রাঙামাটি শহরের শান্তিনগর এলাকায় করোনা পজিটিভ আসা চার মাসের শিশুটির বাড়ি লক ডাউন করতে গিয়ে প্রশাসন জানতে পারে পাঁচদিন আগেই মারা গেছে শিশুটি।
মঙ্গলবার মধ্যরাতে রাঙামাটি ১৬ জনের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে, তার মধ্যে একজন ছিলেন শহরের শান্তিনগর এলাকায় বাসিন্দা শামিম হোসেন’র চার মাসের কন্যা সন্তান শাওরিন ইসরাত। সংবাদটি পেয়ে রাতেই প্রশাসন তার বাড়ি লক ডাউন করতে গেলে জানতে পারে শিশুটি গত ১১ তারিখ দুপুরেই মারা যান।
শিশুটির বাবা শামিম হোসেন জানান, আমার মেয়ে ১০ তারিখ হঠাৎ করে শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিলো, তাই আমরা তাকে প্রথমে একজন ডাক্তার দেখাই, পরে অবস্থা আরো খারাপ হওয়ায় রাঙামাটি সদর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে একরাত থাকার পরে ডাক্তার আমাদেরকে জানায় তাকে নিয়ে চট্টগ্রাম চলে যেতে। কিন্তু আমি দিনমজুর মানুষ ,অত টাকা নেই মেয়েকে চট্টগ্রাম নেওয়ার। তাই তাকে হাসপাতালে রাখলে নিজের দায়িত্ব নিয়ে রাখতে হবে, তারা কিছু করতে পারবে না, এমনটা বলায় আমি মেয়েকে নিয়ে ১১ তারিখ দুপুর বেলা হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নিয়ে আসতেছিলাম, তখনই সে সিএনজিতেই মারা যায়। পরে তাকে আমরা কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করি।
রাঙামাটি সিভিল সার্জন অফিসের করোনা ফোকাল পার্সন ডা: মোস্তফা কামাল জানান, ১০ জুন শিশুটি নমুনা সংগ্রহ করে পাঠানো হয়েছিলো। ১৬ জুন মধ্যরাতে তার রিপোর্ট আসে। সেখানে দেখা যায় শিশুটির করোনা পজিটিভ। পরে প্রশাসন ও স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি লক ডাউন করতে গেলে জানা যায় শিশুটি গত ১১ তারিখই মারা গেছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রট ও নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এডিসি) উত্তম কুমার দাস জানান, গতকাল রাতে করোনা রিপোর্টে শিশুটি পজিটিভ আসায় প্রশাসন তার বাড়ি লক ডাউন করতে গিয়ে জানতে পারে শিশুটি গত ১১ জুন মারা গেছে। আমরা তার বাড়ি সহ আশপাশের বাড়ি লক ডাউন করেছি এবং তাদের খোঁজ খবর নিচ্ছি।
প্রসঙ্গত, এনিয়ে পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে ০৩ জন মৃত ব্যক্তির করোনা পজিটিভ এসেছে।
