মিল্টন চাকমা, মহালছড়ি
আধুনিক প্রযুক্তির ক্রমবিকাশে পাল্টে যাচ্ছে দুনিয়া। প্রতিনিয়ত উদ্ভাবন হচ্ছে নতুন নতুন আবিষ্কার। মানুষের জনজীবনে পড়ছে এর প্রভাব; গুনগত পরিবর্তন ঘটছে মানুষের জীবনধারায়। এর সুফল পৌঁছেছে পার্বত্য জনপদেও। তবে খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলা সদরের দুইটি গ্রাম বিদ্যুৎবিহীন থাকায় প্রযুক্তি সুবিধাবঞ্চিত গ্রামের বাসিন্দারা। উপজেলা সদর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের মুড়াপাড়া ও যৌথখামার ত্রিপুরা পাড়া নামে পাশাপাশি এ দুটি গ্রাম অবস্থিত। গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় তথ্য প্রযুক্তির যুগে নানা সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে তাদের।
সম্প্রতি মুড়া পাড়া ও যৌথখামার ত্রিপুরা পাড়া সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, মহালছড়ি সদর থেকে মাত্র দেড় কিলোমিটার দূরে পাশাপাশি এ দুটি গ্রাম। বিদ্যুৎ না থাকায় পাচ্ছে না তারা ডিজিটাল যুগের ছোঁয়া। অথচ উপজেলা সদর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরের দুর্গম এলাকায় পৌঁছে গেছে বিদ্যুৎ সংযোগ। এই দুই গ্রামে রয়েছে, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইউনিসেফ পরিচালিত দুটি পাড়াকেন্দ্র, ৩টি বৌদ্ধ বিহার, একটি হরি মন্দির ও একটি ত্রিপুরা ছাত্রাবাস।
গ্রামের বাসিন্দা বিনন্দ ত্রিপুরা বলেন, বিদ্যুতের জন্য আমরা দুই গ্রামের মানুষ দীর্ঘদিন থেকে দাবি করে আসছি। কিন্তু কোন সুফল পাচ্ছি না। গ্রামের পাশ দিয়ে বিদ্যুতের লাইন গেলেও বিদ্যুত পাচ্ছি না আমরা। ফলে শিক্ষার্থীদের বর্তমান সময়ে লেখাপড়া করতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এছাড়া ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানেও বিদ্যুৎ না থাকায় ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি সম্পন্ন করা দুর্ভোগ রয়েছে। দুই গ্রামে ৩ শতাধিক পরিবারের বসবাস। এ মানুষগুলো বিদ্যুতের অভাবে আধুনিক প্রযুক্তির সকল সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। তিনি দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য দোঅংপ্রু মারমা বলেন, এ ব্যাপারে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের রাঙামাটির বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বিতরণ বিভাগে ২০১৭ সালে আবেদন করা হয়েছিলো। ওই বিভাগের একজন কর্মকর্তা সরেজমিনে এসে পরিদর্শনও করে গেছেন। তখন বিদ্যুৎ লাইনের কাজ করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। এরপর অনেকবার যোগাযোগ করা হয়েছে। কিন্তু আজ অবধি কোন ইতিবাচক খবর নেই।
দুই গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকাটা দুর্ভাগ্যজনক বলে মন্তব্য করে মহালছড়ি উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন বলেন, বিষয়টা গুরুত্বসহকারে দেখা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হবে।
জানতে চাইলে মহালছড়ি বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের আবাসিক প্রকৌশলী ইরাতোষ চাকমা এ প্রসঙ্গে বলেন, মহালছড়িতে যোগদান করেছি বেশিদিন হয়নি। ওই এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বিষয় নিয়ে আমার কাছে এখনো কেউ আসেনি। তবে তিনি রাঙামাটি বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন।
