প্রান্ত রনি, কুসুমছড়ি থেকে ফিরে
পার্বত্য চট্টগ্রাম জলবায়ু সহনশীল প্রকল্পের (সিসিআরপি) অধীন রাঙামাটির বরকল উপজেলার হাজাছড়ি ছড়া প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন ও উপজেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মনিটরিং সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৪ মে) সকালে কুসুমছড়ি মনোরম বৌদ্ধ বিহারে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে হাজাছড়িছড়া জলবায়ু সহনশীল কমিটির কমিটির সভাপতি প্রভাত শংকর চাকমা সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বরকল উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান শ্যাম রতন চাকমা।
সভায় আরও বক্তৃতা করেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা চন্দন কুমার দে, পার্বত্য চট্টগ্রাম জলবায়ু সহনশীল প্রকল্পের রাঙামাটি জেলার টেকনিক্যাল অফিসার সুশীল চাকমা, হাজাছড়িছড়া জলবায়ু সহনশীল কমিটির কমিটির সাধারণ সম্পাদক মঙ্গল কুমার চাকমা ও বরকল ইউনিয়ন পরিষদের প্রাক্তন সদস্য তুলসী রঞ্জন চাকমা প্রমুখ। সভার সঞ্চালনা করেন প্রকল্পের মাঠ সংগঠক সুমন্ত চাকমা।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বরকল উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান শ্যাম রতন চাকমা বলেন, এই এলাকার মানুষের জন্য চারটি পাওয়ার টিলার অনেক উপকারে আসবে। বর্তমানে কৃষি ক্ষেত্রে আধুনিক কৃষি যন্ত্রের ব্যবহার বেড়েছে। এতে করে মানুষের কষ্ট অনেকাংশে কমে আসছে। বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। এ দেশের অর্থনীতির চাকা চলে কৃষকের ওপর ভর করেই। কৃষকরাই আমাদের দেশের মানুষের খাদ্যশস্যের যোগান দেন। আবার কৃষক-সাধারণ মানুষের করের টাকায় রাষ্ট্র চলে। তাই আমরা যারা জনপ্রতিনিধি আছি সবাইকে কৃষি-কৃষকের বন্ধু হতে হবে। আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে, আপনারা আমাদেরকে দুঃখ-দুর্দশার কথা জানাবেন। আমরা আপনাদের পাশে থাকার চেষ্টা করব। মানুষের সেবার ব্রত নিয়েই আমরা জনপ্রতিনিধি হয়েছি।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা চন্দন কুমার দে বলেন, প্রচণ্ড তাবদাহে মানুষের মতো পশু-পাখিরাও গরমে অতীষ্ট। তাই আপনাদের কাছে অনুরোধ, গবাদি-পশুর প্রতি যত্নবান হোন। এখন বিভিন্ন এলাকায় তীব্র গরমে স্টোক করে গরু মারা যাচ্ছে। তাই সারাদিন গবাদী পশুকে তীব্র রোদে ফেলে রাখবেন না। এছাড়া পশুকে যেসব টিকাসমূহ প্রদান করা হয়; সেগুলো নিয়মিত রাখবেন। রাতে গবাদী পশুকে ঘর তৈরি করে সেখানে রাখবেন, গাছ-গাছালির নিচে রাখবেন না। এছাড়া আপনাদের যে কোন পরামর্শের জন্য প্রাণিসম্পদ অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন; আমরা পরামর্শ দিব এবং প্রয়োজনে এলাকায় আসব।
সভায় অন্যান্য বক্তারা বলেন, সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত জনপদেও উন্নয়ন ধারা অব্যাহত রাখতে বদ্ধপরিকর। তাই এই প্রকল্পের অধীন এলাকার মানুষের উপকারের জন্য চারটি পাওয়ার টিলার প্রদান ও গ্রামীন পাহাড়ি সড়ক সংস্কার করা হয়েছে। এতে করে এলাকাবাসী সুফল ভোগ করতে পারবেন। তবে এক্ষেত্রে আপনাদের রক্ষণাবেক্ষণের দিকে মনোযোগী হতে হবে।
এদিন বিকেলে কুসুমছড়ি গ্রাম থেকে বুরবানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সড়ক সংস্কার কাজ পরিদর্শন করেছেন উপজেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটি ও হাজাছড়িছড়া জলবায়ু সহনশীল কমিটির সদস্যরা।
এসময় কুসুমছড়ি ছড়া গ্রামের মুরুব্বিরা জানিয়েছেন, পুরো গ্রামের মানুষদের কুসুমছড়ি থেকে বুরবানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত এই গ্রামীন পাহাড়ি সড়কে প্রত্যহ চলাচল করতে হয়। কিন্তু এটি এতটা পাহাড়ি সরু পথ যে, গ্রামের মানুষের এ পথে কৃষিপণ্যসহ অন্যান্য জিনিসপত্র আনা-নেয়ায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হতো। বর্ষায় তো ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। এখন সড়কটি প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় দুই কিলোমিটার সংস্কার করা হয়েছে। এতে সড়কটি প্রশস্ত হলো, এমনকি মানুষের দুর্ভোগও কিছুটা কমেছে।

প্রকল্প প্রসঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম জলবায়ু সহনশীল প্রকল্পের রাঙামাটি জেলার টেকনিক্যাল অফিসার সুশীল চাকমা জানিয়েছেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম জলবায়ু সহনশীল প্রকল্পের (সিসিআরপি) অধীনে আমরা জেলার প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। এরই অংশ হিসেবে বরকল উপজেলার হাজাছড়ি ছড়া এলাকার বাসিন্দাদের জন্য প্রায় ৬ লাখ টাকা ব্যয়ে চারটি আধুনিক কৃষিযন্ত্র পাওয়ার টিলার প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া সাড়ে ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে কুসুমছড়ি গ্রাম থেকে বুরবানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সড়ক সংস্কার কাজ করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ডেনমার্কভিত্তিক সহায়তা প্রতিষ্ঠান ডেনিশ ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সিসের (ডানিডা) অর্থায়নে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ ও ইউএনডিপি যৌথভাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম জলবায়ু সহনশীল (সিসিআরপি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পের অধীনে সৌর বিদ্যুতের মাধ্যমে কৃষি জমিতে সেচ ব্যবস্থা, গ্রামীন সড়ক সংস্কার, আধুনিক কৃষি উপকরণ প্রদানসহ নানামুখী কাজ করা হচ্ছে।
