দেশের সংকটকালীন মুহুর্তে কিছু রাজনৈতিক আর সমাজসেবক কৌশলে গা ঢাকা দিয়ে থাকেন। ভাবটা এমন যেনো দেশের সব স্বাভাবিক তাই তার কোনো দায়-দায়িত্বও নেই। কিন্তু এসব সংকটময় মুহুর্তে কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তি হয়ে ওঠেন সার্বজনীন। রাজপথে কে পক্ষের বা কে বিপক্ষের চিন্তা করলেও সংকটময় মুহুর্তে তখন তাদের সেসব মাথায় থাকেনা। ঝাঁপিয়ে পড়েন মানবতার সেবায়। মানুষের জন্য কাজ করতে গিয়ে নিজের দলীয় লোকজনদের কাছে এসব নেতা নিজের দলের ত্যাগী ও দুঃসময়ের বন্ধু হিসেবে তাদের মনে আস্থায় ঠাঁই করে নেন। আবার সাধারন লোকজনের কাছে নিখাদ ও নিঃস্বার্থ একজন সমাজসেবক হিসেবে পরিগনিত হয়। বিরোধী পক্ষের কাছে মানবতার সেবক হিসেবে ভালবাসার মানুষ হয়ে ওঠে। তেমনি দলমত নির্বিশেষে সকলের কাছে একজন ত্যাগী, পরিশ্রমী ও বিপদের বন্ধু হিসেবেই পরিগনিত হয়েছেন হাজী মোঃ মুছা মাতব্বর। রাজনৈতিক পরিচয়ে তিনি জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক, জেলা পরিষদের সদস্য, সামাজিক পরিচয়ে তিনি কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও তাঁর পিতা মরহুম আবদুল বারী মাতব্বর ফাউন্ডেশনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক।
অথচ করোনা সংকট শুরুর ঠিক পূর্বেই রাঙামাটি আওয়ামীলীগের জেলা সম্মেলন হওয়ার কথা। কত প্রার্থীই তখন মাঠে। কি ব্যাপক প্রচার অপপ্রচার। কিন্তু নিয়তির কি কঠিন বাস্তবতা, মানুষের এই ক্রান্তিকালে,নেতাকর্মীদের বিপন্ন সময়ে সেইসব নেতারা সব যেনো কোথায় হারিয়ে গেছেন ! যেনো কারো কোন দায়িত্ব নেই,চেষ্টা নেই,সহযোগিতা করতে মানা মানুষকে ! এনিয়ে ব্যাপক ও বিরূপ সমালোচনাও করছেন সাধারন নেতাকর্মীরা। মানুষের বিপন্ন সময়ে পাশে দাঁড়িয়ে বরাবরের মতোই নিজের হৃদয়ের উচ্চতাটা ফের যেনো বুঝিয়ে দিলেন রাঙামাটি আওয়ামীলীগের সেক্রেটারি মুছা।
নিখাদ ভাল মানুষ হিসেবেই রাঙামাটি শহরে পরিচিত মুখ হাজী মোঃ মুছা মাতব্বর; পারিবারিক ঐতিহ্য আর ব্যক্তি ইমেজের কারণে রাঙামাটি সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলমত সকলের ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও পরে জেলা পরিষদের সদস্য হয়েই বেড়ে যায় তাঁর কর্মযজ্ঞ। স্বল্পভাষী হাজী মোঃ মুছা মাতব্বর যেসব প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নিয়েছেন সব প্রতিষ্ঠানকেই অবকাঠামোসহ সবদিকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার চেষ্টা করেছেন এবং তিনি সফলও হয়েছেন।
সম্প্রতি করোনা সংক্রমনের ফলে অন্য অনেক নেতার মত তিনিও ঘরে বসে থাকতে পারতেন কিন্তু তিনি রাতদিন ছুটেছেন লোকজনের সহায়তা প্রদানে। সারাদেশে লক ডাউন শুরু হওয়ার পর তিনি নিজ উদ্যোগে দেড় হাজার মাস্ক বিতরণ করেন। সাধারন লোকজনের খাদ্য সহায়তায়ও দিনরাত পরিশ্রম করে চলেছেন। ব্যক্তিগত উদ্যোগে পৌর এলাকার আট শতাধিক পরিবারকে চাল কেনার নগদ অর্থ প্রদান করেন। শহীদ আবদুল আলী একাডেমি স্কুল এন্ড কলেজের মার্চ ও এপ্রিল মাসের তিনটি নির্ধারিত অনুষ্ঠান স্থগিত করে সেসব অনুষ্ঠানের টাকা ও নিজের ব্যক্তিগত টাকা দিয়ে স্কুলের ছয়শত অভিভাবকদের খাদ্য সহায়তা প্রদান করেছেন।

