রাঙামাটি শহরের রাণী দয়াময়ী উচ্চ বিদ্যালয়ে পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলের মানোন্নয়নে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে বিদ্যালয়ে হলরুমে অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, বিদ্যালয় পরিচালনা পষর্দের সভাপতি ও রাঙামাটি জেলা প্রশাসক একেএম মানুনুর রশিদ। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন, রাঙামাটি জেলার পুলিশ সুপার মো. আলমগীর কবীর, নবনির্বাচিত বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ সদস্য অ্যাডভোকেট প্রতীম রায় পাম্পু, শিক্ষক, আভিভাবক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ। সভার সভাপতিত্ব করেন, রাণী দয়ামায়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রণতোষ মল্লিক। সভায় বিদ্যালয়ের শতাধিক অভিভাবক উপস্থিত ছিলেন।
উন্মুক্ত আলোচনায় অভিভাবকগণ বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ও মাননিয়ে কিছুটা সন্তোষ প্রকাশ করলেও শিক্ষার্থীর বেতন প্রদান নিয়ে ভোগান্তির কথা জানান। তবে অধিকাংশ অভিভাবক প্রত্যন্ত অঞ্চলের হওয়ার কারণে বিদ্যালয়ে শিক্ষার মানের সঠিক চিত্র উপস্থাপন করতে পারেননি বলে অনেকেই ধারণা করেছেন।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক জানান, শহরের এই প্রাচীন স্কুলটির শিক্ষার মান এখনও কাক্সিক্ষত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। অনেকটা দায়সারা ভাবে চলছে বিদ্যালয়টি। তবে আশা করছি, হয়তো এবার কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে। কারণ জেলা প্রশাসক স্কুটির ব্যাপারে আন্তরিক। তবে প্রধান শিক্ষককে দক্ষতার সাথে প্রশাসনকে ম্যানেজ না করে সে দক্ষতা শিক্ষাদানে ব্যবহার করার অনুরোধ জানান তিনি।
বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ সদস্য অ্যাডভোকেট প্রতীম রায় পাম্পু বলেন, এ বিদ্যালয়ের সাথে আমার অনেক স্মৃতি মিশে আছে। এবার প্রথম পরিচালনা পর্ষদে এলাম, আমার চেষ্টা থাকবে এ বিদ্যালয়ে শিক্ষার মান বাড়াতে। যুগোপযুগী পদক্ষেপ নিয়ে বিদ্যালয়টিকে রাঙামাটির অন্যতম একটি বিদ্যাপীঠ হিসেবে গড়ে তোলার ব্যাপারে ভূমিকা রাখতে চাই।
এসময় জেলা পুলিশ সুপার মো. আলমগীর কবীর বলেন, মানসম্পন্ন শিক্ষা বিস্তারে শিক্ষক, অভিভাবক, পরিচালনা কমিটি সর্বোপরি শিক্ষার্থী সকলকে এক সাথে কাজ করে যেতে হবে। তবেই লক্ষ্য পূরণ হবে, অন্যথায় নয়।
তবে ভবিষ্যতে এমন আয়োজন শনিবার করার পক্ষে মত দিয়ে এসপি বলেন, যেহেতু শনিবার আমাদের বন্ধ থাকে, তাই আমাদের কাজের চাপও কম থাকে। আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা থাকে সেদিন করলে আরও সময় দিয়ে অভিভাবকদের কথা শুনতে পারতাম। আমাদের সন্তানরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কেমন সুযোগ পায় তা উনাদের জানাতে পারতাম। তাহলে অভিভাবকরাও সেভাবে সুবিধা আদায় করে নেয়ার জন্য শিক্ষকদের চাপ দিতে পারতেন।
জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ বলেন, এই স্কুলের পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলে আমি মোটেও সন্তোষ না। আপনারা যতই বলেন এখানে পড়ালেখা ভাল হয়, বা বাচ্চারা বাসায় পড়ে, তা আমি বিশ্বাস করিনা। কোথাও না কোথাও ত্রুটি আছে। তা না হলে ফলাফল এমন হবে কেন? এসএসসি পরীক্ষা যারা দিবে তাদের এবং অভিভাবকদের সাফ জানিয়ে দিচ্ছি, যে সকল শিক্ষার্থী এবার নির্বাচনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবে না তাদের আমরা এসএসসি পরীক্ষা দিতে দিবো না। এখনো চার মাস সময় হাতে আছে। আপনারা আপনাদের সন্তানদের যতœ নিন। আর শিক্ষার্থীরাও মন দিয়ে পড়ালেখা করো নির্বাচনী পরীক্ষায় পাশ করতে হবে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, নির্বাচনী পরীক্ষায় পাস না করলে যেন শিক্ষার্থীকে পরীক্ষা দিতে দেয়া হবে না, তেমনি যে বিষয়ে ফেল করবে ওই শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষককে তার জবার দিতে হবে। শিক্ষকগণ এখন থেকে প্রস্তুতি নিন। দুর্বল ছাত্রদের আলাদাভাবে যতœ নিন। জেএসসি-এসএসসি পরীক্ষার্থীদের যতœ নেয়ার পাশাপাশি সকল শ্রেণিতে পাঠদানে ব্যাপারে আপনারা আরও মনোযোগী হবেন এই প্রত্যাশা করছি।
