বরুনাছড়ি জোন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন দুই জন শিক্ষকের অবসরজনিত বিদায় অনুষ্ঠান সোমবার বরুনাছড়ি নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষকদ্বয় হলেন- মোঃ আফজাল হোসেন, প্রধান শিক্ষক ও মোঃ আব্দুল জলিল, সহকারী শিক্ষক।
দীর্ঘ চার দশক শিক্ষকতা জীবনে অনেক সফলতা নিয়ে তাঁদের চাকুরীকাল সম্পন্ন করেন। এই বিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরে সুনামের সাথে কাজ করছে । অজো পাড়াগাঁয়ে শিক্ষার ব্রত নিয়ে একসাথেই তাঁরা এই পেশাগত দায়িত্ব নিয়েছিলেন ১৯৮২ সালে। সকল প্রতিকূলতা পেরিয়ে গ্রামের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে করেছেন আলোকিত। বরুনাছড়ি জোন সঃ প্রাঃ বিদ্যালয় ও বরুনাছড়ি জোন নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে এই বার্ষিক ক্রীড়া ও বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
দূরদূরান্ত থেকে উক্ত অনুষ্ঠানে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে পূর্ণতা দান করে। বরুনাছড়ি জোন সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক হিরন কুমার অধিকারীর সঞ্চালনায় ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে আবেগ আপ্লুত বক্তব্য রাখেন প্রাক্তন ছাত্র- মোঃ তৌহিদুল ইসলাম (প্রধান শিক্ষক) মোঃ বেলাল হোসেন (সভাপতি, উপজেলা ছাত্রলীগ), মোঃ আবুল কালাম (সভাপতি, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ) এছাড়াও বক্তব্য রাখেন- মোঃ জাহাঙ্গীর আলম (ইউপি মেম্বার), সোহরাব হোসেন, মোঃ কবির হোসেন (প্রধান শিক্ষক) এবং ধামাইছড়া সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অমল চাকমা। সবার বক্তব্যেই শিক্ষকদ্বয়ের সুনামের ও অবদানের সত্য গল্প প্রকাশিত হয়েছে ও তাঁদের অবসর জীবনের সার্বিক মঙ্গল কামনা করেন। মানপত্র পাঠ করেন মোঃ কামরুল হাছান (শিক্ষক ও বাচিকশিল্পী)।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মোরশেদুল আলম। তিনি বলেন- আমি হতবাক হয়েছি এই শিক্ষকদ্বয়ের সম্পর্কে বক্তাদের প্রশংসা শুনে। এখানেই শিক্ষকের স্বার্থকতা।

বিশেষ অতিথি উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ আব্দুস সালাম বলেন, জাতি গঠনে আমরা এমন শিক্ষক প্রত্যাশা করি, এই শিক্ষকদ্বয় শুধু তাঁদের সন্তানদের উচ্চ শিক্ষিত করেননি সমাজকে দিয়েছেন শিক্ষার আলো তাইতো এই জনপদের চারিদিক আলোকিত।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য সবির কুমার চাকমা বলেন- সদালাপী এই শিক্ষকদের আমি চিনি। খুব কাছ থেকে তাঁদের দেখেছি যেভাবে শিক্ষকতায় নিবেদিত প্রাণ শিক্ষক ছিলেন দেশের উন্নয়নে আপনাদের অবদান হোক আরো সুদৃঢ়। এই অবসর শুধুমাত্র চাকুরী জনিত বাধ্যবাধকতা। সৃষ্টিকর্তা আপনাদের মঙ্গল করুন। ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।
সভাপতিত্ব করেন- তরুন জ্যোতি চাকমা,চেয়ারম্যান, ১নং সুবলং ইউনিয়ন পরিষদ। তিনি তার বক্তব্যে তাঁদের অবদানের স্মৃতিচারণ করে এমনি প্রত্যয় নিয়ে সকল প্রতিকূলতা ডিঙ্গিয়ে শিক্ষকদের কাজ করার আহ্বান জানান।
বিদায়ী শিক্ষকদের সম্মাননা ক্রেস্ট, মানপত্র ও শুভেচ্ছা উপহার তুলে দিয়ে এবং বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ শেষে অনুষ্ঠান সমাপ্ত করা হয়।
