ইদানিং সময়ের আলোচিত ঘটনা হল একটি অনলাইন গেমস ব্লু হোয়েল। সারাদেশব্যাপী সবাই এই ভয়ানক গেমসটি নিয়ে দুঃশ্চিন্তায়। শুধু ব্লু হোয়েল গেমস নয় আপনার প্রিয় বাচ্চাকে যে কোন মোবাইল গেমস ও মোবাইল আসক্তি থেকে আপনিই বাঁচাতে পারেন। আমরা প্রযুক্তিতে বাচ্চাকে এগিয়ে নিতে তার হাতে এনড্রোয়েড মোবাইল বা কম্পিউটার তুলে দিচ্ছি। আমাদের বদ্ধমূল ধারণা প্রযুক্তিতে বাচ্চাকে আটকে রাখলে তার মেধার যেমন বিকাশ হবে তেমনি বাইরের অপছায়া থেকে বাচ্চা মুক্ত থাকবে। সম্পূর্ণ ভুল ধারণা পোষণ করছি আমরা। বাচ্চার মেধা বিকাশে পড়ালেখার পাশাপাশি তার শারিরীক খেলাধুলার প্রয়োজন অতি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা শিশুর মেধা বিকাশে তার হাতে ভালো গল্প বা আত্মজীবনীর বই তুলে দিতে পারি। তাকে মাঠে নিয়ে খেলার সুযোগ করে দিতে পারি। পাবলিক গ্রন্থাগারে তাকে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে দিতে পারি। কিন্তু আমরা ভাবছি আধুনিক জ্ঞানে বাচ্চাকে স্মার্ট বানাতে হলে তাকে প্রযুক্তিগত জ্ঞানে সমৃদ্ধ করে তুলতে হবে তাই শিশু ভালো মন্দর পার্থক্য বুঝে উঠার আগেই তার হাতে প্রযুক্তি তুলে দিচ্ছি। ফলাফল শিশুরা গেমসে আসক্ত হয়ে পড়ছে। ব্লু হোয়েল আমাদের জন্য শাপেবর হয়েছে। অন্তত রাষ্ট্র, অভিভাবক, প্রশাসন ও সুধীসমাজ ভাবতে শুরু করেছে প্রযুক্তির ভয়াবহতা নিয়ে।
এখনো সময় আছে সবার হাতে এ সমস্যা থেকে উত্তরনের। বাচ্চাদের হাতে মোবাইল বা প্রযুক্তি তুলে দেওয়ার আগে ভেবে দেখুন এর মাধ্যমে সে জটিল কোন সমস্যায় জড়িয়ে যাচ্ছে কিনা। স্কুল শিক্ষার্থীদের হাতে মোবাইল ফোন যেন না থাকে তার জন্য আইন করা প্রয়োজন। এনড্রোয়েড মোবাইল যেন মাধ্যমিক পড়ুয়া শিক্ষার্থী পর্যন্ত ব্যবহার করতে না পারে তার জন্য কঠোর আইন করা প্রয়োজন।
আপনার বাচ্চার ভালো মন্দের দায়িত্ব আপনার ও পরিবারের। তাই তাকে যন্ত্রমানব না বানিয়ে সুস্থ সবল মানুষ গড়ে তুলুন। পড়ালেখার ফাঁকে ফাঁকে তাকে মাঠে খেলতে দিন। বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। সাংস্কৃতিক চর্চায় অভ্যস্ত গড়ুন। আধুনিকতা মানে শুধু প্রযুক্তি, স্কুল, কলেজ, পড়াশোনা নয়। তাকে চারপাশ চেনান। নিজের দেশকে ভালোবাসতে শেখান। সামাজিক অবস্থার ভালো মন্দ বুঝতে দিন। শুধু শিক্ষায় শিক্ষিত হলে মানুষ হওয়া যায় না, প্রকৃত মানুষ হতে হলে যে দেশ, জাতি ও সমাজের জন্য দায়বদ্ধতা আছে তা শেখানো অভিভাবকের দায়িত্ব।
সারাদিন স্কুলের পর প্রাইভেট টিউটরে বাচ্চাদের ব্যস্ত রাখা বন্ধ করুন। আর সবার সেরা বানাতে গিয়ে তাকে ও তার শৈশবকে নষ্ট করে দেওয়া বন্ধ করুন। বাচ্চার ভালো লাগা মন্দ লাগার বিষয়টি গুরুত্ব দিন।
লেখক: ক্রীড়া সংগঠক ও অনলাইন এ্যাকটিভিস্ট