তাঁর সহধর্মিনী শামীমা আকতার প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত মরহুম আবদুল বারী মাতব্বর ফাউন্ডেশনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হাজী মোঃ মুছা মাতব্বর। এই ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ও নিজ খরচে রমজানের শুরুতে প্রায় তিন শতাধিক পরিবারের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করেন। এছাড়াও রমজান মাসে উক্ত ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে রাঙামাটি শহরের আনাচে কানাছে প্রায় ১২ হাজার পরিবারের মাঝে সবজি বিতরণ করেছেন। ছাত্রলীগ নেতা সুলতান মাহমুদ বাপ্পার নেতৃত্বে একদল ছাত্রলীগ কর্মী দিনরাত পরিশ্রম করেছেন এসব ইফতার, ঈদ সামগ্রী ও সবজি বিতরণ করেছেন শহরের অলি-গলি পাড়া মহল্লায়। আড়াই হাজার পরিবারের মাঝে দিয়েছেন ঈদ সামগ্রী। অনেককেই দিয়েছেন নগদ অর্থ সহায়তা। ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে চাল, ডালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী দিয়েছেন প্রায় ছয় হাজার পরিবারের মাঝে। হাজী মোঃ মুছা মাতব্বর বলেন, ‘দেশের সংকটময় মুহুর্তে যেনো কোনো মানুষ না খেয়ে না থাকে সেজন্য নিজের সামর্থ্যানুযায়ী সবটুকু করার চেষ্টা করেছি এবং করছি।’

এসব কাজের পাশাপাশি দশ উপজেলার নেতা কর্মীদের খবরাখবর নিতেও ভুল করেননি দলীয় সাধারন সম্পাদক হাজী মোঃ মুছা মাতব্বর। খবরাখবর নেয়ার পাশাপাশি পৌঁছে দিচ্ছেন প্রয়োজনীয় সহযোগিতা। জেলা পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী এই সদস্য পরিষদের পক্ষ থেকেও সাধারন লোকজনের কাছে সহায়তা পৌঁছানোর পরিকল্পনা ও কাজেও মূখ্য ভুমিকা পালন করেন তিনি। রাজনৈতিক কর্মকান্ড, রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের খবরাখবর নেয়া, সহায়তা প্রদান, জেলা পরিষদের কর্মকান্ডেও সমানে নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন তিনি। এতকিছুর পরেও তাঁর বাসাতেই লোকজন ভীড় করেন দিনে কিংবা রাতে। তাদেরকেও নিরাশ করেন না তিনি এবং তাঁর সহধর্মিনী শামীমা আকতার।

করোনার কঠিন মুহুর্তে হাজী মোঃ মুছা মাতব্বরকে নিজ দলীয় নেতাকর্মীরা একজন নির্ভরযোগ্য ও দুঃসময়ের অভিভাবক হিসেবে পেয়েছেন। আর সাধারন লোকজনের কাছে তিনি নির্ভরযোগ্য সমাজসেবক এবং মানবতাবাদী হাজী মোঃ মুছা মাতব্বর।
