যে জিনিসটা আমরা উচ্ছিষ্ট ভেবে ফেলে দেই সেটাকে ভিন্নরূপে কাজে লাগানো।ছোটবেলায় শেখা ফেলনা দিয়ে খেলনা।।পুরোদস্তুর জেকে বসা শীতে ছুটতে গিয়েই পথের ধারে আগুণ দেখেই থেমে দাঁড়ানো।মোটামুটি আয়োজন করেই বসেছে দুইজন মধ্যবয়সী।অস্থায়ী চুলায় পানির পাত্রের উপর উপুর করে বসানো নারিকেলের আধ মালা।নারিকেল ব্যবহার শেষে যে অংশটুকু উচ্ছিষ্ট ভেবেই ফেলে দেই আমরা।সে অংশটুকু ব্যবহার করা হয়েছে পিঠা বানানোর সাচ হিসেবে।আগ্রহ বেড়ে গেল!নারিকেলের মালার উপরের অংশে যোগ করা হয়েছে বাঁশের কঞ্চি।ভাপ থেকে নামাতে বসাতে যাতে হাতে আঁচ না লাগে!চিনির পুর ভরা চালের গুড়ার মিশ্রনে বানানো হচ্ছে ভাপা পিঠা,এই সাঁচেই।সচারচর যেই আতপ সিদ্ধ চালে পিঠা হয় তা নয় পিঠা হচ্ছে জুমের বিনি ধানের চালে,কালো বিনি।শীতের এই মৌসুমে শহরজুড়ে শীতের পিঠার আয়োজন দেখা যায় শহরের বিভিন্ন অলিগলিতেও।তবে বিনি চালের ভাপা পিঠা এমনটা দেখা মেলে খুব কম।বিনি চালের অন্যান্য পিঠা সহজলভ্য হলেও ভাপা পিঠা সম্পূর্ন ভিন্ন আমেজ,ভিন্ন স্বাদ।দেশীয় ঐতিহ্য পাহাড়ি স্বাদে।চুলা থেকে নামানো গরম গরম পিঠা রাখা হয় কলা পাতার ভাজে,পিঠা আটকে যাতে না যায় তাই এই ব্যবস্থা।পরিচিত পিঠার ভিন্ন রুপই নয় পুরো আয়োজন প্রক্রিয়াটিই অবাক করবে।
হিম আমেজে গৃহস্থালীর যাবতীয় কাজ শেষে দু-বোন অয়ান মে রাখাইন,পেমে রাখাইন বসে পড়েন নিজেদের বাসার সামনেই।পিছনেই বাসা।বাসার সামনের অংশে আবার রয়েছে নিজেদের ছোট্ট একটা খাবার ঘর।যেখানে থাকছে টুকটাক ফাস্টফুড এবং পাহাড়ী খাবার।
রাস্তার ধারে গরম গরম চুলার আগুনের আঁচ মাখতে মাখতেই হাজির হয়ে যাবে গরম গরম ধোঁয়া উঠা ভাপা।ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে ভিড়।মায়েদের পাশে সাহায্যের হাত বাড়াতে একবেলা হাজির হয়ে যায় ছেলে মেয়েও।কালো বিনি চালের গরম গরম ভাপা,শহর রাঙামাটির আসামবস্তির ব্রাক্ষনটিলা ব্রিজে বেড়াতে আসা যে কেউ আরেকটু সামনে এগিয়েই পেয়ে যেতে পারেন জুমের বিনি চালের গরম গরম ভাপা….স্বাদ আপনাকে বারবার টেনে আনবেই।আর সৃষ্টিশীলতাও করবে অবাক।চোখের মনের তৃপ্তি মুখের স্বাদ এক ঢিলে দুই………
Previous Articleদীপংকর তালুকদারকে ‘অনেক চালাক’ বললেন প্রধানমন্ত্রী !
Next Article সমন্বয় না থাকলে উন্নয়ন সম্ভব নয়

১ Comment
Nice