কীট না থাকায় ডোপ টেস্ট করতে না পারায়
জিয়াউল জিয়া
দক্ষ শ্রমিক গড়ে তুলতে সরকারি উদ্যোগে রাঙামাটি করিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের চার মাস মেয়াদি ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ পরিচালিত হচ্ছে। এক বুক স্বপ্ন নিয়ে আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে রাঙামাটি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ ট্রেডে ভর্তি হয়েছেন যুবকরা। চার মাসের ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ শেষে রপ্ত করছেন লাইসেন্স প্রাপ্তির ফিল্ড টেস্ট। তবে সরকারিভাবে চার মাস মেয়াদি ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ শেষে সরকারি অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান থেকে ডোপ টেস্ট করতে না পেরে লাইসেন্স পাচ্ছেন না প্রশিক্ষণার্থীরা। নির্ধারিত প্রতিষ্ঠান রাঙামাটি হাসপাতালে কীট না থাকায় ডোপ টেস্ট করতে পারছেন না বলে অভিযোগ প্রশিক্ষণার্থীদের। আর কীটের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করেও সাড়া পাচ্ছেন না বলে জানালেন সিভিল সার্জন।
ডোপ টেস্ট জটিলতায় সরকারের মহৎ উদ্যোগ ভেস্তে যেতে বসেছে বল মত কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষের। রাঙামাটি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণ শেষ করে ডোপ টেস্ট সনদের জন্য আটকে আছে ২৩০ শিক্ষার্থীর লাইসেন্স। চলমান ব্যাচে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন আরও ৮০ শিক্ষার্থী।
প্রশিক্ষণার্থীদের অভিযোগ, সফলভাবে প্রশিক্ষণ শেষ করলেও যে স্বপ্ন নিয়ে প্রশিক্ষণে ভর্তি হয়েছেন প্রশিক্ষণার্থীদের সেই স্বপ্ন এখনো ধরা দেয়নি। সফলভাবে প্রশিক্ষণ শেষ করলেও স্বীকৃতির সনদ ড্রাইভিং লাইসেন্স এখনো হাতে আসেনি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এসব যুবকদের। ডোপ টেস্টের সরকারি অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে প্রয়োজনীয় কীট না থাকার কারণে ডোপ টেস্ট করতে না পেরে লাইসেন্স প্রাপ্তি হচ্ছে না তাদের। এতে হতাশায় নিমজ্জিত প্রশিক্ষণার্থীরা।
প্রশিক্ষনার্থী মো. মামুন জানান, মা বাবার আশা পূরণে বিদেশ গিয়ে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে নিজের পায়ে দাঁড়াবো। চার মাস মেয়াদি ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ শেষে করেও ডোপ টেস্ট করতে না পারায় সেই স্বপ্ন মনে হয় না আর পূরণ হবে।
আরেক প্রশিক্ষাণার্থী মো. কাইয়ুম জানান, আমি অনেকদিন বেকার ছিলাম আশা ছিল ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ শেষে সড়কে গাড়ি চালাতে পারবো। প্রশিক্ষণও শেষ হয়েছে আজ প্রায় এক বছর ডোপ টেস্ট করতে না পারায় লাইসেন্স পাচ্ছি না। তাহলে আমাদের কেন এতো হয়রানি শিকার হতে হচ্ছে।
নতুন প্রশিক্ষাণার্থী রমেল চাকমা বলেন, অনেক স্বপ্ন নিয়ে ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ ভর্তি হয়েছি। কিন্তু ভর্তি হওয়ার পর মনটা ভেঙে গেছে। আমার আগে ৩/৪ ব্যাচ এখনো প্রশিক্ষণ শেষ করলেও লাইসেন্স পায়নি, আমি কিভাবে পাবো।
ডোপ টেস্ট জটিলতায় সরকারের এমন মহৎ উদ্যোগ ভেস্তে যেতে বসেছে বল মত রাঙামাটি করিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র অধ্যক্ষ শ্যামল বড়–য়ায়। তিনি আরও জানান, প্রশিক্ষণ শেষে প্রশিক্ষাণার্থীরা যখন রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে টেস্ট করাতে যায় তখন তরা জানান, কীট না থাকায় টেস্ট করাতে পারবেন না। আবার বাইরের অন্য কোথা থেকে করলেও এটি গ্রহণ করা হচ্ছে না।
রাঙামাটি সিভিল সার্জন ডা. বিপাশ খীসা জানান, আমাদের এখানে ডোপ টেস্ট করানোর জন্য প্রতিদিন লোকজন আসে। কিন্তু ডোপ টেস্ট করার জন্য কোন কীট সরবহার করা হয়নি। কীট কেনার জন্য কোন অর্থ বরাদ্দ না থাকায় আমরা জেনারেল হাসপাতালে টেস্ট করাতে পারছি না। আমরা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে একাধিকবার চিঠি লিখেছি। আমরা যদি অর্থ বরাদ্দ বা কীট সরবরাহ পাই, তাহলে আমরা কাজটি শুরু করতে পারবো।
