সড়কে পানি কমে যাওয়ায় বান্দরবানের সঙ্গে চট্টগ্রাম, রাঙামাটির সড়ক যোগাযোগ চালু হয়েছে তিনদিন পর। এদিকে রুমা সড়কে পাহাড় ধসে নিখোঁজ বাকি ৩ জনের খোজে চতুর্থ দিনের মত উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছেন সেনাবাহিনী-ফায়ারসার্ভিসের সদস্যরা। বুধবার সকাল থেকে অভিযান শুরু হয়।
প্রশাসন ও স্থানীয়রা জানায়, গতশনিবার থেকে টানা বর্ষণে বান্দরবান চট্টগ্রাম সড়কের বাজালিয়া এবং রাঙামাটি সড়কের পুলপাড়ায় সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় বান্দরবানের সঙ্গে গত তিনদিন সড়ক যোগাযোগ বন্ধ ছিল। কিন্তু বৃষ্টি না হওয়ায় সড়কে পানি কমে যাওয়ায় বুধবার সকাল থেকে বান্দরবানের সঙ্গে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি সড়ক যোগাযোগ ফের চালু হয়েছে। তবে পাহাড় ধসের কারণে আজও বন্ধ রয়েছে রুমা উপজেলার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন না থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষদের। পরিবহন শ্রমিক মোহাম্মদ মহসিন বলেন, বুধবার সকাল থেকে বান্দরবানের সঙ্গে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটির সড়ক যোগাযোগ চালু হয়েছে। ইতিমধ্যে বান্দরবান ছেড়েছে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে বেশকয়েকটি বাসও।
এদিকে গত রোববার (২৩ জুলাই) পাহাড় ধসে নিখোঁজ বাকি ৩ জনের খোঁজে চতুর্থ দিনের মত উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছে সেনাবাহিনী-ফায়ারসার্ভিসের সদস্যরা। নিখোঁজরা হচ্ছেন- কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তা গৌতম নন্দী, ডাক বিভাগের কর্মচারী মো: রবিউল, এবং পাড়া কার্বারি মংশৈহ্লা’র বড়মেয়ে উমেচিং মারমা। এদিকে রুমা সড়কের ঘটনাস্থলে স্বজনদের অপেক্ষায় ভিড় জমিয়েছেন নিখোঁজদের আত্মীয় স্বজনেরাও।
নিখোঁজ ব্যাংক কর্মকর্তার শ্যালক দিগন্ত নদী বলেন, কর্মস্থলে যাবার সময় গত ২৩ জুলাই পাহাড় ধসে রুমা সড়কে নিখোঁজ হয় আমার বোনজামাতা কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তা গৌতম নন্দী। নিখোঁজের চারদিন হলেও এখনো তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। সেনাবাহিনী, ফায়ারসার্ভিস, রেডক্রিসেন্ট সদস্যরা উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে। যোগ দিয়েছেন স্থানীয় পাহাড়িরাও। আমরাও অপেক্ষায় আছি স্বজনদের।
বান্দরবান ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট অফিসার ইকবাল হোসেন বলেন, পাহাড় ধসে বিধস্ত সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ঘেরাও করে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছেন সেনাবাহিনী-ফায়ারসার্ভিস. রেডক্রিসেন্ট ইউনিটের সদস্যরাসহ স্থানীয় পাহাড়িরা। বৃষ্টির কারণে উদ্ধার তৎপরতা কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা। ঘটনাস্থলের কয়েকশ ফুট নিচে পাহাড়ের খাদে একটি পাহাড়ি ছড়া আছে, সেখানেও খোঁজা হচ্ছে। তবে পানির ¯্রােতে লাশ ভেসে যাবার শঙ্কাও রয়েছে। তবে কৌশল পরিবর্তন করে পানি মেরে মাটি সরিয়ে খোঁজা হচ্ছে নিখোঁজদের। যদি লাশ থেকে থাকে, তাহলে উদ্ধার করা সম্ভব হবে। আমরা আশাবাদি।
বান্দরবানের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো: হারুন উর রশীদ বলেন, ভারি বর্ষণে রুমা সড়কে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। পাহাড় ধসে রুমা উপজেলার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। পাহাড় ধসে নিখোঁজদের উদ্ধারে উদ্ধার তৎপরতা চলছে। পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে বসবাসকারীদের ঝুঁকিপূর্ণ বসতিগুলো ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে। শহরের দশটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে খোলা হয়েছে অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্র।

১ Comment
Nice