মিশু মল্লিক
প্রায় একমাসেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর মেঘের রাজ্য খ্যাত সাজেকের জনপ্রিয় টুরিস্ট গন্তব্য হেলিপ্যাড’ পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। সংস্কার কাজের জন্য প্রায় মাসখানেক বন্ধ থাকার পর আবারো উন্মুক্ত হলো সাজেকের আকর্ষণীয় এই ট্যুরিস্ট স্পটটি। এতে আনন্দ প্রকাশ করেছেন পর্যটকরা। গত ১৫ নভেম্বর সংস্কার কাজের জন্য নিরাপত্তাজনিত কারণে হ্যালিপ্যাডে প্রবেশ বন্ধ করে কর্তৃপক্ষ।
সাজেকের হেলিপ্যাড বরাবরই পর্যটকদের কাছে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। সাজেকে এটিই একমাত্র জায়গা যেখান থেকে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত দুটোই উপভোগ করতে পারেন পর্যটকরা। এই হেলিপ্যাডের চারপাশে রয়েছে অনেকগুলো খাবার দোকান। হেলিপ্যাডে দাঁড়ালে সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের পাশাপাশি উপভোগ করার সুযোগ হয় বিশাল পাহাড় আর মেঘের লুকোচুরি। যেন মনে হয় মেঘের দল হাতছানি দিয়ে ডাকছে।
হেলিপ্যাডের পাশেই রয়েছে সাজেক জিরো পয়েন্ট। হেলিপ্যাড লাগোয়া এই জিরো পয়েন্টে অনেকগুলো ভাসমান খাবারের দোকান রয়েছে। হেলিপ্যাড খুলে দেয়াতে বেড়েছে পর্যটক উপস্থিতি এবং এতে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন দোকানীরা।
দোকানদার মো. মনির হোসেন বলেন, মাঝখানে কিছুদিন হেলিপ্যাড বন্ধ থাকাতে পর্যটক এদিকে কম আসতো। এখন পর্যটকরা এদিকে আসলে দোকানে বসে, নাস্তা করে। তাই ব্যবসাও ভালোই হচ্ছে।
আরেক দোকানদার মো. রফিক বলেন, হেলিপ্যাডে কিছু সংস্কার কাজ ছিলো যেমন সীমানা বেড়া দেয়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা এবং কিছু রঙের কাজও ছিলো, সেসব করা হয়েছে। হেলিপ্যাড বন্ধ থাকলে পর্যটক এদিকে কম আসে আর আমরাও ব্যবসায়িক ক্ষতির সম্মুখীন হই, তাই সবদিক বিবেচনা করে খুলে দেয়া হয়েছে এবং আমাদের ব্যবসাও ভালো হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভোরের সূর্যোদয় দেখার জন্য হেলিপ্যাডে প্রচুর পর্যটক জড়ো হয়েছেন। অনেকে নিজেদের মত সময় কাটাচ্ছেন, ছবি তুলছেন। রাঙামাটি শহর থেকে বেড়াতে আসা সংবাদকর্মী শংকর হোড় বলেন, আমরা যখন সাজেক আসার পরিকল্পনা করছিলাম তখন জানতে পেরেছিলাম হেলিপ্যাড বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। পরে জানতে পারলাম সংস্কার কাজ শেষে আবার খুলে দেয়া হয়েছে। হেলিপ্যাডে এসে খুব ভালো লাগছে। এখান থেকে প্রকৃতির যে অপার সৌন্দর্য তা খুব ভালোভাবে উপভোগ করা যায়।
আরেক পর্যটক সামশুল আরেফিন বলেন, আমরা শুনেছিলাম হেলিপ্যাড বন্ধ আছে। কিন্তু এসে হেলিপ্যাড খোলা পেয়ে খুবই ভালো লাগছে। হেলিপ্যাডে সাধারণত সকালের সময়টাতে পর্যটকরা বেশি আসেন সূর্যোদয়টা উপভোগ করার জন্য। হেলিপ্যাডে যথেষ্ট পর্যটক আসছেন। আমি আশা করবো হেলিপ্যাডটা সবসময় পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
খা¯্রাং হিল রিসোর্টের ব্যবস্থাপক সুব্রত চাকমা বলেন, আসলে পর্যটকদের কাছে একটা আকর্ষণের জায়গা হলো হেলিপ্যাড। কারণ এখান থেকে সূর্যোদয়টা খুব চমৎকার ভাবে দেখা যায়। হেলিপ্যাড খুলে দেয়াতে পর্যটকরা খুব খুশি হয়েছেন।
বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আক্তার বলেন, আগে পর্যটকরা প্রায় সময় বাইক, গাড়ি এসব নিয়ে হেলিপ্যাডে উঠে যেতেন। এতে করে হেলিপ্যাডে অনেক জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তাই কর্তৃপক্ষ হেলিপ্যাডের চারপাশে তারের বেড়া নির্মাণ করে এবং কিছু সংস্কার কাজ শেষে আবারো পর্যটকদের জন্য খুলে দিয়েছে। সাজেক আমাদের, তাই সাজেকের প্রাকৃতিক পরিবেশকে রক্ষা করা আমাদের সকরের দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
