তির আন্দোলন নস্যাৎ করতে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে এ দেশের নিরস্ত্র মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী।
‘অপারেশন সার্চ লাইট’ নামের সেই অভিযানে কালরাতের প্রথম প্রহরে ঢাকায় চালানো হয় গণহত্যা। যাতে প্রাণ হারায় কয়েক হাজার মানুষ।

১ Comment
রিজার্ভ বাজার বাসিন্দা মিশু দে তো বাল ইউনিয়ন এর দালাল।
এই হালা মুক্তিযুদ্ধার সমর্পরকে কি জানে