মরণঘাতী করোনার প্রভাবে যেখানে জনজীবন বিপর্যস্ত; সেখানেই নিজেদের সুরক্ষিত রাখতেই ব্যস্ত হয়ে পড়েছে মানবকূল। বাংলাদেশেও করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে কার্যত লকডাউনে পুরোটা দেশ। এই সময়টাতে শত কর্মব্যস্ত মানুষরাও এখন দিন কাটাচ্ছেন আলসেমিতেই। পথে ঘাটে বের হলেও চারদিকে সুনসান নীরবতা। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের দোড় থেকে বের হচ্ছেন না কেউই।
করোনার এই সংকটকালে মানুষ নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে ও পরিবারের খাবারের যোগান দিতেই যেখানে হিমশিম খাচ্ছে; সেখানে অসহায় প্রাণীদের খবর রাখে কে? শহুরে জীবনের অলিগলি, রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো যাযাবর প্রাণীরাও আজ করোনার থাবায় দিশেহারা। পথে ঘাটে মানুষের উপস্থিতি কমে যাওয়া ও দোকানপাট বন্ধ থাকায় তারাও এখন তীব্র খাবার সংকটে ভূগছে।
এমন সময়েই রাঙামাটি শহরের বিভিন্ন প্রান্তে যাযাবর ঘুরে বেড়ানোর কুকুরগুলোর মাঝে খাবার বিতরণ করেছে রাঙামাটি জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। প্রতিষ্ঠান প্রধান ও নির্বাহী প্রকৌশল অনুপম দে’র নেতৃত্বে একটি দল শুক্রবার জেলা শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে-ঘুরে পথে ঘাটে চষে বেড়ানো কুকুরগুলোর মাঝে খাবার বিতরণ করেছেন। এসময় নির্বাহী প্রকৌশল অনুপম দে’র সঙ্গে ছিলেন, সদর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলের উপসহকারী প্রকৌশলী সুব্রত বড়ুয়া ও দুজন অফিস স্টাফ।
প্রকৌশলী অনুপম দে জানিয়েছেন, সারাদেশেই করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। কেবলমাত্র বাকী রয়েছে এই পার্বত্য জেলা রাঙামাটি। নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে সব মানুষই এখন ঘরবন্দি। অথচ মানুষের সমাগম কমে যাওয়া ও দোকানপাট বন্ধ হয়ে পড়ায় খাবার সংকটে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে শহুরে এলাকায় যাযাবর ঘুরে বেড়ানো প্রাণীগুলো।
তিনি বলেন, তাই আমি উদ্যোগ নিয়ে শুক্রবার সকাল থেকে জেলা শহরের বনরূপা থেকে শুরু করে রিজার্ভবাজার, বাসস্ট্যান্ড, পুরাতন শহীদ মিনার, তবলছড়ি, আসামবস্তি, ভেদভেদী, কলেজগেইট, টিএন্ডটি, দেবাশিষ নগরসহ বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে বেড়ানো ক্ষুধার্ত কুকুরগুলোর মাঝে খাবার বিতরণ করেছি। খাবার হিসেবে প্রায় অর্ধশতাধিক কুকুরকে দেওয়া হয়েছে বন-রুটি।
