মাঘের কনকনে শীতকে উপেক্ষা করে গভীর রাতে এক প্রেমিকের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকার অনশনের খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাটি রাঙামাটির লংগদু উপজেলার মাইনীমূখে। প্রেমিক নুরনবী (২১) উপজেলার মাইনীমূখ ইউনিয়নের মুসলিমব্লক এলাকার আবুল হাশেমের ছেলে। সে দিঘীনালা সরকারি ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী বলে জানা যায়।
স্থানীয়রা জানায়, মঙ্গলবার রাত ১১টায় মেয়েটি নুরনবীর বাড়িতে অবস্থান নেয়। এসময় নুরনবী ও তার বাবা-মা কেউ বাড়িতে ছিলেন না । বর্তমানে বাড়িতে নুরনবীর বৃদ্ধ দাদি এবং প্রতিবন্ধী এক চাচা রয়েছে।
বুধবার সকালে সরেজমিনে প্রেমিক নুরনবীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, প্রেমিকা সাজেদা ইয়াছমিন (১৯) প্রেমিক নুরনবীর বাড়ির বারান্দায় জড়োসড়ো হয়ে বসে আছে। ক্ষুধায় কিছুটা ক্লান্ত সে। সাজেদা জানায়, ‘সে রাঙামাটি সরকারি কলেজে অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি উপজেলার কালাপাকুজ্যা ইউনিয়নের রহমতপুর গ্রামে। প্রেমিক নুরনবীর সাথে তাঁর দেড় বছরের সম্পর্ক। গত দু’মাস ধরে নুরনবী তাঁর সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়েছে। বর্তমানে নুরনবী চট্টগ্রাম শহরে অবস্থান করছে বলে সে জানতে পারে এবং সেখানেই অন্য মেয়েকে বিয়ে করেছে বলে শুনেছে। নুরনবীর বিয়ের খবর শুনেই গভীর রাতে পাঁচ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে নৌকা চালিয়ে একাই প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান নিয়ে অনশন করছে সাজেদা।
সাজেদা আরো জানায়, ‘ নুরনবীকে প্রায় সময় টাকা পয়সা দিয়ে সাহায্য করতো সে। নুরনবী তার বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে। এখন নুরনবী ও তার অভিভাবকরা না আসা পর্যন্ত সে এখানেই থাকবে। এবং এক ফোটা পানিও মুখে তুলবে না।’
মাইনীমূখ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আজগর আলী জানান, ‘আমি এলাকার বাইরে আছি। খবরটি শুনেছি এবং স্থানীয় মুরব্বিদের বলেছি দু’পক্ষের অভিভাবকদের নিয়ে বসে সমাধান করতে।’
এদিকে খবর পেয়ে লংগদু থানার পুলিশ মেয়েটিকে উদ্ধার করে তাদের হেফাজতে নিয়ে আসে।
লংগদু থানার ওসি (তদন্ত) মহিউল ইসলাম বলেন, ‘আমরা খবর পেয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করি। এবং মেয়েটিকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ছেলের অভিভাবকদেরও খবর দিয়ে থানায় হাজির করা হয়। তাঁরা আগামী ১০ দিনের মধ্যে নুরনবীকে হাজির করে সামাজিকভাবে বিষয়টির সমাধান করবে বলে মুচলেকা দিয়েছে।’
