খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি॥
খাগড়াছড়িতে প্রাথমকি শিক্ষা বিভাগের সদর উপজেলার সহকারী শিক্ষা অফিসার (এটিও) সুভায়ন খীসাকে খুঁজছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, সুভায়ন খীসার বিরুদ্ধে সদর থানায় একটি মামলা রয়েছে। যার মামলা নং ৮। কয়েকটি ধারায় এ মামলাটি দায়ের করেন এক নারী শিক্ষক। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আরিফ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, গত ১৬ আগস্ট মামলাটি দায়ের করেন মৌসুমি ত্রিপুরা নামে এক প্রধান শিক্ষক লিখিত অভিযোগ দিলে মামলাটি পুলিশ আমলে নেয়। মামলায় সুভায়ন খীসাকে আসামি করা হয়। এরপর থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পুলিশ খুঁজে বেড়াচ্ছে। একাধিকবার অভিযুক্তের কর্মস্থলে গিয়েও পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন ওসি। মামলা সুত্রে জানা যায়, গত ১৬ আগস্ট বেলা ১১টায় স্কুলের নড়বড়ে গেইট খুলে ফেলার অনুমতির আবেদন নিয়ে সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার সুভায়ন খীসার কার্যালয়ে যান মহালছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মৌসুমি ত্রিপুরা। আবদেনটি গ্রহণ করার জন্য একাধিকবার দৃষ্টি গোচর করলেও সুভায়ন খীসার কাছ থেকে কোনধরণের সাড়া না পাওয়ায় তার চেয়ারের কাছে গিয়ে আবেদনের বিষয়টি জানাতে চেষ্টা করেন ঐ নারী শিক্ষক। এ সময় মারধরের শিকার হলে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে অপর সহকর্মীরা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরবর্তী বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে জেলা জুড়ে আলোচনার ঝড় উঠে। এদিকে, সরেজমিনে সোমাবার (২২ আগস্ট) সুভয়ন খীসার অফিসে খোঁজ নিতে গেলে তার বিষয়ে কোনধরনের তথ্যই দেননি উপজেলা শিক্ষা অফিসার টিও রবিউল ইসলাম। উল্টো গণমাধ্যমে কর্মীদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এমনকি গণমাধ্যমে কথা বলতে বাধ্য নন বলেও জানান এই কর্মকর্তা। রবিউল ইসলামের কাছে সুভায়ন খীসার অফিসে অনুপস্থিতির কথা জানতে চাইলে বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা জানেন এবং তাদের উপর দায় চাপান। অভিযুক্ত এ টি ও’ সুভায়ন খীসা ছুটিতে আছেন কিনা জানতে চাইলে রবিউল ইসলাম বলেন, ১৬ তারিখে ছুটির আবেদন করেন এটিও। ১৭ তারিখে আবেদনটি গৃহীত হয়। অথচ ১৬ আগস্ট সুভায়নের হামলার শিকার হোন নারী শিক্ষক এবং একইদিন বিকালে মামলা দায়ের হয় থানায়। কথা বলার একপর্যায়ে দুপুরের নামাযের কথা বলে চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ান টিও রবিউল। দেখা গেলো, এর ২০ মিনিট পরও রুম থেকে বের হননি তিনি। বিষয়টি জানতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা মেহের ইয়াসমিন-এর কার্যালয়ে তাকে সেখানে পাওয়া যায়নি। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অফিস চলাকালীন সময়ে ডিপিও জেলার দীঘিনালায় একটি দাওয়াতে রয়েছেন। এদিকে, ঘটনার পর থেকেই বিষয়টি ধামাচাপা দিয়ে আপোষ মিমাংসা করতে আহত নারী শিক্ষককে একাধিক বৈঠকে চাপ দিতে থাকেন টিও রবিউলসহ অনেকে। অভিযুক্ত সুভায়ন খীসার বিষয়ে কথা বলতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে গেলে সেখানে ডিপিও ফাতেমা মেহের ইয়াসমিনকে পাওয়া যায়নি। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অফিস সময়ে জেলার দীঘিনালায় একটি দাওয়াতে অংশ নিতে গিয়েছেন ডিপিও। বিষয়গুলো নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের উপ-পরিচালকসহ একাধিক কর্মকর্তার মোবাইলে কল দিয়ে কোনধরনের যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ও প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের আহ্বায়ক নীলোৎপল খীসার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এটিও’ সুভায়ন খীসার বিষয়টি তার জানা নেই। এদিকে, মারধরের শিকার নারী প্রধান শিক্ষক এখনো জেলা সদর হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চোখে এবং চোখের নিচে মারাত্মকভাবে জখম হওয়ায় চিকিৎসকরা অবজারভেশনে রেখেছেন। ঘটনার কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্ত সুভায়ন খীসা গ্রেফতার না হওয়ায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ঐ নারী শিক্ষক। ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চেয়েছেন তিনি। এর আগে গত ১০ আগস্ট বেলা ১১টায় সদরের সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সুভায়ন খীসা কর্তৃক তার কার্যালয়ে নারী প্রধান শিক্ষককে মারধর করে রক্তাক্ত করার অভিযোগ ওঠে। আহত প্রধান শিক্ষকের নাম মৌসুমি ত্রিপুরা। তিনি জেলা সদরের মহালছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। সুভায়নের কু প্রস্তাব না মানার কারনে এ হামলার শিকার হয়েছেন বলে দাবি মৌসুমি ত্রিপুরার। ঘটনার পর আহত শিক্ষককে দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তা ও শিক্ষক নেতারা। তখন বিচারের আশ্বাস দিলেও এরপর শুধু মিমাংসার কথাই বলেছেন তারা। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত সুভায়ন খীসা তার কার্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন।
