নিজের শহর খাগড়াছড়িতে নিবেদিতা রোয়াজা নামেই পরিচিত ছিলেন তিনি। ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী,ফলে ঠাঁই মিলেছিলো জেলা ছাত্রলীগের কমিটিতেও। খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজের সাবেক ছাত্রী তিনি।
কিন্তু ২০১৯ সালে ভালোবাসার টানে মামুন মিল্লাত নামের এক তরুণকে বিয়ে করে ধর্ম পরিবর্তন করে নাম ধারণ করেন নুসরাত জাহান (২৮)। ভালোবাসার মানুষটির সাথে সংসার করতে ঠিকানা গড়েন রাজধানীতে। সেখানে আগারগাঁওয়ে সংসদ সচিবালয় কোয়ার্টারে থাকতেন। সেখানেই শনিবার ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত তার মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
ঘটনার পর থেকে নুসরাতের স্বামী মামুন মিল্লাত পলাতক রয়েছেন, যিনি বিয়ের আগে নিজেকে বিসিএস ক্যাডারের পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়েছিলেন বলে শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আশীষ সরকার গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।
শনিবার দুপুর দেড়টায় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে প্রতিবেশীদের ফোন পেয়ে পুলিশ সংসদ সচিবালয়ের বি-২ নম্বর কোয়ার্টারে গিয়ে বাসার দরজা ভেঙে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় নুসরাতের লাশ উদ্ধার করে।
উপপরিদর্শক আশীষ বলেছেন, “নিহতের স্বামী মামুন মিল্লাত নিজেকে ৩৮তম বিসিএসের পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয়ে নুসরাতকে নিয়ে ওই কোয়ার্টারে সাবলেটে বসবাস করে আসছিলেন।“
নুসরাতের স্বজনদের বরাত দিয়ে তিনি জানান, বিয়ের সময় মামুন নিজেকে পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয় দিলেও তা ছিল ভুয়া। এটা জানার পর থেকে তাদের মধ্যে নিয়মিত ঝগড়া হত।
এই ঘটনার পরে পুলিশও তার ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে জানতে পারে মামুন পুলিশ কর্মকর্তা নন। তিনি কিছুই করেন না বলে শেরেবাংলা থানার এসআই আশীষ জানান।
নিবেদিতা রোয়াজা ওরফে নুসরাত খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী থাকার সময় ছাত্রলীগ করতেন।
লাশ উদ্ধার করে বিকালে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এই ঘটনায় নিহত নুসরাতের বাবা ও চাচা রাত ১০টায় শেরেবাংলা নগর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
