বিকি কিনির হাট জমে এ পথে সকাল বিকেল দুবেলাই নিয়ম করে।লেকের তরতাজা মাছ পাহাড়ি নাম জানা না জানা বাহারি সবজি দেশি সবজি।গলি ডিঙলেই অন্য পাশজুড়ে যাবতীয় খাবার দোকান ছোটখাট কাপড়ের দোকান সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় মোটামুটি সব পেয়ে যাবেন এই একটু খানি এলাকা জুড়েই। আর খাবারের দোকান গুলোতো রীতমত খাবারের বৈচিত্র্য।কাবাব,মাছ ফ্রাই,চপ,চিংড়ী চপ,চটপটি,নান,তেল পরোটা,ছ্যাকা পরোটা তবে এপাড়ার ছোলা পেঁয়াজু নানই বিখ্যাত।একদম উনুন থেকে নামিয়ে পরিবেশন।বাজার ডিঙিয়ে সামনে এগুলেই লাল সাদার বুননের লম্বা এক ব্রিজ!আসামবস্তী ব্রিজ।
এখন অব্দী এই শহরের দীর্ঘ ব্রীজ এটাই।মূলত এ ব্রীজকে ঘিরেই বেড়েছে এপাড়ার ব্যস্ততা।স্নিগ্ধ সকাল রোদের দুপুর কিনবা মুগ্ধ বিকেল এক একবেলায় এক এক রুপে ধরা দিবে এই ব্রীজ আর নিচের লেকের জল আর সাথে প্রকৃতির সাথে তাল মিলিয়ে শীত আর বর্ষায় ভিন্নতা।অন্য যেকোন বেলার চেয়ে পড়ন্ত বিকেলের ডুবো ডুবো রক্তিম আভা স্নিগ্ধ বাতাসে প্রাণ জুড়িয়ে যাবে।সদল বলে আড্ডা দিতে যখন তখন ছুটে আসা যায় এই পথে।ঘরের কাছেইতো।মূলত রাঙামাটি কাপ্তাই সড়ককে যুক্ত করে এই ব্রীজ।ইদানীং অবশ্য ভীড়টা বেড়েছে।দের রাত অব্দী চলে আড্ডাবাজী।তবে পরিচিত সঙ্গ ছাড়া সূর্য্য ডোবার পর বেশ সময় অব্দী ব্রিজে অবস্থান না করাই শ্রেয়।সন্ধ্যে নামার মুখে মুগ্ধতরা বশ করে আবেশে।ঘন্টা কখন পাড় হয়ে যাবে টেরই পাবেন না।দূর দূরান্ত থেকেও বন্ধু মহল দল বেধে হাজির হয় এইখানে।আড্ডা গল্পে কেটে যায় বিকেল।বিকেল থেকে সন্ধ্যা অব্দি বেশ জমজমাট এই এলাকা।
একটু যদি নিরবতায় থাকতে চান তবে ফিরে আসতে হবে বাজারের মুখে।সেখান থেকে সোজা দুমিনিট হেঁটে হাতের ডানে ব্রাক্ষনটিলা ব্রীজ।ব্রীজের ওপারের এলাকাটা ব্রাক্ষনটিলা নামে পরিচিত।আগে যাতায়াতের ব্যবস্থা হিসেবে ছিলো নৌকা।বছর কয়েক হলো এই ব্রীজ।সাদা আর আকাশী বুননের ২১০ মিটার দৈর্ঘ্যের এই ব্রীজ আবার অনেকের কাছে আর্জেন্টিনা ব্রীজ নামেও পরিচিত।শুকনো মৌসুমে ব্রীজ পাড় হয়েই হেঁটেই ওপারে যাওয়া গেলোও ভরা মৌসুমে ব্রীজের পরের কাঁচা রাস্তাটা ঠিকই ডুবে থাকে।পারাপারের জন্য আছে নৌকো।এখানটায় খানিকটা নিরবতা আছে।একপাশে ফুরমোন আরেকপাশে মন্দির।তার একটু অদূরে দেখা যায় শহর রাঙামাটির ব্যস্ত সড়কে জোনাক হয়ে ছুটছে বাহন।আর লেকে নৌকো থেকে জলে পড়েছে শেষ বেলার ছিপ।আর কেউ ফিরছে ঘরে।গ্রামীন একটা আবহ আছন্ন করে রাখবে।এখানে সন্ধ্যা নামবে ঝিঁ ঝিঁ পোকার ডাকে।ব্রীজের উপর আলো বলতে কেবল হুটহাট ছুটে যাওয়া গাড়ির হেডলাইট।সন্ধ্যার বুকে মাথা রেখে কিছুটা সময় ডুবে থাকা যায় নিজস্বতায়।ভালোলাগায়।জীবন খুব একটা মন্দতোনা….!
ব্রীজ থেকে নেমেই হাতের ডানে ছোটখাট একটা খাবারে দোকান।বাইরে সাইনবোর্ড এখানে ‘মুন্ডি’ পাওয়া যায়।আগ্রহ জমতেই পারে।ভিতরে গিয়ে দেখা গেলো জায়গা পাওয়াই মুশকিল।স্বামী স্ত্রী দুই জনের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ক্রেতা সামলানোর।মিনিট কয়েক অপেক্ষা করে জায়গা পেলাম।’মুন্ডী’ মারমা সম্প্রদায়ের খাবার।নুডলস ডিম ছোলা নাপ্পি টক ঝালের সংমিশ্রণ। নাপ্পি না খেতে চাইলে না করে দিবেন।বিকেলের নাস্তা হিসেবে খারাপ না।খাবারের বৈচিত্র্যতা গ্রহনের আগ্রহ থাকলে বিকেলটা পারফেক্ট হয়ে যাবে।কফিও পাওয়া যায় তবে সেটা না খেয়ে সামনে এসে গরম চায়ের কাপে চুমুক দেয়াই শ্রেয়…..
একটা পূর্ন বিকেলের মুগ্ধতার রেশ জড়িয়ে এপাড়ায় রাত নামছে।ব্যস্ততা সাঙ্গ করে ঘরে ফিরছে বিকিকিনির দোকানীরা।লেকের জলে আধারে বাতাসে কার ছায়াগো……
ঘরে ফিরছে ক্লান্ত প্রশান্ত মন।
Previous Articleকাপ্তাই আন্ত: ইউনিয়ন পরিষদ গোল্ডকাপ ফুটবল শুরু
Next Article মরুভূমির দানবেরা
