শংকর হোড়, ইয়াছিন রানা সোহেল ও আরমান খান ॥
পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নের প্রতি প্রধানমন্ত্রী আন্তরিক। তাই তো ৯৬ সালে সরকার গঠন করেই মাত্র এক বছরের মধ্যেই পার্বত্য শান্তিচুক্তির মাধ্যমে এই অঞ্চলের দীর্ঘদিনের যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ তার অবসান ঘটিয়েছেন। চুক্তির পর পাহাড়ের প্রতিটি অঞ্চলে উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কালভার্ট, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নির্মাণ কাজ চলছে। এমন অবকাঠামোগত উন্নয়ন আগের কোনও সরকারের আমলে হয়নি। তিনি প্রতিটি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়ার যে ওয়াদা করেছিলেন, তা তিনি পালন করে যাচ্ছেন। পার্বত্যাঞ্চলে যেসব দুর্গম জায়গায় বিদ্যুৎ সেবা পৌঁছানো যাচ্ছে না, সেখানে তিনি সোলারের মাধ্যমে পাহাড় আলোকিত করেছেন। দুর্গম এলাকার প্রতিটি ঘর আলোকিত হচ্ছে। এই উন্নয়ন যজ্ঞে কোনও অঞ্চল বাদ যাবে না বলে উন্নয়ন বোর্ড চেয়ারম্যান মন্তব্য করেন। তিনি সোমবার লংগদু উপজেলার কালাপাকুজ্যা ইউনিয়নে বিনামূল্যে সোলার সিস্টেম বিতরণকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড বাস্তবায়নাধীন ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত এলাকায় সোলার প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রকল্প- ২য় পর্যায়’ শীর্র্ষক প্রকল্পের আওতায় দুর্গম কালাপাকুজ্যা এলাকায় ছয়শ পরিবারের মাঝে সোলার সিস্টেম বিতরণ করা হয়।
কালাপাকুজ্যা ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় লংগদু উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল বারেক সরকারের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন সোলার হোম সিস্টেম প্রকল্পের পরিচালক (উপ-সচিব) হারুনুর রশিদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য হাজী কামাল উদ্দিন, লংগদু উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আকিব ওসমান, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মীর সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, কালাপাকুজ্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বারেক দেওয়ান, যুবলীগ নেতা শাহ নজরুল ইসলাম, ছাত্রলীগ নেতা ইদ্রিস হোসাইন। এতে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী তুষিত চাকমা, লংগদু থানার ইনচার্জ মোহাম্মদ ইকবাল উদ্দিনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে নিখিল কুমার চাকমা আরো বলেন, এই সোলার হোম সিস্টেম সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে। এগুলো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার। কেউ যদি প্রতারণা করে অর্থ আদায় করে অথবা সোলারের বিনিময়ে অর্থ দাবি করে তাহলে আমাদের জানাবেন। আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেব।
উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানায়, রাঙামাটিতে ২য় পর্যায়ে ১৩ হাজার পরিবারের মাঝে এই সোলার সিস্টেম বিতরণ করা হচ্ছে। সোলার বিতরণের পর উন্নয়ন বোর্ড চেয়ারম্যান রশিদপুর জামে মসজিদের নির্মাণ কাজের ভিত্তি স্থাপন করেন।
