সাইফুল হাসান ॥
পার্বত্য জেলা রাঙামাটির অভ্যন্তরীণ একমাত্র গণপরিবহণ হচ্ছে অকটেন চালিত সিএনজি অটোরিকশা। অকটেনের দাম বাড়ায় ভাড়া নিয়ে বাকবিতন্ডায় গত শনিবার সকাল থেকে শহরের অভ্যন্তরীণ এই গণপরিবহণ বন্ধ থাকে। পরে রবিবার সকালে জেলা প্রশাসনের এক জরুরী সভার মাধ্যমে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়। এরপর যান চলাচল শুরু হয়। দুপুরে ভাড়া পুনঃনির্ধারণ করে দিলেও সন্ধ্যা হতে না হতে তা মানছেন না অনেক অটোরিক্সা চালকরা। সোমবার সকাল থেকে বিভিন্ন স্থানে খবর নিয়ে জানা যায় প্রশাসন ভাড়া নির্ধারণ করে দিলেও তার তোয়াক্কা করছে না অনেক অটোরিকশা চালক।
রবিবার সন্ধ্যায় বনরূপা প্রতিবেদকসহ (সিএনজির শেষ ডিজিট-২৬৫) অটোরিকশা তিনজন যাত্রী উঠে। তারমধ্যে একজন জেলা শিল্পকলা একাডেমির সামনে এবং অপর দুইজন কলেজ গেইট নেমে ভাড়া দিতে গেলে চালক তাদের থেকে ১৫ টাকা ভাড়া নেন। যেখানে চার্ট অনুসারে তাদের ভাড়া ১৩টাকা। বাড়তি ভাড়া নেয়া প্রসঙ্গে উক্ত চালকের সাথে প্রতিবেদক কথা বললে তিনি উচ্চ স্বরে বলেন, ‘আমি আজও যেমন ভাড়া নিছি কালও নিবো, দেখবো কে কি করে। ডিসি তো প্রাইভেট কারে চড়ে, সে কি বুঝবে। আপনারটা আপনি দেখেন অন্যের বিষয়ে কথা বলতে হবে না আপনাকে।’
ওই দিন সন্ধ্যায় মুমতাহেনা চৌধুরী মুমু নামের এক যাত্রী বনরূপা থেকে কে কে রায় সড়ক গেলে (সিএনজি অটোরিক্সার শেষ ডিজিট-১৯৯) চালক তার থেকে ১৫ টাকা ভাড়া নেন। মুমতাহেনা চৌধুরী মুমু জানান, ‘আমি বনরূপা থেকে কে কে রায় সড়ক এসে অটোরিকশা চালককে ১৫ টাকা দিলে তিনি আমাকে ২ টাকা ফেরত না দিয়ে গাড়ি টান দিতে চাইলে আমি জিজ্ঞাস করি। তখন তিনি আমাকে বকাবকি করে গাড়ি টান দেন। হয়তো দুই টাকাটা বেশি না। কিন্তু অন্য কারো জন্য এটি বেশি। কারণ দেখা যায় এই দুই টাকার জন্যই বাকবিতন্ডা লাগে। পরে তারা গাড়ি বন্ধ রেখে আমাদেরকে বিপদে ফেলে দেয়। শহরের একমাত্র পরিবহণ হওয়ায় আমরা তাদের কাছে জিম্মি হয়ে আছি। তাদেরকে কিছু বলা যায় না। এদের এমন আচারণ যা সহ্য করার মত নয়।’
সোমবার এম জিসান উদ্দীন বখতিয়ার তিনি হ্যাপির মোড় থেকে কলেজ গেইট গেলে অটোরিকশা চালক তার থেকে ১৫ টাকা ভাড়া নেয়। পরে তিনি চালককে কিছু না বললেও, নিয়ম অনুসারে ভাড়া না নেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘নিয়ম অনুসারে ভাড়া নেয়া উচিত; বেশি কেন নিবে।’
প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অমান্য করে ভাড়া নেয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রাঙামাটি অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি পরেশ মজুমদার বলেন, ‘যে সকল অটোরিকশার বিষয়ে আমাদের কাছে অভিযোগ আসছে; আমরা তা আমলে নিচ্ছি। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব অটোরিকশা চালকদের খুঁজে বের করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিবো।’
এদিকে সকাল থেকে রিজার্ভ বাজার এলাকায় একটি ভ্রাম্যমান আদালত যাত্রীদের থেকে চালকরা ভাড়া বেশি নিচ্ছেন কিনা এবং যাত্রীদের কোন অভিযোগ আছে কিনা এ বিষয়ে সরজমিনে তদারকি করতে দেখা যায়।
রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে মনিটরিং করছি এবং অমান্য করলে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’
