খাগড়াছড়ির দীঘিনালা ডিগ্রি কলেজে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে শিক্ষার্থীদের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে কলেজ ক্যাম্পাস থেকে শুরু করে আশপাশে উত্তেজনা ছড়িয়ে পরলে পুলিশ ও সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করে। এ ঘটনায় চারদিন কলেজের ক্লাশ বন্ধ ঘোষনা করেছে কতৃপক্ষ। এছাড়া সাম্প্রদায়িকতা এড়ানো এবং ঘটনার রহস্য উদঘাটনে মঙ্গলবার পরিচালনা কমিটি, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠক করার কথা জানিয়েছে কলেজ কতৃপক্ষ।
সোমবার কলেজে সংঘর্ষের ঘটনায় পাহাড়ি ও বাঙ্গালী উভয় সম্প্রদায়ের কমপক্ষে ১২জন আহত হয়েছেন। এরা সকলেই কলেজের শিক্ষার্থী। আহতদের মধ্যে ৫জনকে উপজেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে বিধান চাকমা (২০) বেশি আহত হয়েছে; তাঁর মাথা ফেটে যাওয়ার কারণে ৪টি সেলাই করতে হয়েছে। তবে ঘটনার জন্য পাহাড়ি ও বাঙ্গালী ছাত্ররা একে অপরকে দোষারোপ করছে। সংঘর্ষে আহতরা হলেন, জাহিদ হাসান (২৫), সাইদুল ইসলাম (২০), ফরহাদ (২০), রাসেল (২০), জেনিথ চাকমা (২০) এবং বিধান চাকমা (২০)।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, দুই ছাত্রের মাঝে শরীরে ধাক্কা লাগার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের ঘটনা। যা এক পর্যায়ে পাহাড়ি-বাঙ্গালীতে রুপ নিয়ে দুই সম্প্রদায়ের সংঘর্ষে সৃষ্টি হয়। এসময় ছাত্রলীগ ও ছাত্রদল একত্রিত হয়ে পাহাড়ি ছাত্রদের সাথে সংঘর্ষে জড়ায়। অবশ্য তুচ্ছ ঘটনাকে সাম্প্রদায়ীক সংঘর্ষে রুপ দেওয়ার জন্য পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের পক্ষ্য থেকে ছাত্রদলকে দায়ী করেছেন। পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ কলেজ শাখার সভাপতি জেনিথ চাকমা বলেন, ‘ছাত্রদলের কৌশলের শিকার হয়েছে ছাত্রলীগ।’ অপরদিকে পুরো ঘটনার জন্য পাহাড়ি ছাত্র পরিষদকে দায়ী করেছে ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগ কলেজ শাখার সভাপতি রবিউল ইসলাম বলেন, ‘পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কর্মীরা অন্যায়ভাবে ছাত্রলীগ কর্মীসহ বাঙ্গালী ছাত্রদের ওপর হামলা করার কারণেই এত বড় ঘটনা হয়েছে।’
রবিউল ইসলাম জানান, মৃনালকান্তি চাকমা পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সাথে জড়িত। অনিচ্ছাকৃতভাবে মৃনালের শরীরের সাথে ধাক্কা লাগে ছাত্রলীগকর্মী ইব্রাহিমের। শিক্ষাবর্ষ অনুযায়ি মৃনাল সিনিয়র এবং ইব্রাহিম জুনিয়র। তাই মৃনাল ক্ষিপ্ত হয়ে ইব্রাহিমকে চড় থাপ্পর মারেন। এর প্রতিবাদ করতে গেলে অন্যদের ওপরেও আক্রমন করে। এর পর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
অপরদিকে জেনিথ চাকমা জানান, শরীরে সাথে ধাক্কা লাগার ঘটনাটি পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ এবং ছাত্রলীগ মিলেই সমাধান করা হয়। এর ১৫-২০ মিনিট পরে ছাত্রদল সভাপতি জাহিদ ও ছাত্রলীগ সভাপতি রবিউল কিছু ছাত্র নিয়ে শ্লোগান দিয়ে পাহাড়ি ছাত্রদের ওপর হামলা চালালে ক্যাম্পাশের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের বাহিরে চলে যায়। এসময় ছাত্রদল ও ছাত্রলীগের সাথে বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের ছেলেরা ছিল বলেও দাবী করেন জেনিথ।
পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাজ্যময় চাকমা বলেন, ‘ছাত্রদের মধ্যে সমস্যা হতে পারে। কিন্তু এমন তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যারা সাম্প্রদায়ীক সংঘাত সৃষ্টি করে তাদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনা প্রয়োজন। সে যে সম্প্রদায়ের হোকনা কেন তাকে ছাড় দিলে সম্প্রীতি বিনষ্ট হবে।’
ছাত্রলীগ দীঘিনালা উপজেলা শাখার সভাপতি মো. মাহবুব আলম বলেন, ‘ছাত্রলীগকর্মীদের ওপর হামলাকারীদের বিচার দাবি করছি। আর ছাত্রলীগ যেন কখনো সাম্প্রদায়ীকতায় না জড়ায় এবং কলেজে কখনো সংঘর্ষে না জড়ায় সে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।’
দীঘিনালা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সামসুদ্দিন ভূইয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, কলেজ কতৃপক্ষের অনুরোধে সেনাবাহিনীর সহযোগীতা নিয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করতে পেরেছে।
দীঘিনালা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যক্ষ তরুন কান্তি চাকমা জানান, দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াসহ পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে মঙ্গলবার বৈঠক ডাকা হয়েছে। এবং কলেজের ক্লাশ বন্ধ রাখার বিষয়টি নোটিশ দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, তবে পরীক্ষা চলমান থাকবে।
১ Comment
Bangali naki mar kayse