গত ২ জুন স্থানীয় যুবলীগ নেতা নুরুল ইসলাম নয়নের হত্যাকে কেন্দ্র করে রাঙামাটির লংগদু উপজেলা সদরের আশেপাশের চারটি পাহাড়ী গ্রামে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত অগ্নিদূর্গত প্রাথমিক শিক্ষকদের পাশে আর্থিক সহায়তা নিয়ে দাঁড়িয়েছেন তাদেরই সহকর্মীরা । বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারি শিক্ষক সমিতি’ রাঙামাটি জেলা শাখার উদ্যোগে জেলার সকল প্রাথমিক শিক্ষকদের পক্ষ থেকে দেয়া আর্থিক সহযোগিতা বৃহস্পতিবার তুলে দেয়া হয় এইসব শিক্ষকদের হাতে।
‘সকলের তরে সকলে আমরা ,প্রত্যেকে আমরা পরের তরে’ মানবিক এ স্লোগানের বার্তা নিয়ে গত বৃহস্পতিবার লংগদু উপজেলা সদরের তিনটিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মিলনায়তনে ক্ষতিগ্রস্থ শিক্ষকদের মাঝে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়। এ উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি ।
সমিতির রাঙামাটি জেলা কমিটির আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি দীপু শ্রীং লেপচা‘র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাঙামাটির জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রওশন আলী। বিশেষ অতিথি ছিলেন সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মনসুর আলী, রাঙামাটি সদর উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের ইন্সট্রাক্টর মোহাম্মদ বখতেয়ার হোসেন, উপজেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান ও তিনটিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বহ্নি শিখা দে।
শিক্ষক সমিতির নেতা মো: লোকমান হোসেনের প্রানবন্ত সঞ্চালনায় এক আবেগ আপ্লুত পরিবেশে অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ আল কোরআন ও ত্রিপিটক থেকে পাঠ করা হয়।ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করা হয় অতিথিবৃন্দকে । নবাগত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রওশন আলীকে প্রদান করা হয় শুভেচ্ছা স্মারক । এরপরই শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির পার্বত্য বিষয়ক শিক্ষক অধিকার সম্পাদক বিমলেন্দু চাকমা। সমিতির লংগদু শাখার সভাপতি সুমিত্র চাকমা । এরপর একে একে বক্তব্য রাখেন আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ ।
বক্তরা বলেন,লংগদু‘র ঘটনা সারা দেশের মানুষের মধ্যে দুঃখবোধের সৃষ্টি করেছে । সবাইকে ব্যাথিত করেছে এ ন্যক্কারজনক ঘটনা । কেউ অন্যায় করলে দেশের প্রচলিত আইনে তার বিচার হবে । কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে সাধারণ মানুষের এমন ক্ষতি কারো কাম্য হতে পারেনা । আর এ ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে আমাদের শিক্ষক সমাজ । হাসি মুখে যে শিক্ষকরা ক্লাশে পাঠদান করেন আজ তারাই আমাদের সামনে মলিনমুখে বসে আছেন ।
বক্তারা আরো বলেন, সমাজে মানুষে মানুষে ভালোবাসা বিশ্বাস হারিয়ে যাচ্ছে । প্রকৃত শিক্ষার অভাবে আজ মানুষ হিং¯্র দানবের ভূমিকা পালন করছে । একে অপরের প্রতি সহানুভ’তিহীন হয়ে যাচ্ছে ।মানুষের এ নৈতিক অবক্ষয় পরিবর্তনে শিক্ষকদের অগ্রনী ভ’মিকা পালন করতে হবে ।সমাজ থেকে সকল কলুশতা দূর করে জ্ঞানের আলো জ্বালাতে হবে চারিদিকে। এ আলোয় আলোকিত মানুষই গড়বে আগামির শান্তির পৃথিবী ।
শিক্ষক নেতারা বলেন,লংগদুর ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ সকল দূর্গত মানুষের পাশে দঁড়ানোর ইচ্ছা থাকলেও ক্ষুদ্র সামর্থে তা হয়ে ওঠেনি । আমরা চেষ্টা করেছি। এবং আমাদের এ চেষ্টাকে সফল করতে সহযোগীতা করেছে শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটি,প্রধান শিক্ষক সমিতি ও জেলার সকল শিক্ষকমন্ডলী । আমরা সকলের কাছে কৃতজ্ঞ । আশা করছি আগামী দিনের যে কোনো মানবিক কাজে সকলের এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে ।
সভা শেষে প্রধান অতিথিসহ আমন্ত্রিত অতিথিদের নিকট থেকে নগদ ৬০০০/- (ছয় হাজার টাকা) অর্থ সহায়তা গ্রহণ করেন ক্ষতিগ্রস্থ ২০ জন শিক্ষক ও তাদের পরিবার ।

১ Comment
বলাটা কতটুকু যৌক্তিক ভেবে দেখুন।যে চাকরী লাভের জন্য লক্ষলক্ষ টাকা গুষ দিতে হয় তার পরিবর্তে সমাজ বা প্রজন্ম কি শিক্ষা পেতে পারে?১০ লাখ দিলে নাকি পরীক্ষা হলে না গিয়েও পাস করতে পারে কথাটা কারও জানা আছে?শিক্ষকরা কিন্তু সর্বকালে সর্বজন “শ্রদ্ধেয়”