সাত সরকারি কর্মচারিকে হত্যার ঘটনায় বাঘাইছড়ির ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন তদন্ত কমিটি। কমিটির প্রধান স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও চট্টগ্রাম স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক দীপক চক্রবর্তীর নেতৃত্বে কমিটির ৭ সদস্য বেলা ১১টার দিকে রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ির ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
এসময় তারা ওইদিন গাড়ি বহরে থাকা আইন শৃংখলাবাহিনীর সদস্যদের (আনসার ও বিজিবি) সাথে কথা বলেন। সেদিন কী ঘটেছিল তা জানার চেষ্টা করেন। ঘটনার আগে ও পরের অবস্থা এবং সাজেকের ভোট কেন্দ্রে কোন সমস্যা হয়েছিল কিনা তাও জানার চেষ্টা করেন।
এরপর ১২টার দিকে তদন্ত কমিটির সদস্যরা বাঘাইছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে আহতদের সাথে কথা বলেন। তাদের শারিরীক অবস্থার খোঁজ খবর নেয়া ছাড়াও ঘটনার আদ্যপান্ত শুনেন। চিকিৎসকদের সঙ্গেও কথা বলেছেন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে কমিটির প্রধান দীপক চক্রবর্তী জানিয়েছেন, তারা ঘটনার সব দিক খোঁজ খবর নিয়ে দেখছেন। কী ঘটেছিল, কিভাবে ঘটলো, কারা এর সাথে জড়িত থাকতে পারে তাও খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি জানালেন, এটি একটি পরিকল্পিত এমবুশ ছিল বলে মনে হয়েছে। তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। এরমধ্যে ঘটনার কারণ, জানমালের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপন এবং এ ধরণের ঘটনা যাতে ভবিষ্যতে না হয়; সেজন্য করণীয় কী তা সুপারিশ করা। তিনি জানান, আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যেই তদন্ত রিপোর্ট উপস্থাপন করার কথা রয়েছে। তবে একটি ভালো রিপোর্ট জমা দেয়ার স্বার্থে প্রয়োজন হলে আরো সময় চাওয়া হতে পারে।
পরে তদন্ত কমিটির সদস্যরা প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইন শৃংখলাবাহিনীর সদস্য এবং নির্বাচনী সংশ্লিষ্টদের শুনানীও নেয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, গত ১৮ মার্চ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালন শেষে ফেরার পথে বাঘাইছড়ি সড়কের ৯ কিলো নামক এলাকায় সন্ত্রাসী হামলায় ৭জন নিহত আরো বেশ কয়েকজন আহত হয়। ঘটনার পরের দিন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন।
তদন্ত কমিটির সাথে রয়েছেন পুলিশের চট্টগ্রামের ডিআইজি আবু ফয়েজ, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাদেক হোসেন, এডএম নজরুল ইসলাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সদস্য আশীষ কুমার বড়–য়া, ৩০ আনসার ব্যাটালিয়নের পরিচালক মো: নুরুল আমিন, ২৭ বিজিবি‘র অধিনায়ক লে: কর্ণেল মাহবুবুল আলম।
