পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে ‘বৈদেশিক কর্মসংস্থানের জন্য দক্ষতা ও সচেতনতা’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার সকালে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে রাঙামাটির ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক এস এম শফি কামালের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন- প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয়ের উপসচিব আরিফুর রহমান।
সেমিনারে প্রধান অতিথি এ জেলা থেকে জনশক্তি রপ্তানি কমের বিষয়ে হতাশা প্রকাশ করেন। অন্যদিকে, সেমিনারে অংশ নেওয়া অনেকেই প্রবাসে জনশক্তি পাঠানোর ক্ষেত্রে রাঙ্গামাটির পিছিয়ে থাকার বিষয়টি উল্লেখ্য করেন।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন- রাঙামাটির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শারমিন আলমসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগণ।
সেমিনারে উপ-সচিব বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ঘোষনা অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে ১ লক্ষ মানুষকে বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্য। সেক্ষেত্রে রাঙামাটির ১০ উপজেলা থেকে কমপক্ষে ১ হাজার জনকে বিদেশ পাঠানোর কথা। কিন্তু ২০১৮ সালে এ জেলা থেকে বিদেশ যাত্রা করেছে মাত্র ৩৫৭ জন। এই সংখ্যা আসলেই খুবই হতাশাজনক।’ এসময় লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী প্রবাসে জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনসহ সমাজের সকল মানুষকে আরও আন্তরিকতার সাথে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সচিব আরও বলেন, ‘অবৈধ উপায়ে বেশি খরচে প্রবাসে গমন করার প্রয়োজন নেই। আপনারা বৈধ উপায়ে প্রবাসে যেতে পারেন। সাধারণত ফ্রী ভিসা বলতে কিছু নেই। অনেকেই এ ধরণের ফ্রী ভিসায় দালাল চক্রের মাধ্যমে বিদেশ গমনে করে। সেক্ষেত্রে কর্মক্ষেত্র ভালো হয় না। আমি অনুরোধ করবো, আপনারা সরকারি নিয়মে কর্মসংস্থান ব্যুারোর মাধ্যমে স্বল্প খরচে প্রবাসে গমন করুন। এতে করে আপনার কর্মসংস্থান নিরাপদ হবে।’
সেমিনারে অংশ নিয়ে রাঙামাটি পৌরসভার মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘রাঙামাটিতে প্রবাসে জনশক্তির রপ্তানির ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হলো পাসপোর্ট প্রাপ্তি। এখানে পাসপোর্টের আবেদন করলে জায়গা-জমি সংক্রান্ত কাগজপত্র চাওয়াতে অনেকেরই জায়গা না থাকাতে পাসপোর্ট পান না। সে কারণে এ জেলা থেকে বিদেশে জনশক্তি রপ্তানি অনেকটা কম। জায়গা-জমির ভেরিফিকেশনের বিষয়টি শিথিল করা হলে এ জেলা থেকে প্রবাসে জনশক্তি রপ্তানি আরও বাড়বে বলে আমি মনে করি। সেক্ষেত্রে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রনালয়ের কাছে আমার অনুরোধ বিষয়টি যেনো শিথিল করার ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করে।’
রাঙামাটি চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ড্রাট্রিজ’র সভাপতি বেলায়েত হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘রাঙামাটিতে কোনো রিক্রুটিং এজেন্ট নেই। এজেন্ট পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রায় ২৫ লক্ষ টাকার ডিপোজিট করতে হয়। পার্বত্য অঞ্চল দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পিছিয়ে থাকায় এখানে এত টাকা দেওয়ার মতো লোক পাওয়া যায় না। সেক্ষেত্রে এই ডিপোজিট পার্বত্য অঞ্চল হিসেবে বিশেষ বিচেনায় কমানো গেলে রিক্রুটিং এজেন্ট পাওয়া যাবে এবং জনশক্তি রপ্তানি আরও বাড়বে।’
রাঙামাটি সদর উপজেলার মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান নাসরিন আক্তার বলেন, ‘প্রবাসে কর্মসংস্থানের বিষয়ে সরকারকে আরও আন্তরিক হতে হবে। বিশেষ করে নারী শ্রমিক রপ্তান্তির ক্ষেত্রে। তাদের সুষ্ঠু পরিবেশ দিতে পারলেই আরও অধিকতর নারীদের বিদেশে কর্মস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব হবে।’
