।। বিজ্ঞপ্তি ।।
জাতীয় জীবনে যেসব চাহিদা রয়েছে এবং আমাদের যেসব মৌলিক অধিকার রয়েছে সেসব অধিকার বাস্তবায়ন করায় হচ্ছে মানবাধিকার। আর এই মানবাধিকারের জন্য কাজ করে যাচ্ছে অত্রাঞ্চলের অন্যতম সামাজিক ও মানবাধিকার সংগঠন “ওয়ার্ল্ড পীস্ এন্ড হিউম্যান রাইটস সোসাইটি। মঙ্গলবার সংগঠনটির পক্ষ থেকে রাঙামাটি পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র এবং কাউন্সিলরবৃন্দদের সংবর্ধনাকালে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য এবং রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান চিংকিউ রোয়াজা এসব কথা বলেন। রাঙামাটি চেম্বার অব কমার্স’র হল রুমে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথি মেয়র মোঃ আকবর হোসেন চৌধুরীসহ সকল কাউন্সিলরবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) তাপস রঞ্জন ঘোষ, দৈনিক গিরিদর্পণের সম্পাদক আলহাজ্ব একেএম মকছুদ আহমেদ, রাঙামাটি প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাখাওয়াৎ হোসেন রুবেল, রাঙামাটি চেম্বার্ব অব কমার্স’র সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ ও প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার আল হক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে চিংকিউ রোয়াজা ওয়ার্ল্ড পীস্’র কার্যক্রমের ভূয়সি প্রশংসা করে বলেন, এধরনের উদ্যোগ নিতান্তই ইতিবাচক। তিনি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মানুষের ভালোবাসার মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখতে দায়িত্ব কর্তব্যের প্রতি সচেতন এবং সতর্ক থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, একটি পরিকল্পিত আধুনিক পর্যটনবান্ধব শহর হিসাবে গড়ে তুলতে গেলে একা কোনও প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যক্তির পক্ষে সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ। তাই এব্যাপারে সকলতে এগিয়ে আসার আহবান জানান।
অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথি মেয়র মোঃ আকবর হোসেন চৌধুরী বলেন, শান্তি-সম্প্রীতি এবং একটি পরিকল্পিত আধুনিক শহর হিসাবে গড়ে তুলতে গেলে সকলের সহযোগিতা এবং সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। আর আমি সেটা চেষ্টা করবো। তিনি ওয়ার্ল্ড পীস্সহ এধরনের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে একটি সুন্দর পরিকল্পিত শহর গড়ে তুলতে এগিয়ে আসার আহবান জানান। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) তাপস রঞ্জন ঘোষ সংবর্ধিত অতিথিদের উদ্দেশ্যে বলেন, শপথ নেয়ার আগে এধরনের একটি সংবর্ধনা বা সম্মাননা পাওয়াই প্রমাণ করে মানুষ আপনাদের কতোটুকু ভালোবাসে, সুতরাং এই শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা আপনাদের অবশ্যই রক্ষা করতে হবে। বিশেষ অতিথি আলহাজ্ব একে এম মকছুদ আহমেদ বলেন, পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি বিধানে যেসব আঞ্চলিক দল রয়েছে তাদের, তিন সার্কেল চিফ এবং এলাকার হেডম্যান কার্বারিসহ সব পক্ষের সাথে বসে এর স্থায়ী সমাধান করতে হবে, না হলে এ সমস্যার সমাধান কখনও সম্ভব নয়। বিশেষ অতিথি চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, মানুষকে সম্মান করলে নিজেরাও সম্মানিত হবেন। আনোয়ার আল হক “ওয়ার্ল্ড পীস্ এন্ড হিউম্যান রাইটস সোসাইটি”কে মানবতার ফেরীওয়ালা আখ্যা দিয়ে বলেন রাঙামাটিতে অনেক সংগঠন রয়েছে কিন্তু ওয়ার্ল্ড পীস্ হচ্ছে ব্যতিক্রম, কারণ এই সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সবসময় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান। এরা দুর্যোগ, অগ্নিকান্ডসহ কন্যাদায়গ্রস্ত পিতা মাতা, মুমূর্ষু রোগীসহ সব জায়গাতেই এদের সরব অবস্থান রয়েছে।
ওয়ার্ল্ড পীস্’র সাংস্কৃতিক সম্পাদক অশ্রু মুৎসুদ্দীর সঞ্চানায় দুপুরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শুরু হলে প্রথমে ধর্মীয় গ্রন্থাদি পাঠ করা হয়। এরপর সোসাইটির পক্ষ থেকে আমন্ত্রিত অতিথিদের সাদা এবং সংবর্ধিত অতিথিদের রঙিন উত্তরিয় দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেয়া হয়। তারপর জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশিত হয়, এছাড়া স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মদানকারী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরনে ১মিনিট নিরবতা পান করা হয়। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ওয়ার্ল্ড পীস্’র সাধারণ সম্পাদক (ভাঃপ্রাঃ) রবী নাথ, অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন এশিয়ান ছিন্নমুল মানবাধিকার ফাউন্ডেশন, রাঙামাটির সভাপতি মোঃ কমরুদ্দিন, ইয়াগো রাঙামাটির প্রতিষ্ঠাতা দীপন ঘোষ, ওমেন রাঙামাটি নেত্রী, নব নির্বাচিত কাউন্সিলরদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কাউন্সিলর কালায়ন চাকমা, মোঃ জামাল উদ্দিন, পুলক দে, বাচিং মার্মা, সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলার জোবায়তুন নাহার, নতুন যারা নির্বাচিত কাউন্সিলর তাদের মধ্যে নুর নবী ও জোসনা বেগম।
সংগঠনের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন সোসাইটির অতিরিক্ত সম্পাদক সুফিয়া কামাল ঝিমি, সাংঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম প্রমুখ। অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথিবৃন্দদের বক্তব্যের পূর্বে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সংবর্ধিত অতিথিদের হাতে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন স্মারক তুলে দেন।
