গত কয়েক দিন ধরে টানা বৃষ্টিতে বাড়ে নদ নদীর পানি। সবার ধারণা ছিল যদি বন্যা হয় তবে জেলার নীচু এলাকাগুলো প্লাবিত হবে। কিন্তু সোমবার রাত সাড়ে ১১টার পর থেকে বদলে যায় দৃশ্যপট।
টানা চারদিনের অবিরাম বর্ষন ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চেঙ্গী ও মাইনী নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রভাবিত হতে থাকে। এতে তাৎক্ষনিক নদী সংলগ্ন গঞ্জপাড়া, শান্তিনগর, মুসলীম পাড়া, বটতলী, কালাডেবা, শব্দ মিয়া পাড়াসহ আশপাশের এলাকা প্লাবিত হয়।
ঘন্টাখানেকের ব্যবধানে পানি উঠে খাগড়াছড়ির প্রাণ কেন্দ্রের শাপলা চত্বর, ভাঙ্গাব্রীজ, মাষ্টারপাড়া এলাকাসহ আরো বিভিন্ন গ্রাম। গভীর রাতে ঘরবাড়ি প্লাবিত হওয়ায় তাৎক্ষনিক ঘরবাড়ির জিনিসপত্র গোছাতে পারেনি বন্যার্তরা। এছাড়াও দীঘিনালা, মহালছড়ি, মানিকছড়ি, রামগড়সহ অন্য উপজেলাগুলোতেও বিস্তির্ন এলাকার মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়ে। এতে বহু কাঁচাঘর, জমি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। জেলাজুড়ে পানি বন্দি হয়ে পরেছে হাজার হাজার পরিবার। তবে আস্তে আস্তে পানি কমলেও বৃষ্টি থাকায় আতংকিত স্থানীয়রা।
সর্বশেষ ২০০৭ সালে এমন বন্যার মুখোমুখি হয়েছিল পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির মানুষ। তবে অনেকে বলছেন এবারের বন্যা ২০০৭ সালের বন্যাকে ছাড়িয়ে গেছে। সবাই বলছেন এটি খাগড়াছড়ির স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা।
এদিকে জেলা প্রশাসন ও পৌর প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিতে বসবাসরতদের নিরাপদে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে শহরে মাইকিং করা হয়। খোলা হয় ৮টি আশ্রয় কেন্দ্র। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাড়ে ৩শ পরিবার আশ্রয় কেন্দ্রে রয়েছেন।
এদিকে সকাল থেকে বন্যা কবলিত এলাকায় উদ্ধার অভিযান চালিয়েছে যুব রেড ক্রিসেন্ট ইউনিট, খাগড়াছড়ি ব্লাড ডোনার্স এসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।
দীঘিনালায় মাইনী নদীতে বিপদসীমার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। পাহাড়ি ঢল ও প্রবল বর্ষণের কারণে উপজেলার ছোটমেরুং এলাকা পানিতে প্লাবিত হয়েছে। ছোটমেরুং বাজারটিও ডুবে গেছে। এছাড়াও সড়কে পানি উঠায় দীঘিনালা-মেরুং-লংগদু সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
পাহাড়ি ঢলের কারণে খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি-ফেনি-ঢাকা সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি উঠায় যানবাহন চলাচল ব্যহত হয়। দুপুরের দিকে ঢাকা ও ফেনির গাড়ি ছেড়ে গেলেও বিকাল পর্যন্ত চট্টগ্রামের কোন গাড়ি ছেড়ে যায়নি। খাগড়াছড়ি-রাঙ্গামাটি সড়ক যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন রয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় ধসে পড়েছে।
বন্যার্তদের দেখতে ছুটে যান শরনার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্স এর চেয়ারম্যান কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি। তিনি গোলাবাড়ি এলাকা, শিশু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নেয়া বন্যার্তদের খোঁজ খবর নেন। এসময় খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো: রাশেদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার আলী আহমদ খানসহ অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তা ও আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ সাথে ছিলেন।
খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মোঃ রাশেদুল ইসলাম জানান, প্রশাসন যে কোন ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত রয়েছে। আমরা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় থাকা মানুষগুলো সরে যেতে বলছি।

১ Comment
সদরেও বন্যা হয়েছে!!!!