নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি ॥
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের ১৬ কিলোমিটার জুড়ে ৩৮-৪১নং পিলার পর্যন্ত মিয়ানমার বাহিনীর গুলিবর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। ঘুমধুম-তুমব্রু সীমান্ত ছাড়াও নতুন করে সদর ইউনিয়নের চাকঢালা, জামছিড় ও আমতলি সীমান্তে মিয়ানমার অংশে গোলাগুলি শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকেও নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের চাকঢালা, জামছড়ি, আমতলি ও ঘুমধুম, তুমব্রু সীমান্তে ভারী গুলির শব্দে ঘুম ভেঙ্গেছে সীমান্তবাসী মানুষদের। সীমান্তের মানুষদের গুলির আওয়াজে ঘুম ভেঙ্গে যাওয়া এটি সাধারন বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে এখন।
এর আগে মিয়ানমার থেকে দুটি মর্টারশেল ও গোলা বাংলাদেশে এসে পড়ার ঘটনায় ঢাকাস্থ মিয়ানমার রাষ্ট্রদূত উ অং কিয়াউ মো কে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয় এবং এসব ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয় সরকারের পক্ষ থেকে। এরপরও গোলাগুলি বন্ধ হয়নি।
সীমান্তের সংবাদকর্মী নুর মোহাম্মদ জানিয়েছেন, প্রতিদিনের ন্যায় বৃহস্পতিবার সকালেও তার ঘুম ভেঙ্গে যায় গুলির শব্দে। প্রতিদিনকার এই ঘটনায় সীমান্তে বসবাসকারী মানুষজন বেশ আতংকিত হয়ে পড়েছেন।
তুমব্রু বাজারের ব্যবসায়ী ফখরুদ্দিন জানিয়েছেন, সীমান্তে গুলিবর্ষণের বিষয়টি এখন স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। কারণ এ ধরনের ঘটনা এখানে নিত্যদিনের বিষয়। তবুও সবার মধ্যে আতংক কাজ করছে। বিশেষ করে সীমান্ত লাগোয়া জমিতে জুম চাষী ও শ্রমিকরা অসহায় হয়ে পড়েছে। তারা গুলিবিদ্ধ হওয়ার ভয়ে কাজ করা থেকে বিরত থেকেছেন।
ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আজিজ জানিয়েছেন, প্রায় মাসখানেক ধরে ঘুমধুম-তুমব্রু সীমান্তে মিয়ানমারের ভিতরে গোলাগুলি চলতেছে। যা এখনো বন্ধ হয়নি। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আবারো তীব্র গুলির শব্দে এপারের ভূমি কেপে উঠতেছে।
নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আবছার ইমন জানিয়েছেন, গত এক মাস ধরে ঘুমধমু ইউনিয়নের তুমব্রু সীমান্তে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে গোলাবর্ষণ করা হচ্ছে। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সদর ইউনিয়নের চাকঢালা, জামছড়ি ও আমতলি সীমান্তেও গোলাগুলির আওয়াজ শুনা গেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। এ বিষয়ে জনপ্রতিনিধিরা সীমান্তবাসীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ সহ প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সীমান্তে বসবাসকারী মানুষদের আতংকগ্রস্থ না হওয়ার জন্য বলা হয়েছে।
