মুফিজুর রহমান, নাইক্ষ্যংছড়ি
নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু সীমান্তে আরসা-আরএসও’র মাঝে সংঘটিত ইয়াবা ও গরু পাচার নিয়ে চলা সংঘর্ষ বন্ধ থাকলেও আতংক কাটেনি এখনো। নো ম্যান্স ল্যান্ডের ৬শত বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হাজার রোহিঙ্গা এখন তুমব্রু গ্রামের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। আরসা-আরএসও বিরোধ রোহিঙ্গাদের মাঝে হতাশা জাগিয়ে তুলেছে এবং নিজ দেশে ফেরার জন্য রোহিঙ্গাদের প্রস্তুতিতেও ভাটা পড়বে বলেও মনে করছেন অনেকেই।
স্থানীয়রা জানান, সীমান্তে দীর্ঘদিন ধরে গরু ও ইয়াবা পাচার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল দুই সংগঠনের মাঝে। বনিবনা না হওয়ায় তাদের মাঝে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
তুমব্রু বাজার ব্যবসায়ী জামাল হোসেন বলেন, রবিবার নো ম্যান্স ল্যান্ডে গোলাগুলির কোন আওয়াজ তারা শুনেনি। নো ম্যান্স ল্যান্ডে এখন আর কোন ঘরবাড়ি নেই। সব পুড়ে কয়লা হয়ে গেছে। শুধু কিছু পুড়ে যাওয়া খুটি দাঁড়িয়ে আছে। আর নো ম্যান্স ল্যান্ডে আশ্রিত রোহিঙ্গা শিবিরের সাড়ে ৬শত ঘর পুড়ে যাওয়ার পর পালিয়ে আসা সাড়ে ৪ হাজার রোহিঙ্গা এখন তুমব্রু গ্রামের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।
বস্তি হারা এসব রোহিঙ্গাদের কয়েকজন বলেন, তারা পায়খানা, গোসল, ব্যবহারের পানি ও পানীয় জলের অভাবে রয়েছে। এসবের তীব্র সংকটে তারা। যা দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন। না হলে অসুস্থ হয়ে অনেকে মারাও যেতে পারে।
তবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে তুমব্রু গ্রামে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের মাঝে খাবার ও চিকিৎসা সেবায় এগিয়ে এসেছেন দুই আন্তর্জাতিক এনজিও সংস্থা। আইসিআরসি সূত্র জানান, শনিবার থেকে তারা সব রোহিঙ্গাদের জন্যে শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করেছেন। যা পর্যায়ক্রমে সব পরিবারের হাতে তুলে দেয়া হবে। তারা বলেন, প্রতি পরিবারের মাঝে ৪ কেজি চিড়া, ২ লিটার পানি, আধা লিটার চিনি ও অন্যান্য খাবার। তবে রবিবার সকাল থেকে চিকিৎসা সেবা আগের মত শুরু হয়েছে।
ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ সাংবাদিকদের বলেন, নতুন করে সীমান্ত ঘোলাটে করছে দুই রোহিঙ্গা সংগঠন আরএসও এবং আরসা। গরু পাচার ও ইয়াবার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র সংঘটিত সংঘর্ষ আতংক ভূগাচ্ছে এপারের নিরীহ মানুষদের উপর। গত ১৮ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া আরএসও এবং আরসা’র সংঘর্ষে অনেকেই হতাহত হয়েছে। জ¦ালিয়ে দেয়া হয়েছে রোহিঙ্গা বস্তি। রোহিঙ্গারা বস্তি হারিয়ে এখন এপারে লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছ। তবে এসব রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তায় এগিয়ে এসেছে সেবা সংস্থা গুলো।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোমেন শর্মা সাংবাদিকদের জানান, সীমান্তের তুমব্রুতে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তার জন্যে কাজ করছে বিজিবি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তিনি এ বিষয়ে সার্বক্ষনিক খোঁজখবর নিচ্ছেন। এ সীমান্ত এখন শান্ত এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।
