‘সন্ত্রাসীদের ধ্বংস অনিবার্য’ মন্তব্য করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা বলেছেন, ‘সন্ত্রাসের মাধ্যমে কখনও শান্তি প্রতিষ্ঠা পেতে পারে না। ভ্রাতৃঘাতী সংঘাতসহ যে কোনও ধরনের সংঘাত লাশের স্তুপ বৃদ্ধি করে। একটি হত্যা দুইটি প্রতিহত্যা সৃষ্টি করে, চারটি হত্যা আটটি প্রতিহত্যা সৃষ্টি করে।’ তাই সন্ত্রাসীদের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পথ পরিহার করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। গত ১৮ মার্চ রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে নির্বাচনী সহিংতায় নিহত পরিবার ও আহতদের মাঝে রোববার আর্থিক সহায়তা প্রদান ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, ‘হিংসাত্মক প্রাণঘাতী কর্মকান্ড চালিয়ে কেউ কখনো শান্তি স্থাপন করতে পারে না। বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে নকশালসহ বিভিন্ন চরমপন্থী সংগঠনগুলোর সদস্যরা কেউ আইনের হাত থেকে বাঁচতে পারেনি। পার্বত্য অঞ্চলেও যারা সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে নিয়োজিত রয়েছেন, আপনারাও আইনের হাতে নিজেদের সোপর্দ করুন। অন্যথায় আপনারা একদিন নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবেন।’
বাঘাইছড়িতে সাত খুনের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা আরো বলেন, ‘বাঘাইছড়িতে সংঘটিত হত্যাকান্ড একটি মর্মান্তিক ঘটনা। ভবিষ্যতে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এমন হত্যাকান্ড কেউ যাতে পুনরাবৃত্তি না করতে পারে নির্বাচন কমিশন সেই বিষয়ে সতর্ক রয়েছে। ভবিষ্যতে নির্বাচনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো জোরদার করা হবে।’
রবিবার সকালে বাঘাইছড়ি উপজেলা পরিষদ মিলনায়নে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন, নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহাদাত হোসেন চৌধুরী, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ, চট্টগ্রাম এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল এস এম মতিউর রহমান, চট্টগ্রাম পুলিশের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক, অতিরিক্ত বিভাগিয় কমিশনার ও অতিরিক্ত সচিব শংকর রঞ্জন সাহা, নির্বাচন কমিশনের জাতীয় নিবন্ধন বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুল হক, খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হামিদুল হক।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ির বিজিবির সেক্টর কমান্ডার কর্নেল গাজি মুহাম্মদ সাজ্জাদ, খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. শহিদুল ইসলাম, ২৭ বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মাহবুবুল ইসলাম, ৫৪ বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্নেল আল হাকিম মো. নওশাদ।
সেনাবাহিনীর চট্টগ্রাম এরিয়া কমান্ডার বক্তব্যে বলেন, ‘সন্ত্রাসী ঘটনার মধ্য দিয়ে সন্ত্রাসীরা পার্বত্য চট্টগ্রামকে অশান্ত করে সাধারণ পাহাড়ি-বাঙালির সম্প্রীতির সহাবস্থানকে বিনষ্ট করতে চেয়েছিল কিন্তু প্রশাসন তা ধৈর্যের সাথে মোকাবেলা করে এখনো সহাবস্থান টিকিয়ে রেখেছে। আর ঘটনার সাথে জড়িত এবং ঘটনায় সহযোগিতাকারীদের কেউ কেউ ইতিমধ্যে ধরা পড়ছে; বাকিরাও লুকিয়ে বাঁচতে পারবে না।’
চট্টগ্রামের ডিআইজি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘এলাকার শান্তিপ্রিয় জন সাধারণের সহায়তা নিয়ে সন্ত্রাস দমনে সরকার সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’
পরে নিহতের প্রত্যেক পরিবারকে সাড়ে ৫ লক্ষ টাকা এবং গুরুতর আহতদের ১ লক্ষ টাকা ও আহতদের ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। এর আগে উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সে পৌঁছালে তাকে গার্ড অব অনার দেয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত ১৮ মার্চ নির্বাচনী দায়িত্ব পালন শেষে উপজেলা সদরে ফেরার পথে সন্ত্রাসীদের গুলিতে ৭ জন নিহত ও ২৬ জন আহত হয়। এই ঘটনায় ৪০/৫০জনকে অজ্ঞাত দেখিয়ে বাঘাইছড়ি থানায় পুলিশ মামলা দায়ের করে।
