মিশু মল্লিক ॥
পর্যটকের পদভারে মুখরিত পার্বত্য জেলা রাঙামাটি। মহান বিজয় দিবস ও সাপ্তাহিক ছুটিসহ টানা তিনদিনের ছুটিতে যান্ত্রিক যন্ত্রণা মুছে নিজেকে পরিশুদ্ধ করতে প্রকৃতিতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন পর্যটকরা। শুক্রবার ঝুলন্ত সেতু, পলওয়েল পার্ক, রাঙামাটি পার্ক, শহীদ মিনার, ডিসি বাংলো, আরণ্যক হলিডে রিসোর্ট সহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রগুলো ঘুরে দেখা যায়, লোকে লোকারণ্য পর্যটন স্পটগুলো। ছুটির দিন হওয়াতে পর্যটকদের পাশাপাশি স্থানীয়দেরও উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। পর্যটকদের বিষয়টা মাথায় রেখে অপরূপ সাজে সাজিয়ে তোলা হয়েছে পর্যটনকেন্দ্রগুলো।
ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসা পর্যটক সেলিম রহমান জানান, করোনার কারণে দীর্ঘদিন কোথাও ঘুরতে যেতে পারিনি। টানা তিনদিন ছুটি পাওয়াতে পরিবার পরিজন নিয়ে রাঙামাটি বেড়াতে এসেছি। তবে এত বেশি পর্যটকদের ভিড় থাকবে সেটা ধারণা করতে পারিনি। তবে রাঙামাটির সৌন্দর্য্য দেখার পর অন্যান্য অসুবিধাগুলোর কথা ভুলে গিয়েছি।
চট্টগ্রাম থেকে আসা পর্যটক সুজন দেব বর্মন বলেন, আমরা আমাদের গ্রামের অনেকগুলো পরিবার মিলে এক বাস মানুষ এসেছি রাঙামাটি ভ্রমণে। তবে আবাসিক হোটেলগুলোতে সিট পেতে আমাদের অনেক কষ্ট পেতে হয়েছে। আমরা ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে শহরের বিভিন্ন হোটেলে রুম বুকিং নিয়েছি। রাঙামাটি শহরকে আরো পর্যটনবান্ধব করতে আবাসিক হোটেলসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের আহবান জানান তিনি।
পর্যটকদের এত উপস্থিতির কারণে এবং বিভিন্ন স্থানে মহান বিজয় দিবসের আনুষ্ঠানিকতা থাকার কারণে রাস্তাঘাটে জ্যাম লক্ষ্য করা গেছে। পর্যটকবাহী বাস, মাইক্রোসহ যানবাহনগুলো পার্কিং করার জায়গা না পাওয়াতে সড়কের পাশেই পার্ক করে রাখা হয়েছে। এতে পর্যটনকেন্দ্রগুলোর আশেপাশের সড়কে তৈরি হয়েছে যানজট।
পর্যটকদের মূল আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম কৃত্রিম কাপ্তাই হ্রদ। পাহাড় ঘেরা হ্রদের সৌন্দর্য উপভোগের জন্য ছোট-বড় বোট ভাড়া করে ভ্রমণে বের হচ্ছেন। অনেকের কাপ্তাই হ্রদ ঘেষা স্পটে রাত্রিযাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
রাঙামাটি পর্যটন ঘাটের ইজারাদার মো. রমজান আলী জানান, পর্যটকদের জন্য ট্যুরিস্ট বোট সামাল দিতে বেগ পেতে হচ্ছে। তারপরও যথাসাধ্য আমরা পর্যটকদের সেবা দিয়ে যাচ্ছি।
পর্যটকদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে শহরের টেক্সটাইল মার্কেটগুলোতেও। পর্যটক আকর্ষণে স্থানীয়ভাবে তৈরি বিভিন্ন পাহাড়ি পোশাক, পণ্য ও খাদ্য সামগ্রীর পসরা সাজিয়েছেন দোকানদাররা। বুনন টেক্সটাইলের স্বত্বাধিকারী তুলি চাকমা জানান, শীত মৌসুমকে মাথায় রেখে আমরা বিভিন্ন পোশাক, ব্যাগ, আচার ও হাতে তৈরি পণ্য তুলেছি দোকানে। কাল থেকে যথেষ্ট পর্যটক আসছেন এবং বিক্রিও মোটামুটি ভালো।
রাঙামাটি হোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মঈনুদ্দিন সেলিম বলেন, তিনদিনের টানা বন্ধের কারণে শহরের সিংহভাগ হোটেলের রুমগুলোর শতভাগ বুকিং অনেক আগেই হয়ে গিয়েছিল। যারা বুকিং না করে শহরে প্রবেশ করেছেন তাঁদের রুম পেতে কষ্ট হচ্ছে। রাঙামাটি শহরে ৫৪টি হোটেল রয়েছে যা ১০হাজার পর্যটক ধারণে সক্ষম, কিন্তু ছুটির কারণে পর্যটক সমাগম বেশি হওয়াতে অনেক পর্যটক রুম পাচ্ছেন না। তবে আশা করছি, এই সংকট খুব দ্রুতই কেটে যাবে।
রাঙামাটি পর্যটন কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৃজন কান্তি বড়ুয়া বলেন, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার প্রচুর পর্যটক এসেছে। হোটেলও বুকিং রয়েছে। শীতের এইসময়টাই পর্যটকরা বেশিরভাগ ঘুরতে বের হয়।
