সুহৃদ সুপান্থ
২০০২ সালে রাঙামাটি জেলা আওয়ামীলীগের কাউন্সিলে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি হওয়া দীপংকর তালুকদারের কমিটিতে লড়াই করেই সাধারন সম্পাদক হয়েছিলেন নিপাদ ভদ্রলোক সেলিম চৌধুরী। দীর্ঘকায় শরীরের বিশাল হৃদয় মানুষটিকে সাথেই নিয়েই পুরো বিএনপি শাসনামল ও জরুরী সরকারের সময়কাল পাড় করেছিলেন দীপংকর। সেলিম চৌধুরীর আকস্মিক মৃত্যুতে তার পদে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পান যুগ্ম সম্পাদক ও রাঙামাটির ক্রীড়াঙ্গনের খুব চেনা মুখ কামালউদ্দিন। ক্রীড়ামুদে এই মানুষটি খেলার মাঠে যতটা উচ্ছাস নিয়ে ছুটে বেড়াতেন,রাজনীতির জটিল কূটিল মাঠে ততটা দাপিয়ে বেড়ানো কঠিন হয়ে পড়ে তার। তবুও ব্যক্তিগত মাত্রাতিরিক্ত রাগ,বকাঝকা করা,হুট করে মাথা গরম করে ফেলা,ছোট ভাইয়ের একটি উটকো ঝামেলার সাথে জড়িয়ে যাওয়া ছাড়া বড় ধরণের কোন অভিযোগ বা বিতর্কহীনভাবেই কাটিয়ে দিয়েছিলেন ভারপ্রাপ্ত ও ভারমুক্ত সাড়ে চারটি বছর।
২০১২ সালের সম্মেলনে সাধারন সম্পাদক পদে তাকে উপজেলা চেয়ারম্যান হাজী মুছা মাতব্বরের চ্যালেঞ্জে পড়তে হয়। সেই চ্যালেঞ্জ উতরাতে পারেনি খেলার মাঠে বহুবার বহু কঠিন সময়েও জয়ী এই মানুষটি। অথচ সেবার প্রকাশ্যেই দাদা দীপংকর তালুকদারের আশীর্বাদ ছিলো তার উপর ! তথাপি পারেননি বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী কামাল।
এরপর গত দশ বছওে কর্ণফুলির পানি গড়িয়েছে বহুদূর। সেই কামাল এখন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ সদস্যও। বিপরীতে তার প্রতিদ্বন্দ্বি মুছা উপজেলা চেয়ারম্যানশীপের মেয়াদ শেষ করে টানা দুইবার রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রভাবশালী সদস্য।
শুধুমাত্র বয়সে আর পড়াশুনায় মুছার চেয়ে এগিয়ে কামাল। বাকি জরুরী সব বিষয়েই বেশ পিছিয়ে তিনি। মুছার আর্থিক সঙ্গতি,পারিবারিক প্রভাব,বিশাল কর্মী বাহিনী,সামজিক প্রভাবের ভীড়ে ভীষণ আটপৌঢ়ে কামাল। তার সততা নিয়ে যেমন প্রশ্ন নেই,তেমনি বহুপ্রশ্নই তার ‘মাথাগরম’ স্বভাবের জন্য। কিন্তু বাস্তবতা হলো,নিজে যেমন সাবেক ছাত্রইউনিয়ন নেতা,তেমনি তার ভাই শহীদ সাংবাদিক আব্দুর রশীদর আকাশসম জনপ্রিয়তাও খুব একটা প্রভাব ফেলেনি তার রাজনৈতিক কৌশল বা কূটকৌশল এর পূর্ণ ব্যবহারে। ফলে যা হওয়ার তাই হয়েছে। তার পেছনে মৌসুমী পাখির মত ভীড় করা আওয়ামীলীগের কথিত ‘মুছা বিরোধী’রা আসলেই কতটুকু ‘মুছা বিরোধী’ আর কতটা ‘মুখোশ পড়া’ চিনতে পারবেন না কামাল,হয়ত জানতেও পারবেন না কোনদিন।
বড় দলের বড় রাজনীতির কোথায় কোথায় ফাঁদ আর কোন বাঁকে কে হারিয়ে যাবে,তা বোঝা দৃশ্যত ‘সোজাসাফটা কথা’র জন্য আলোচিত কামালের জন্য অতটা সহজ নয় ! তাই দশ বছর আগের পরাজয়ের বৃত্ত ভাঙ্গতে না পারা কামালকে আবারো একই মুছার কাছে হেরে গিয়ে ঘরে ফিরতে হলো বিষন্ন মনে ! তবে এবারের পরাজয়ে কামাল নিজে একা হারেননি ! তার সাথে গোপনে ও প্রকাশ্যে মাঠে নামা শহুরে রাজনীতির একঝাঁক হেভিওয়েট নেতাকেও পরাজয়ের স্বাদ পাইয়ে দিয়েছেন,বেশ ভালো করেই !
Previous Articleদীপংকরেই আস্থা শেখ হাসিনার
Next Article জেলা পরিষদের সাথে মতবিনিময় বীর বাহাদুরের
